Posts

সন্তাপ ০২

০৯.০৭.১২ প্রথম ঘন্টায় হিসেবে মিলেছে গত ঘন্টার কণ্ঠস্বর দ্বিতীয় দিনে বলেছি গতকাল, এভাবে প্রতিদিন পূর্ববর্তি দিনকে টেনে এনেছি … অষ্টম দিবসে এসে আর 'গত' বলতে পারি না বলতে হয় গত বৃহস্পতির আগের বৃহস্পতিবার! হায়, এত দ্রুত তুমি দুরে সরে যাও হায়, এত দ্রুত তুমি স্মৃতি হও! শূন্যতা কল লিস্ট থেকে তোমর নামটা উধাও শেষবার দেখেছি ১৩৪ টা মিস্ড কল ৩২ টা কল আর ডায়াল লিস্টে কিছুই নেই! হু, কিছুই নেই, আমি তোমাকে ফোন করিনি ইদানিংকালে, কোনদিনই না মনে হয়, ঘন্টায় ঘন্টায় উল্টোদিক থেকে কথা বলা হলে এপাশ থেকে কি সেরকম টান থাকে? থাকে না বোধয় ১৩৪ টা মিস্ড কল মানে কমপক্ষে তিরিশটা সকাল, বিশটা দুরের যাত্রা, কমপক্ষে বিশবার তোমাকে উপেক্ষা! সবকিছু মনে পড়ে না, মনে পড়বে না। শুধু শেষবার, জীবনের শেষবার, চলে যাবার ঠিক আগে আগে একেবারে স্বাভাবিক কণ্ঠে যখন বল্লে, ‘শরীরটা খারাপ লাগছে একটু আয়,’ এই কথাটা ভুলবো না। কল লিস্ট থেকে তোমার নাম মুছে গেছে, আরো অনেক লিস্ট থেকে কাটা পড়বে তোমার নাম, শুধু খুব গোপনে গভীরে আমার কানে বাজবে, শরীরটা খারাপ লাগছে, খারাপ লাগছে, খারাপ লাগছে… কি অপার...

ইজা...

বাবার শরীরে একটা ঘ্রাণ ছিলো। ঘাম জমে জমে সম্ভবত ঘ্রাণটা তৈরি হতো। মায়া মায়া একটা ঘ্রাণ। বাবার কাপড় চোপড়ে সেই ঘ্রাণ। বাবার বিছানায় সেই ঘ্রাণ... আর কেউ সেই ঘ্রাণ পেতো কী না জানি না। আমি পেতাম। বাবার গামছায় লেগে থাকা ঘ্রাণ নিতে রোজ সকালে আমি মুখ ধুয়ে তার রুমে ঢুকতাম। বাবা সম্ভবত সেটা জানতেন। ভোরে ওঠা ছিলো বাবার অভ্যাস। ওজু পড়ে গামছায় হাত মুখ মুছে আলনার একটা পাশে সেটা মেলে দিতেন। আমি সেই গামছায় মুখ মুছতে মুছতে বাবার সাথে কথা বলতাম। গুরুত্বহীন আলাপ সেসব। আমি আলাপের আড়ালে ঘ্রাণ গিলতাম। বাবার ঘ্রাণ...

অপার্থিব জানালার খোঁজে

তখন আমাদের কেরানির জীবন। বাবা পোস্টমাস্টার। কিন্তু আদতে সেটা কেরানিরই চাকরী। ভাই ঢাকায় একটা হাউজিং কোম্পানিতে জুনিয়র এক্সিকিউটিভ। আজকাল সব অফিসে সবাই এক্সিকিউটিভ হয়। গালভরা নাম সব। আদতে সবাই কেরানি। আমি নতুন চাকরীতে। পত্রিকার ডেস্কে বসি, তাও এক ধরনের কেরানিরই কাজ। বাপ ছেলে তিনজন যখন কেরানিরই চাকরী করি তখন সেটারে কেরনির জীবন বলাটাই উচিত। আব্বা শহর থেকে ১৫/১৬ কি. মি. দুরের একটা ছোট্ট পোস্ট অফিসে কাজ করেন তখন। চাকরীর শেষ ১৫ টা বছর তিনি শহরেই ছিলেন বেশিরভাগ সময়। মাঝখানে কিছুদিন বাইরের ছোট ছোট দুটি অফিসে কিছুদিন ছিলেন। বড় অফিসে যেতে চাইতেন না। কাজের চাপে হাপিয়ে উঠতেন। শহরের সবচে কাছের দুই ছোট অফিসে তাই থাকা। ছোট্ট একটা বাজারের অফিস। টিনশেড একটা বাড়ি। সাকুল্যে তিন জন স্টাফ সেখানে। অফিসের সামনের দিকটায় পাকা সড়ক। আর পেছনে রেল লাইন। সিলেটে আসা কিংবা সিলেট থেকে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনগুলো যখন ঝম ঝম শব্দে পাড়ি দিতো সেই বাজার, পুরনো বাড়িটা তখন যেনো কেঁপে উঠতো। আব্বা অফিস ছাড়া কিছু বুঝতেন না। ঝড়-বাদল, হরতাল কিছুই তাকে আটকে রাখতে পারতো না। চাকরী জীবনের বেশিরভাগ সময় বাড়ি আর অ...