Monday, May 5, 2008

পথ চলতি গল্প আর আমি অথবা আমার পথচলা


তবে কি বদলে যাচ্ছি? ভাব ধরা সময়টা পার হতে পেরেছি? মাঝে মাঝে মনে হয়, হ্যা বদল ঘটছে, মাঝে মাঝে মনে হয়, না, হচ্ছেনা।


গত সপ্তায় একটা বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গেলাম। শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো। আব্দুল আজিজ এর 'কালের যাত্রার ধ্বনি' গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান। স্মৃতিচারণ মূলক গ্রন্থ। স্যারের দীর্ঘ জীবনের নানা স্মৃতি উঠে এসেছে পারিপার্শ্বিকতাসহ। প্রায় ছয় মাস পরে এমন একটা অনুষ্ঠানে গেলাম যেখানে আমার সাবেক সহকর্মীরা আছেন। বুদ্ধিবৃত্তিক অনুষ্ঠানগুলো সচেতন ভাবেই বর্জন করছিলাম বেশ কয়েক মাস। তবু গেলাম। তুলির প্রচন্ড আগ্রহ, সাথে নিজেরও কিছু টান ছিল। এই গ্রন্থ শুরু হয়েছিল পত্রিকার পাতায়। আমি সেইসময় সেই পত্রিকার এইসব লেখালেখির বিভাগটা দেখতাম। টুকরো টুকরো লেখা জমে মলাটের ভেতর ঢুকেছে! আরামদায়ক বটে।


অনুষ্ঠানে সীমিত মানুষের উপস্থিতি। আয়োজকরা সবার নাম ঠিকানা লিখে নিচ্ছিলেন। আমার সামনে যখন স্বাক্ষরের কাগজটা এলো, পেশা লিখতে গিয়ে লিখলাম 'ব্যবসা'! আমার হাতটা কি একটু কাঁপলো? বুকের ভেতর কি টান পড়লো? এভাবে কি পরিচয় বদলে ফেলা যায়। রাস্ট্র কি এভাবেই নিয়ন্ত্রন করে মানুষের পছন্দ, জীবনের সরল রেখা?


২.

হিমন ছবি আঁকে। আমার বন্ধু শাহ আলমের ছাত্র। আরেক ছোটভাই ওসমান এর ভাই। সজল ছত্রী লিখে কবিতা। এরা এখন দিনমান ঘিরে রাখে আমাকে। তাদের স্বপ্ন গিলে খাই রোজ আমি।


দিনে চোদ্দহাজার বার ইলেকট্রিসিটি যায়। ভ্যাপসা গরমে রুমে বসা দায়। আমি তখন রাস্তায় হাটি। সাথে থাকে হিমন নয়ত সজল নয়ত তারা দুজনেই। আরও অনেকেই। এদের সাথে কোন কালেই সেভাবে কথা হয়নি। দেখা হতো মাঝে মাঝে, সালাম পেতাম। মাথা ঝুঁকিয়ে সাড়া দিতাম, কথা বলেছি হয়ত মাঝে মাঝে। আর এখন এই পাগলেরাই আমাকে ঘিরে রাখে। মনটা মৃত হতে হতে হয়না সজিব এই যুবকদের জন্য।


শহর সিলেটকে আমি আমার হাতের তালুর মত চিনি। রাস্তায় রাস্তায় হেঁটেছি, মোটর সাইকেল দাবড়িয়েছি অনেক বছর। একটা সময় আমার 'কমিন্দির' চোটে পরিচিতরা রাস্তায় পেলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। মুখে মুখে কাতুকুতু দেয়া আর খোঁচা দিয়ে কথা বলা ছিল অভ্যাস। রিক্সায় বসা কাউকে দেখলে মাঝে সাঝে চিৎকার দেয়া হতো। এসবই ভুলে গিয়েছিলাম...

৩.
জিন্দাবাজারে দাতের মাজন বিক্রি করে হেঁটে হেঁটে এক লোক। দশ বছর কিংবা তারও বছর দু এক আগের অপু জেগে উঠে। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়ায়। মাজনের দিকে সরু চোখে তাকায়। বিক্রেতা উৎসাহে মাজনের গুনাগুন শোনায়। বলে, দাতের সব দাগ মুছে দেবে, নিয়ে যান ভাই নিয়ে যান... অপু বিতলামি এক ভঙি করে দু পাটি দাত মেলে ধরে... সজল, হিমন হেসে উঠে হা...হা...হা... মাজনওয়ালাও হাসে। আগে, সজলের দশ বছর আগে হাসতো জাকির কিংবা রিয়াদ...


৪.
আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। ৯৭ সালে মনে হয় প্রথম হয়েছিল। কুমারপাড়াবাসী আমাদের এক বান্ধবীর প্রেমে পড়ল এক বালক। বেচারা রোজ একবার করে আমাদের মেলায় ঢোকায়। টিকিটের কাটা অংশটাও দিয়ে দেয় লটারির জন্য। চটপটি খাওয়ায় আর বলে ইয়াসমিন আসবেনা অপু? আমি বলি রাজুরে ধর। সে রাজুর কাছে যায়। রাজু আশ্বাস দেয় আসবে আসবে। কিন্তু কি গরম পড়েছে দেখছ... সে দৌড়ে যায় আইসক্রিমের দোকানে...
মেলা শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ হয়ে গেল। টান পাইনা মনে। রোজ সকাল বিকেল মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়া আসা করি, মেলায় ঢোকা হয়না... বুড়া হয়ে গেলাম তবে?


না বুড়া হইনি। আজকে দুপুরে রাস্তায় হাটতে হাটতে আমি আচমকা গেয়ে উঠেছি, রূপভানে নাচে কোমর দুলাইয়া... হা...হা...হা... হিমন আমারে বলে অপু ভাই আপনে মিয়া বদ আছেন, আমাদের বলেন ফাউল আর আপনে এখন বেটির গান ধরেন!!! আমি হাসি, ঠা ঠা মারা হাসি... অনেক দিন এমন করে হাসতে পারিনা। আগে রোজ হাসতাম, হাসাতাম তারও বেশি।


আজ (৫ মে) শাহ আলম এর জন্মদিন ছিল। দু সপ্তা পর বিয়ে বার্ষিকী তারও দুদিন পর

মৃত্যু... এই লেখাটা তারে দিলাম।

3 comments:

  1. আমিও যেন খানিকটা ঘুরে এলাম সিলেটে। কতকাল যে যাই না। ভাবলেই মন খারাপ হয়ে যায়। ইচ্ছে হলেই যদি করে ফেলা যেত যা খুশি তাই..

    ReplyDelete
  2. ধন্যবাদ শ্যাজাদি। আপনি আছেন কেমন? সিলেট আসবেন না?

    ReplyDelete
  3. সিলেট আমি একাধিকবার গিয়েছি। তারপরও বারবার যেতে ইচ্ছে করে। কি আছে সিলেটে? শুধু কি দ্রষ্টব্য স্থানগুলি, পাহাড়, চা বাগান নাকি অন্যকিছু? এত ভাল লাগে কেন? আপনার লেখা পড়ে আরেকবার সিলেট ভ্রমণ করলাম।

    ReplyDelete