Thursday, December 6, 2007

আজ পিকনিক হল, ধন্যবাদ হে মহামান্য...

মাননীয় রাস্ট্রপতি আজ আপনি এসেছেন আমার পাশের ঘরে। পাশের ঘর মানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখানে আজ সমাবর্তন। সনদ বিতরনের অনুষ্ঠানে আপনি দেশ উদ্ধারের নানা কথা বল্লেন নিশ্চয়। সাথে এও নিশ্চয় বলেছেন রাজনীতি করাটা খুব খারাপ। বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনীতি করলে জেলে যেতে হবে। যদিও আপনি এই ধারার এক মহান পুরুষ ছিলেন বলে শুনেছি। সে যাই হোক, আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের এক গরিব এবং পশ্চাদপদ গ্রামের বাসিন্দা।

আপনি আসবেন বলে আজ সকাল থেকেই আমাদের একমাত্র রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। সকালে নিম্ন আয়ের মানুষগুলো যখন শহরে যাবে বলে বেরিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের লাগোয়া সড়কে যেতেই তাদেরকে আটকে দেয়া হয়েছে। সঙ্গিন উচিয়ে আপনার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রীরা বলেছে রাস্তা বন্ধ!

আমি ছাপোসা প্রেস ব্যবসায়ী। মানুষের এটা সেটা ছাপিয়ে জীবন ধারন করি। আমি জানতামনা আপনি আসবেন বলে রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়া হবে।। আমাকে কেউ বলেনি এ কথা। এটা হয়ত আমারই দোষ। এটা জেনে নেয়া উচিৎ ছিল আমার। আমি শহরে যেতে পারিনি। আমার ৯বাই৯ ফিটের অফিসটা আজ খোলা হলনা। এক স্কুলওয়ালা তার প্রসপেক্টাস ছাপাবেন বলে আজ আসবেন বলেছিলেন। আমি যেতে পারিনি বলে তার কাজটা করতে পারলামনা। মোবাইল ফোনে তাকে সমস্যাটার কথা বলেছিলাম। তার কণ্ঠ শুনে মনে হলনা তিনি আমার জন্য অপেক্ষা করবেন। কাজটা করলে আমি কয়েকশ টাকা পেতাম মাননীয় রাস্ট্রপতি। কিন্তু আপনার নিরাপত্তা বিঘ্নিত হবে এমন কাজতো আমি করতে পারিনা। তাই ঘর থেকে বেরিয়েও নিরাপত্তা বেস্টনি পর্যন্ত গিয়ে মাথা নিচু করে ফিরে আসতে হয়েছে।

আজকে ভোটার তালিকার জন্য এই গ্রামের মানুষের ছবি তোলার কথা ছিল। যাদের বয়েসটা খুব বেশিনা তারা অনেক রাস্তা ঘুরে পাহাড় ডিঙ্গিয়ে ছবি তুলতে গিয়েছে। আমার মা-বাবা কেউ যেতে পারেননি। এজন্য তারা আপনাকে কিছু বলেনি মাননীয়, তারা তাদের বয়েসকে দোষ দিয়েছেন। বলেছেন বয়েসটা কম হলে তারাও যেতে পারত জোড়া পাহাড় ডিঙ্গিয়ে...
আমার ছেলেটা অসুস্থ। তার প্রস্রাবের সমস্যা। তিন বছর হয়নি এখনও। তবু খাতনা করাতে হয়েছে। সকাল থেকে সে জুস খাবে বায়না ধরেছে। তার জন্য জুস আনতে পারিনি আমি। আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আমার অসুস্থ ছেলের জুস খাওয়ার বায়না আমি মেটাতে পারলামনা।
এতকিছুর পরও আমরা আজ ঘরে হাফ পিকনিক করে কাটালাম! আপনি এলেন বলেইতো আজ আমার বউ অফিসে গেলনা। আমি গেলামনা। দাদাভাই গেলনা! বেশ একটা ছুটি ছুটি ভাব। কিন্তু এরশাদ চাচার দিনটা খুব বাজে গেল। আজ তিনি কাজে যেতে পারেননি। বেচারা। দশজন মানুষের সংসার।

Monday, November 19, 2007

কষ্ট জমাট বুকের ভেতর

২০০৪ সালের এপ্রিলে শেষ দিন। ইখতিয়ার ভাই ফোন দিলেন। তিনি সিলেটে এসেছেন। দেখা করার জন্য বল্লেন। এক ঘন্টার নোটিশ। দ্রুত গেলাম। রাজা ম্যানশনে ভোরের কাগজের অফিস। সেখানে গিয়ে দেখি সঞ্জিবদা। সাথে অন্য আরেকজন। ইখতিয়ার ভাই পরিচয় করিয়ে দিলেন, আমিনুল এহসান, ডেমোক্রেসিওয়াচের মানুষ। দাদা’র সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাইলে বল্লেন, তারেত আমি চিনি, আমরার আরিফ’র ভাই নায়নি? তুমি আইলায় কোনদিনবা? আগের সপ্তাহেই মাসিক একটা পত্রিকার কাজের জন্য ঢাকা গিয়েছিলাম। শ্যামলদা’র সাইবার ক্যাফেতে দেখা হয়েছে। সাথে আরিফ ভাই ছিল। দাদা মিলিয়ে নিয়েছিলেন।

এর আগেও অনেকবার দেখা হয়েছে। ঢাকায়, সিলেটে। প্রথম পরিচয় প্রিয় প্রান্তিকে। স্বপনের চায়ের দোকানে। শেষ দেখাটা কবে হল এখন আর মনে পড়ছেনা। তবে বছর দেড়েক হবে এটা নিশ্চিত। তখন আমাদের সময়-এ কাজ করি। বলেছিলেন, ইন থাকি কিতা ওইব? নাইম ভাইয়ে টেকা দিতনায় জীবনে। এমনি আন্তরিক ছিলেন সঞ্জিবদা। অল্প পরিচিত এক তরুনকে নিয়েও তিনি ভাবতেন। গতবার সিলেটে একটা অনুষ্ঠানে হানিফ সংকেতকে আনার চেস্টা করেছিল আমার ভাই। সঞ্জিবদা শত ব্যাস্ততার মাঝেও সময় দিয়েছিলেন তাকে। হানিফ সংকেতের সাথে যোগাযোগ করিয়ে দিয়েছিলেন। এসবি আমার একান্ত ব্যাক্তিগত কথামালা। কিন্তু আমার মত আরও অনেক তরুনের সাথে মিলিয়ে নিলে দেখা যাবে সঞ্জিবদার কাছে যারাই যেতে পেরেছিল তারাই পেয়েছে এমন ছায়া আর স্নেহ।

সেই এপ্রিলের কথাই আজ বারবার মনে পড়ছে। দুদিন মনে হয় ছিলেন সেবার। যেদিন সকালের কথা বল্লাম সেই সকালেই তিনি অসুস্থ হয়েছিলেন। মির্জাজাঙ্গাল পয়েন্টের কাছে হঠাৎ করেই প্রচণ্ড ব্যাথায় কুকড়ে উঠেন। ধনুকের মত বাঁকা হয়ে যান। পাশেরই একটি ফার্মেসিতে বসায় সঙ্গে থাকা একজন। এই মুহূর্তে নামটা ঠিক মনে পড়ছেনা। সম্ভবত ভোরের কাগজের সিলেট প্রতিনিধি বিনায়ক শুভ’র ভাই ছিল। সে ফোন করে ইখতিয়ার ভাইকে। আমরা তখনও রাজা ম্যানশনে। সবাই দৌড়ে গেলাম। একটা বেবিটেক্সি ডেকে তাকে তোলা হল সেখানে। কিন্তু হাসপাতালে যাওয়া হবে শুনে দাদা’র তীব্র প্রতিবাদ। তবু নিয়ে যাওয়া হল। ওসমানী হাসপাতালের ডাক্তাররা দেখেই ভর্তি করে নিলেন। দাদার সেকি রাগ। তবু কয়েক ঘন্টা রাখা হয়েছিল। দুপুরের পরেই নিজ দায়িত্বে হাটেলে চলে এলেন। ডাক্তাররা বার বার অনুরোধ করলেন একটা দিন অন্তত থাকার জন্য। কে শুনে কার কথা।পরদিন সকালে গেলাম দেখা করার জন্য। বসতে বলেই শুরু করলেন তার বয়ান, দেখতো কালকে এরা একটা কাজ করল? আমি বলি, কি দাদা? দাদা করুন গলায় বলেন, এইযে আমারে হাসপাতালে নিয়ে গেল। আমি কি বলব, তাকিয়ে থাকি তার মুখে। হঠাৎ করেই যেন তার মনে পড়ে আগের দিনের মুখ গুলো! রেগে গেলেন, আরে কালকেতো তুমিও ছিলে। ভাষা বদলে গেল- ‘মিয়া তোমরা খাইল ইতা কিতা খরলায়...’ ইত্যাদি, ইত্যাদি... ইখতিয়ার ভাই এসে আমাকে উদ্বার করেন...

হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে থাকা তরুন ডাক্তার বার বার বলছিলেন, দাদা একটু সাবধানে থাকবেন, রেস্ট নেবেন, আপনার শরিরটা বেশি ভালনা। সাড়ে তিন বছর আগের সেই কথাগুলো এখন খুব কানে বাজছে... দাদা একটু সাবধান হলে কি হত?

কানে বাজছে, গত সন্ধায় সেই রাজা ম্যানশনের সামনে দড়িয়ে তার এক চরম ভক্তের বলা কথাগুলো, অপু ভাই দেখবেন দাদা ঠিক ভাল হয়ে যাবেন... আবার গান গাইবেন... রুবেল তোর কথাটা সত্য হলনা কেনরে?


১৮ নভেম্বর ২০০৭। মধ্যরাত।

Thursday, November 15, 2007

লোকটা চাঁদকে বড় বেশি ভালবাসত...


সেটা আমার প্রথম সুনামগঞ্জ যাত্রা। বন্ধুরা মিলে গেলাম। বড়দের মাঝে ছিলেন নূর ভাই আর টুকু’দা। শহর সুনামগঞ্জে আমাদের দুঃসম্পর্কের কয়েকজন বন্ধু ছিল। যাদের কেউ কেউ এখন কাছের বন্ধু হয়ে গেছে।

সেদিন আমরা বসেছিলাম সুনামগঞ্জের পৌরসভা কার্যালয়ে। নির্দিষ্ট করে বল্লে পৌর চেয়ারম্যানের কক্ষে অবাক করার মত ঘটনা হতে পারত এটা। কারণ আমার বন্ধুরা কেউ রাজনৈতিক পান্ডা ছিলনা। ওরা ছিল কবিতার কামড়ে অস্থির তরুন-তরুনি। আর সেই শহরের চেয়ারম্যান ছিলেন মমিনুল মউজদীন। কবি পুরুষ। যিনি চাঁদের রাতে নিভিয়ে দিতেন শহর সড়কের সব বাতি। তাই চেয়ারম্যানের রুমে বসে সেদিন আড্ডা দেয়াটা স্বাভাবিক ছিল।কতবার নির্বাচিত হয়েছিলেন মউজদীন ভাই? তিনবার মনে হয়। হাছন রাজার প্রপৌত্র চাঁদকে যেমন ভালবাসতেন তেমনি ভালবাসতেন কবিতাকে আর অতিঅবশ্যই মানুষকে। আচ্ছা আমি এভাবে বাসতেন লিখছি কেন? হ্যা লিখছি, লিখতে হচ্ছে। কারণ মানুষটা আজ চলে গেছেন! চলে যেতে হয়েছে তাকে। স্বপরিবারে। জিবরান, মউজদীন ভাইয়ের ছেলে। কবির নামে নাম রেখেছিলেন, সেই জিবরানও চলে গেছে আর গেছেন মউজদীনের স্ত্রী। ঢাকা থেকে ফিরছিলেন। ব্্রাম্মন বাড়িয়ার কাছে সরাইলে ঘটেছে ঘটনাটা। বিপরিত থেকে আসা যাত্রিবাহী কোচের ধাক্কা।

জিব্রানকে আমি দেখেছি দশ বছর আগে। ১৯৯৭ সালে। শাহজালাল ইউনিভার্সিটিতে অনুষ্ঠিত বাউল উৎসবে। সে উৎসবে মউজদীন ভাইয়ের সাথে হাছন রাজা নামের বানান নিয়ে সেকি তুমূল তর্ক...। প্রথম পরিচয়েই ঝগড়া। দু’বছর পরে মনে হয় গিয়েছিলাম সুনামগঞ্জে। ফিরে এসে ছোট একটা লিখায় লিখেছিলাম, মউজদীন লেজেহুমু’র মত রাজনৈতিক ধান্দাবাজ কবি নয়। তিনি প্রকৃতই কবি। আমার এই স্বিকৃতি তারজন্য গগুরুত্বপূর্ন কিছু নয়। তবু তিনি খুশি হয়েছিলেন খুব। আমাকে চিনতে পারেননি। তবু নিজের লেখা একটা কবিতার বই আমার জন্য পাঠিয়েছিলেন। আমার এক বন্ধুর কাছে দেয়া সেই বইটা কোনদিনই পাইনি যদিও তবু দারুন এক আরামবোধ ছিল সেই বই প্রাপ্তির খবর।

বছরখানেক পর আবার দেখা হল। পুরনো তর্কের মানুষ আর ক্ষুদ্র সেই লিখিয়ে একি মানুষ মেলাতে পেরে দারুন খুশি হয়েছিলেন। এরপর আর তেমন যোগাযোগ নেই। মাঝখানে দুবার আমার পত্রিকার জন্য লেখা চেয়ে আলাপ হয়েছিল। এই যা।

গত কয়েকদিন ধরে আবারও যোগাযোগের একটা সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছিল। সুনামগঞ্জে বাউল উৎসব করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। যতদুর জানি তার পুরো প্রস্তুতিই সারা হয়ে গিয়েছে। এবারের ঢাকা যাত্রায় বড় ছেলেকে দেখার পাশাপাশি এই অনুষ্ঠানের অনেক কাজ করার কথা। তো উৱসবের খবর শুনেই ঠিক করেছিলাম যাব সেখানে। সহকর্মী সামস শামীম আমাকেও সম্পৃক্ত করার একটা ইশারা দিলেন। জানালেন, উৎসবের স্মরনিকাটা তিনি ছাপার দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন। তার সেই কাজে আমার সহযোগ দরকার। এই মূহুর্তে বেকার আমার জন্য এটা ছিল দারুন ব্যাপার... সেই দারুন ব্যপারটা মনে হয় আর ঘটলনা। মউজদীন ভাই চলে গেলেন। বড় অসময়ে, খুব বেশি অবাক করে দিয়ে... ভাল্লাগছেনা একেবারে। একবারেইনা...

Saturday, October 27, 2007

:: আলবাব'র সময় ::

সন্ধার অন্ধকার মিলিয়ে যেতেই নেমে আসে মিহি কুয়াশা।

রমনীর স্তনের মত জেগে উঠা জোড়া পাহাড়ের
ফাঁকে মুখ তুলে রুপালি থালা, চাঁদ বলি তারে।

কালো পিচের ওপর দিয়ে দ্রুত হেটে যায়
সন্ত্রস্ত শিয়াল, কু ডেকে উঠে অচেনা পাখি

কাটা পাহাড়ে চাঁদ আলো ফেলে,
লক লক করে উঠে নাগরিক
শকুনের লোলুপ জিহ্বা...

রাত নেমে আসে আধা গ্রাম
আধা শহর বড়গুলে, বাউল বাতাসহীন
এইসব সন্ধায় আলবাব আর আগের মত
আপ্লুত হয়না। নাটকের ঘর গুলোতো আগের মত
আর মহড়া জমেনা। এখন পাথরের হিসাব করে সবাই,
এখন সিমেন্ট আর ইটের ভালবাসা জমে উঠে, গাথুনি
শক্ত হয়। আমরা শুধু আলগা হয়ে যাই, ছড়িয়ে পড়ি।
দুরাগত তারাদের মত আমরা শুধু শুন্যতাকেই ধারন করি।

Sunday, October 21, 2007

:: বৃষ্টি মানেই প্রেমভাব নয় ::

প্রতিটি ভোর কুয়াশা মাখা কোমল হবে
তার কোন নিশ্চয়তা নেই। বৃষ্টি হলেই
প্রেমভাব জাগ্রত হতে হবে এমন কোন
সহি হাদিসও নেই কোথাও, কিংবা কোন
পাক কালামেও পাওয়া যায়নি এ
সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা...


এখন সময় হয়েছে গৃহী হবার, এখন তুমি পিতা।
যতটা সময় পেছনে ফেলে এলে তার যত দেনা
আছে এবার তার শোধবোধের পালা!

Wednesday, September 19, 2007

কতিপয় ইতিহাস আর বেকার হয়ে যাওয়া আমি

এই লেখাটা ঠিক বিন্যস্ত নয়। অগোছালো ভাবনা এবং মনের কথা...
এই মুহুর্তে আমি বেকার। হ্যা বেকার। কাজকাম নাই। ব্যবসাপাতি নাই। এই কিসিমের মানুষতো বেকার বলেই পরিচিত।
খুব কম বয়েসে আমি পেশাদার হয়েছি। আমার বন্ধুরা যখন নোট আর লেখাপড়ার কাজে ব্যাস্ত তখন আমি সিলেট শহরের প্রথম সারির বাজার জরিপকারী! আমার রোজ তখন ১৬০ টাকা! ১৯৯৪/৯৫ সালে এটা বিরাট অংকই ছিল। পেট্রলের লিটার তখন ১৪ টাকা মনে হয়। আমি চালাতাম হোন্ডা-৫০। তিন লিটারের টেঙ্কটা ভরলে শেষ হতে চাইতনা!
লেখালেখির একটা বাতিক ছিল তখন থেকেই। ৯৭/৯৮ এর দিকেই ঠিক করে ফেলেছি লাইনটা কোনদিকে যাবে।
২০০১ সালে হুট করেই সিলেটের একটা দৈনিক পত্রিকায় ঢুকে গেলাম। এবং মজে গেলাম। আজিব আজিব সব কান্ড কারখানার সাথে শুরু হল জীবন। কাজ করে অতৃপ্তি ভর করে। মুজাহিদ শরিফ বলে একজন ছিলেন। যিনি হাত ধরে ধরে শিখালেন পত্রিকার নানা গলি-উপ-গলি। তারসাথে বসেই আলাপ আর পরিকল্পনা। একটা নামের জন্ম হয় সিলেট প্রতিদিন।
নানা ভজঘট শেষে ২০০৪ এ বিয়ে। ২০০৫ এ সন্তানের জনক। এরিমাঝে টেলিভিশন, জাতীয় দৈনিকের সাধ নেয়া হয়ে যায়। মাথার চিন্তাটা আরও বিস্তার পেয়েছে। ২০০৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নূর ভাই ( আহমেদ নূর ) বল্লেন, এইবার একটা দৈনিক করে ফেলতে হবে। ঢাকার সম্পাদকরা আমাকে ( নূর ভাই ) আর কাজ দেবেনা...
মার্চ মাস থেকে শুরু হয় কাজ। সাথে যোগ দিলেন আমার এক টাকাওয়ালা আত্মিয় ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী। ডিক্লারেশন পাওয়া গেল মে ২০০৬ এ। অফিস সেটআপ দিতে দিতে জুলাই। আগস্টে ডামির কাজ। ঠিক হল নির্বাচনের সময়টায় বাজারে আসা হবে।
নির্বাচন আর হয়না। দেশ চলে অন্য এক অচেনা সড়কে। যে সড়কে আমরা কখনও হাটিনি। পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়ো করে বাজারে আশে সাদাকালো সাদামাটা আঞ্চলিক দৈনিক সিলেট প্রতিদিন
খারাপ চলছিলনা। যদিওবা টানা ভর্তুকি। তবু সাড়া পাচ্ছিলাম ভাল। আস্তে আস্তে বিজ্ঞাপনদাতাদের দেখা মিলছিল। আমারা প্রতিদিন ভাল ভাল খবর পাচ্ছিলাম সার্কুলেশন আর বিজ্ঞাপন বিভাগ থেকে।
এপ্রিল ৭, ২০০৭। রাত পৌনে দশটা। নূর ভাইকে অফিস থেকে তুলে নেয়া হল। বলা হল সূনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে... ৮ এপ্রিল রাত ১১টার পর যখন সিলেট কোতয়ালি থানায় জমা দেয়া হল ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজ আহমেদ নূরকে... আহত। আগের রাতে যে মানুষটা তিনতলার সিড়ি বেয়ে নেমে গেল, পরের রাতে সে আর হাটতে পারেনা! প দুটো ফুলে ঢোল।
খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলা শুরু হল আহমেদ নূর আর আমাদের। হালকা একটা সুখবর মিলে জুলাই মাসে। চাঁদাবাজির মামলায় বেকসুর খালাস পেয়ে যান। কিন্তু কোন এক আদ্দিকালে সরকারি চাকরি করার মামলায় আর ছাড়া মেলেনা!!!
সব কষ্ট মেনে নেয় প্রতিদিন এর প্রতিটি কর্মী। সেপ্টেম্বরের ৩ তারিখ নূর ভাই জামিনে বেরিয়ে আসেন। আহত বিদ্ধস্থ...

১৩ সেপ্টেম্বর আহমেদ নূর বরখাস্ত!

১৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের সব দৈনিকে সংবাদ আসে, দূর্নিতি দমন কমিশনের নির্দেশের প্রেক্ষিতে সিলেট প্রতিদিন সম্পাদক আহমেদ নূর'কে বরখাস্ত করা হয়েছে! একি খবর সিলেট প্রতিদিন এর প্রথম পাতায় বক্স আইটেম হিসাবে ছাপা হয়।

১৬ সেপ্টেম্বর রাত সোয়া দশটায় প্রকাশক ও সম্পাদক ড. তৌফিক রহমান চৌধুরী সিলেট প্রতিদিন এর কর্মীদের জানালেন, অর্থনৈতিক কারনে তিনি আর পত্রিকা চালাতে পারছেননা। সবার সব পাওনা ইদের আগেই বুঝিয়ে দেয়া হবে...

Saturday, August 25, 2007

সংসারি মানুষরা সব স্বার্থপর হয়। খুব খুব স্বার্থপর...

মঙ্গলবার সন্ধায় যখন ভাবি বলেন, তুলি চল ঢাকা থেকে ঘুরে আসি। আমি সামনে বসা। ভাবছি, আর মানুষ পায়নি... শেষ করতে পারিনি সেই ভাবনা, আমাকে অবাক করে রাজি হয়ে যায়! সে যাবে... এমনকি আমি যাব এই ঘোষনাটাও দিয়ে দেয়! প্রচণ্ড ঘরকুনো তুলির এই আচরনে বেশ মজাই পাই। জিজ্ঞেস করি, কিভাবে? ছুটি নিলেনা... আমারওতো ছুটি নিতে হবে। বেশ একটা ঝামটা খেলাম। তারটা সে সামলাবে। আমার যেহেতু ছুটি নাই তাই অফিসে এমন ব্যবস্থা করি যাতে ফোন দিয়ে কাজ সারা যায়!

সন্ধায় অফিসে চলে আসি। তাদের পরিকল্পনা আর আমার জানা হয়না। মধ্যরাতের আগে আগে ঘরে ফিরে দেখি ব্যাগ গোছানো শেষ। আমাকে জানানো হল, আমার কাপড়ও ঢোকানো হয়েছে সেই ব্যাগে! কি পাগলামি বলে উড়িয়ে দিতে চাই। মান অভিমানের গন্ধ পেয়ে কথা বাড়াইনা। আর খুব ভেতরে, মনের ভেতরে একটা লোভও হয়। কতদিন ছুটি কাটাইনা। এতদিনেও ছেলেটাকে নিয়ে কোথাও বেড়ানো হলনা।

বুধবার ভোরে ছেলে আমাকে ডাক দেয়, বাবা উঠ... আমরা ঢাকাত যাই... সেজ ভাইয়ায় গাড়ি আনছে... ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বলি, তুমি যাও বাবা। বিকালে আসব আমি। সে বায়না ধরে, না এখন... আমি তাকে মানাতে পারিনা। আম্মা আসেন। বলেন, দাদু চল আমরা যাই। বাবা বিকালে আসবে। ছেলে আমার কি বুঝে জানিনা। তবে আমাকে আর ডাকেনা।

বৃষ্টির মাঝে দাদার কোলে চড়ে মাইক্রোতে চড়ে বসে বাবাই। আম্মা তার দুই বউ আর দুই নাতি নিয়ে ঢাকা রওয়ানা দেন। দশটার দিকে অফিসে চলে আসি। ম্যানেজার সাহেবকে খবর দিই। এই সময়টায় উনি ঘুমে থাকেন। ভোরে পত্রিকা বাজরে দিয়ে ঘুমাতে যান। তবুও ডাকি। খবর পেয়ে দ্রুত আসেন। বলি স্বপন সাহেব আমার ছেলেটাতো ঢাকায় চলে গেছে। এবার আমাকে যেতে হবে। আপনি অফিসটা একটু সমঝে নেন। আমি মামাকে বলে যাব। ( মামা= ইকবাল সিদ্দিকী, আমাদের উপদেষ্টা সম্পাদক।) কথা বলতে বলতে টিভি ছাড়ি। সি এস বি নিউজে যাই। ওমা একি। ঢাকাযে রণত্রে। দ্রুত কম্পিউটার অন করেই বিডি নিউজ, ব্লগ সবকটা উইন্ডো খুলে দেই... সবখানে একি খবর। খবরের মানুষ। এসবে কখনই ঘাবড়াইনা। বরং একটা উল্লাসই খেলা করে মনের ভেতর বুঝিবা। নিউজের গন্ধে এমনটা মনেহয় অনেকেরই হয়। কিন্তু আজ কেমন ঘাবড়ে গেলাম। ফোন করি ভাবির ফোনে। তুলিকে এসব বলা ঠিক হবেনা। ঘাবড়ে যাবে। তারা তখন উজানভাটি পাড়ি দিচ্ছেন। জিমেইলে পিয়াল ভাই যেসব কথা বলেছিলেন সেটুকু পাচার করি। তাদেরকে টঙ্গি দিয়ে শহরে ঢুকার কথা বলি। যদিও সেই রাস্তাটা কতটা নিরাপদ সেটা জানিনা। তবু আন্দাজে ধরি। কারন খবরতো সব শহরের।

এরিমাঝে সিলেটের খবরও আসতে শুরু করেছে। শাবিতে মিছিল। আমি বেশি পাত্তা দিইনা। এমসি কলেজের খবরটা জরুরি। সিলেটে কিছু হলে সেখানেই হবে। মদনকেও হিসাবে ধরি। একটু পরেই খবর আসে। এমসি কলেজে মিছিল চলছে। কিন্তু র‌্যাব-৯ হেডকোয়ার্টার কলেজের খুব পাশে থাকায় ছাত্ররা বেশি সুবিধা করতে পারেনি। খুব দ্রুত তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। নিজের কাজগুলো খুব দ্রুত সামলে নিই। এই প্রথম পেশার প্রতি টানহীন হয়ে পড়ে নজমুল আলবাব... বার বার মনে হতে থাকে, আহা ছেলেটা এভাবে বল্ল, কেন গেলামনা সাথে। সেইতো বিকালে যাব, তবে কেন কয়েক ঘন্টা আগেই গেলামনা... মুহুর্ত যায়না আমি ফোন করি। এখন কোথায়? উত্তর শুনে মনে হয় মাইক্রোর ড্রাইভার হারামজাদাকে জোরে একটা থাপ্পড় দেয়া দরকার। সে এমন ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে চালায় কেন... ভাবি আমাকে শান্তনা দেন। নিশ্চিন্ত থাকতে বলেন। তুলি আমাকে আবারও অবাক করে বলে, আমি যেন চিন্তা না করে বিকালে বাসে উঠার ব্যবস্থা করি। আগে আগে টিকেট না কাটলে ভাল যায়গায় সিট পাবনা এটাও মনে করিয়ে দেয়।

ওরা ঠিক মতো দুপুরের পরেই মীরপুরে পৌছে যায়। ঘরে ঢুকেই আম্মা ফোন করেন। আর চিন্তা করনা।

ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকি। জরুরি কাজ গুলো স্বপন সাহেব বুঝে নেন। টিকিটের জন্য বাসের কাউন্টারে ফোনটাও তিনি করেন।


টিভি চলছে। খবর দেখছি... কেমন একটা দুলোনি টের পাই রক্তে... কিন্তু সেই দুলোনিটা বেশিন আমাতে স্থায়ি হয়না। কারন আমি জেনে যাই অনির্দিষ্টকালের কার্ফিউ জারি করেছেন ‘সরকার বাহাদুর’! আমি বুঝে যাই বাবাইটা আমার একাই কাটাবে ঢাকায় বন্দি জীবন। এবারও তুলির বেড়ানো হলনা... বিকাল পাচটার দিকে ফোন করি। দেখা যায়না তবে অনুভব করি তুলি কাদছে... তবে সে কান্নায় যতটানা কষ্ট তারচে অনেক বেশি ক্ষোভ... বাবাই আমায় বলে বাবা তুমি আওনা খেনে... আমার বুকের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠে... বলি, বাবা তুমি ভাইয়াকে নিয়ে ঢাকার নানার সাথে বেড়াতে যেও। ছেলে আমার আর কিছু বলেনা, বলতে পারেনা... ধাতব শব্দ বাজে খুব হালকা সুরে... লাইনটা কেটে যায়... আমি আবারও ফোন করার চেস্টা করি, পারিনা। অনেক্ষন লেগে যায় আমার, মোবাইলের নেট বন্ধ এই কথাটা বুঝতে...


Sunday, August 12, 2007

:: এক হাতে আর তালি বাজাবনা ::

আর ভাল্লাগেনা, পেছনের বেঞ্চে বসে বসে আমি ক্লান্ত।
মনোযোগহীন হয়ে থাকতে আর ভালো লাগেনা,
একদম ভাল্লাগেনা, একদম...

মিছিলের পেছনে আর কত হাটব?
এবার আমি সামনে আসতে চাই।
আর কত অন্যের তোলা সুরে গলা মেলাব?

এক হাতে তালি বাজাতে বাজাতে হাত
তার স্বতস্ফুর্ততা হারিয়েছে। সে এখন
সঙ্গি খোঁজে। এবার আমি শীতঘুমে যাব
দেখি কেউ আমার ঘুম ভাঙ্গাতে আসে কিনা

Thursday, August 9, 2007

:: কাল ঘুম নেমে আসে তার দু'চোখ জুড়ে ::

১.
কাল রাতেও ঘটনাটা ঘটল। আমি খেতে বসতেই অনন্যা এসে হাজির। হিস হিস করে বলে, ‘ ভাবী তোমার লজ্জা করেনা? নিজের বুঝ ঠিকই বুঝ, আর অন্যের কিছু পেলে হুলস্তুল বাঁধিয়ে দাও!’ আমি আর খেতে পারলামনা। গলায় কষ্ট দলা পাকিয়ে ব্যাথা শুরু হল। চব্বিশ ঘন্টা আগের ঘটনাটা বলতে গিয়েও রুপার গলাটা ধরে আসে। কেঁদে ফেলে। জহির বউকে শান্তনা দেয়। আহা কেঁদনাতো। ঠিক হয়ে যাবে সব। কালই আমি বকে দেব অনন্যাকে। রুপার মন অন্যদিকে ফেরাতে চেস্টা করেন। তবু সে ফুঁপাতে থাকে। বলে যায়, মা-ও কিছু বল্লেন না। যেন আমি মহা অন্যায় করেছি। তারইতো মেয়ে। কিছু যদি হয়, আমার থেকেতো তারই বেশি কষ্ট হবে। কিন্তু তার ভাব দেখে মনে হল অনন্যা যা করছে ঠিক করছে। আমি এ নিয়ে কথা বলে অন্যায় করেছি! আর এমন কি আছে যেটা আমি আগলে রাখি। কি এমন অপরাধ আছে আমার...
রুপার হয়ত আরও কিছু বলার ছিল। পিয়ারি সেটা হতে দিলনা। রাত একটায় তার একবার খাবারের দরকার হয়। বুকের দুধ পায়না বলে সময় ভাগ করে ফিডার দিতে হয়। রুপা ব্যস্ত হয়ে পড়ে পিয়ারিকে নিয়ে। জহির হাপ ছেড়ে বাঁচে। মেয়েকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলে রুপা অন্যভূবনে চলে যায়। জহির মুগ্ধ চোখে রুপার সন্তান সেবা দেখতে থাকে। তার চোখ বুজে আসতে চায় ঘুমে। তবু সে জেগে থাকেন। পিয়ারিকে দেখে। রুপাকে দেখে...।
সামলে নিয়েছে রুপা। জহিরের দিকে তাকিয়ে বলে, কি হল তুমি আজ দেখি বড় জেগে আছ। ঘটনা কি? নির্দোষ হাসি হেসে জহির বলে, কাল শুক্রবার না? সকালেতো আর দৌড় নাই। রাত জাগলে সমস্যা কি। সে রুপার দিকে তাঁকিয়েই থাকে। রুপার কেমন মায়া হয়। এই মানুষটা এমন কেন। মাটি মাটি ভাব নিয়ে এই জামানায় এসে সে কিযে ভূল করেছে এই ব্যাপারটাও সে বুঝেনা। শুধু নিজেই নয় সাথে তার মত অতি সাধারন মেয়েটাকেও বিপদে ফেলেছে। আর রুপাও কেমন মেয়ে। এমন ছেলেদের বউ হতে হলে একটু ডাকাবুকো হতে হয়! একজন মেনমেনা হলে আরেকজন হবে গরমাগরম। যাতে সব কিছু পুষিয়ে নেয়া যায়। তা না রুপা জহিরের চেয়ে আরও কয়েকগুন বেশি নরম সরম। কোন কিছুই সামলাতে পারেনা। রাতে শুধু বালিশ ভেজায় আর বেচারা জহিরকে কষ্ট দেয়।
দেড়টা বেজে যায় পিয়ারিকে সামলাতে সামলাতে। জহির তখনও জেগে আছে। মেয়ের নরম নরম গালে একটু পর পর গাল ঘসে দেয়ার চেস্টা করছে। রুপা তাকে বার বার বলছে, এমন করোনা প্লিজ। ঘুম ভেঙ্গে যাবে ওর। কে শুনে কার কথা! জহির এই যদি হাত বাড়ায় তো পরনেই মুখ বাড়ায়। ফেরাতে গেলে সে রুপার দিকে ঠোট বাড়িয়ে দেয়। কি এক যন্ত্রনা... পিয়ারিকে কোন মতে বিছানায় রেখে যুদ্ধ ঘোষনা করে রুপা। বলে আস দেখি, আমার সাথে আস। দেখি কত শক্তি তোমার। জহির ফিস ফিস করে বলে, এভাবে উসকানি দিতে নাই। জাননা আমার ভেতর বারোশ বাঘ ঘুমিয়ে থাকে! তাকে জাগাতে যেওনা... রুপা তার রাজহংসির মত কন্ঠ উচিয়ে বলে, আহারে কি আমার বাঘ পুষনেওয়ালা!
সকালে ঘুম ভাঙলে জহির দেখে সে একা বিছানায় পড়ে আছে। রুপা, পিয়ারি কেউ নেই। চোখ কচলে ঘড়িতে তাকায়, সাড়ে এগারটা। লাফ দিয়ে উঠে। আজ বাজারে যেতে হবে। জুমআর নামাজ পড়তে হবে। আর এখনও সে ঘুমে...
জুমআর পর বাসার সবাই এক সাথে বসে খাওয়ার নিয়ম। টেবিলে বসেই টের পায় জহির, আজ কেমন যেন এক গুমোট ভাব। কি যেন এক বাধা সবার মুখে থমথমে ছাপ একে দিয়েছে। মা’ই প্রথম কথাটা তুলেন। জহির কাল তোর বউ কি করেছে শুনেছিস। কি করেছে? কি করেনাই সেইটা বল আম্মা, বলে খাকারি দিয়ে উঠে অনন্যা। অনেক দিন পর জহিরের রাগ উঠে, ধমক দিয়ে উঠে, মাকে কথা বলতে দে অনন্যা। অনন্যা সেই কথায় কান দেয়না, আরও জোরে চেচিয়ে বলে, কেন, আমি বলবনা কেন? তোমার বউ আমাকে নিয়ে উল্টা পাল্টা বলবে আর আমি কিছু বলতে পারবনা। জহির ঠান্ডা গলায় বলে, কি বলেছে রুপা? অনন্যা সপ্তমে চড়ানো গলায় বলে, আমাকে নিয়ে তোমার বউ মায়ের কাছে বিশ্রি বিশ্রি কথা বলেছে কাল বিকেলে। সে বলেছে, আমি নাকি সুমনের সাথে যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়াই। সুমন একটা বাজে ছেলে। তার সাথে থেকে আমিও বাজে হয়ে যাব... জহির ক্ষেপে গিয়ে চিত্কার করে উঠে, ঠিকই বলেছে রুপা।
এবার কথা বলেন মা। জহির তুই যদি তোর বউয়ের কথায় লাফ দিস তাহলে আমার কিছু বলার নেই। কিন্তু ঘরের বউ হয়ে সে যদি আমার মেয়ের বিরুদ্ধে এমন কথা বলে সেটা সহ্য করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাছাড়া সুমনতো খারাপ ছেলে নয়। এই বয়েসে অনেকেরই অনেক সমস্যা থাকে। সব ঠিক হয়ে যাবে। জহির অবাক চোখে মায়ের দিকে তাকিয়ে থাকে। তার মাথায় মায়ের কথাগুলো ঠিক ঢুকেনা। কয়েক মূহুর্তের জন্য বেশ বড় গলায় কথা বল্লেও আবার সে চুপসে যায়। গলায় খাবার আটকে যায়। হাত ধুয়ে ফেলে। আর খেতে মন চায় না। রুপা তার মতো উঠতে পারেনা। টেবিলে বসে তাকে অনন্যার অশ্রাব্য কথামালা হজম করতে হয়।
মন খারাপ করে জহির ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। পিয়ারিকে নিয়ে অন্য বন্ধের দিনে এই সময়টায় সে খেলা করে। আজ আর তাতে মন উঠলনা। ঘরটাই তার কাছে অসহ্য হয়ে উঠল। সুমনের মত একটা বাজে ছেলের জন্য মা কথা বলবেন এটা ভাবতেই তার মাথায় টনটন করছে। রুপা আগেও বলেছে, অনন্যার চালচলন ভাল ঠেকছেনা। তাছাড়া সুমনের সাথে তার সম্পর্কের কথা দ্রুত সবার মুখে ছড়িয়ে পড়ছে। এটা থামানো দরকার। রুপা কাল বিকেলে অফিস থেকে ফেরার সময় অনন্যাকে সুমনের বাড়ি থেকে বের হতে দেখেছে। সুমনের বাবা-মা দুজনেই দেশের বাইরে থাকেন। ভাই, বোনও তাই। খালি একটি বাড়িতে এভাবে যাওয়া শোভন নয় সেই কথাটাই সন্ধায় শাশুড়িকে বলেছিল রুপা। তার জের ধরেই এতকিছু।
২.
অনন্যার মুখে খই ফুটছে যেন। রুপা তার ভাইটার মাথা চিবিয়ে খেয়েছে। সহজ সরল পেয়ে যা ইচ্ছা তাই করছে। চাকরির নামে সারদিন বেশ্যাগিরি করে বেড়ায় আর ঘরে এসে মহিয়সি ভাব ধরে। মা’ও বলেন তার ইচ্ছামত। নিজের ইচ্ছেমত ছেলেটার বিয়ে দিতে পারলেননা। কোত্থেকে এক আকামের মেয়েকে ছেলে জোগাড় করে আনল আর আজ সেই মেয়ে তার ঘরের ইজ্জত নিয়ে কথা তুলে! এইসব প্যাচঘোচের কথায় রুপার মাথা ঝিমঝিম করে। সে ভেবে পায়না তার অপরাধটা কোন যায়গায়। পালিয়ে আসুক আর যাই করুক সেতো এই ঘরের বউ। তারকি কোন অধিকার নেই ঘরের ভাল মন্দ কিছুতে মত দেবার। আর এটাইবা কেমনতরো আক্রমন। তার চরিত্র নিয়ে কুত্সা রটানোর মত রুচি এরা কোত্থেকে পেল। জহিরের উপর তার রাগ হতে থাকে। এই সময় কেমন সে পালিয়ে গেল। তার উপর দিয়ে এত অশ্লিল ঝড় বয়ে যাচ্ছে আর জহির কিনা বাইরে বাতাস খেয়ে বেড়াচ্ছে!
কথার তুবড়ি এখন জমেছে রুপার চরিত্র আর চাকরির উপর। বস্তিতে ঘুরে বেড়ানোর কাজ কোন ভদ্র বাড়ির মেয়ে করে বলে কোনদিন শুনেনি অনন্যা। তার মা’ও শুনেননি। আর সেইরকম একটা মেয়ে তাদের ঘরের বউ হয়ে এলো!
৩.
অনেকক্ষন ধরে রুপার কানে আর কোন কথা ঢুকছেনা। তার পুরোটা মাথা যেন ফাঁকা হয়ে গেছে। বারবার জহিরের কথা মনে পড়ছে। এভাবে তাকে এই ঘরে একা ফেলে সে চলে যেতে পারল? এভাবেইকি সে সব যুদ্ধে তাকে অসহায়ের মত ফেলে যাবে! তার চরিত্র আর পেশা নিয়ে এরা বারবার বকে যাচ্ছে আর সে কিছুই বলতে পারছেনা! তাকে যে আগলে রাখতে পারতো এসব থেকে সেই মানুষটাও কাপুরুষের মত পালিয়ে গেল...

Wednesday, August 8, 2007

:: নাতাশার নানীর গাড়ীতে ::

আহা আলবাব তুমি আর কত বেচাইন হবে!
নাতাশার নানীর গাড়ীতে বসে বসে তুমি
এইসব উকিল মুহরির দৌড় দেখেই আগামী
দিন কাটানোর জন্য প্রস্তুতি নাও...

আহমেদ নূর বেটা চাঁদাবাজ বটে!
তার আছে আরও অনেক জারিজুরি
তুমি তার কত পাশ টানবে?
তোমার আর কতটুকুনই আছে ক্ষেমতা?

নাতাশার নানী এই গাড়ী কিনেছিল বলে,
তার গাড়ির রেজিস্ট্রেশন দরকার বলেই
আজ এই কাচারির উঠানে তুমি আরামে
বসে আছ আর গেজাতে গেজাতে গিলছ
আমের আচার, গোপালের পান।

বিকেলের নীল প্রিজনভ্যানে দাগী অপরাধীর ভিড়ে
ভাঙ্গা পা টানতে টানতে মৌলির বাবা যখন মিশে
যান, তার আগে পত্রিকায় মোড়ানো মিহিদানা মিস্টি
হাতে পেয়ে লোকটার চোখ কেমন জ্বলজ্বল করে উঠে...

আহা আলবাব তুমি আর কত বেচাইন হবে...
এইসব উকিল মুহরির দৌড় দেখেই আগামী
দিন কাটানোর জন্য প্রস্তুতি নাও...

:: বৃষ্টির গান ::

এপাশে বৃষ্টি ওপাশে বৃষ্টি
জারুল বৃক্ষের শিয়রে সংসার
তুমি যোগীনী...
ধ্যানে মগ্ন...

আদম কী ইভ'কে এভাবে কখনো
জড়িয়ে ধরেছিল বৃষ্টির শিয়রে...
আলবাব...
যোগীনীর নিঃশ্বাস...

ইভের ঠোঁট এতটা
কোমল ছিলনা নিশ্চিত।

:: সে রাতে পূর্ণিমার সাথে আমি তোমাকেও দেখেছি ::

১.

তখনও বুঝিনি আকাশে অতটা উজ্জলতা ছিল। হঠাত করেই ইলেকট্রিসিটি চলে গেল। মুমু বল্ল সে ছাদে যাবে। বন্ধ ঘরে তার ভাল লাগছেনা। দম বন্ধ হয়ে আসছে। বাধ্য হয়ে তাই বেরিয়ে আসি। মোমের আলোয় যতটা দেখা যায় ততটা দেখে সিড়ি বাইতে থাকি। একহাতে মোম অন্য হাতে ধরে রাখি মুমুকে।
সিড়িটা বেশ খাড়া। অন্যবাড়ির দেড় সিড়ি সমান এর একেকটা সিড়ি! মুমুকে বলি, কষ্ট হচ্ছে উঠতে। ম্লান হাসি হেসে বলে, তুমি জিজ্ঞেস করতেই উধাও হয়ে গেল! আমি দাঁড়িয়ে যাই। ওর চোখে চোখ রাখার চেস্টা করি। মোমের আলোয় কেমন এক মায়ার খেলা দেখতে পাই। বিষন্নতার মাঝে খেলা করে যেন অন্যরকম এক আলোর ছটা।
সিড়ি ঘরের দরজাটা খুলতেই আমি চমকে উঠি। বিস্ময়ে উল্লাস করে উঠে মুমু। কতদিন পর মুমু এমন বিস্মিত হয়! আশ্চর্য রুপালী আলোর কেমন এক ঘোর লাগা সময়ে আমরা প্রবেশ করি। মুমু মাদক জড়ানো কন্ঠে বলে, আজ কী পূর্ণিমা! আমি বলতে পারিনা। কতদিন হল পূর্ণিমার খোজ নিতে পারিনা।
ছাদে ছড়িয়ে আছে ছোটবড় বেশকটা ফুলের টব। বাগান বাগান একটা ভাব আনার চেস্টা করা হয়েছে। তিনতলার মিতা ভাবীর কাজ। সিমেন্ট দিয়ে দুটি বেঞ্চও বানানো হয়েছে। তারই একটাতে বসি। আসলে আমি বসি। মুমু দাড়িয়ে থাকে বেশ কিছুন। চাদের দিকে অপলক তাকিয়ে থাকে। কয়েক মিনিট পর, কোমরের পেছনে একটা হাত আর আরেক হাতে তলপেটটা হালকা তুলে ধরে এক অনুপম ভঙ্গিতে মুমু বসার চেস্টা করে। আমি হাত বাড়িয়ে ওকে একটু ধরতে চেস্টা করি। মুমু মানা করে, বলে দেখিনা বসতে পারি কিনা... বলতে বলতে বসেও পড়ে। তারপর হেসে বলে, দেখলে, বসে পড়লাম!
বেশিক্ষন আর বসা হয়না।প্রথমে মাথাটা আমার কাধে হেলিয়ে দেয়... তারপর পুরোটা শরির। একসময় বলে পা’টা একটু তুলে দাওতো...। আমার কোলে মাথা রেখে আধশোয়া হয়ে পড়ে থাকে। কস্ট হচ্ছে কিনা জিজ্ঞেস করলে বলে, নাহ... অনেকদিন ধরে এমন ভাল লাগেনা... কেমন চাদ উঠেছে দেখ আকাশে।
পূর্ণিমা নিয়ে আমার অত রোমান্টিকতা ছিলনা কোনকালেই। মুমু আমাকে কোন ফাঁকে চাঁদকে ভালবাসা শেখালো জানিনা। আমিও এখন মুগ্ধতা নিয়ে চাঁদ দেখতে পারি সারাটা রাত!
কেমন এক কস্টের শব্দ উঠে মুমুর গলা থেকে। আমার সকল ভূবন কেঁপে উঠে। কি হয়েছে জিজ্ঞেস করতেই আমার হাতটা ধরে নিয়ে তার পেটে হালকা ভাবে রেখে দেয়! সেখানে তখন উথাল পাথাল ঢেউ উঠেছে। বলি, কস্ট হচ্ছে তোমার? মুমু বলে, হ্যা, আবার না। আমি ধ্বন্দে পড়ে বলি, কি বল।
তখনও চলছে উথাল পাতাল ঢেউ। আমি বলি কি দিয়ে এমন ঢেউ তুলে? হাত? না বলে মুমু... এটা হল পা। আঁতকে উঠি! পা! তাহলেতো খুব শক্তি নিয়ে নাড়াচ্ছে। আমাকে আশ্বস্ত করে বলে, নাহ। বরং না নড়লেই কষ্ট। মনে ভয় হয়, কী হল সোনাটার? ওর কি কোন সমস্যা? নড়াচড়া করা মানে ও সুস্থ আছে! আমি কোন কথা বলিনা, অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকি।
মুমু জিঙ্গেস করে, আজ কত তারিখ। জানুয়ারির বিশ। আঙ্গুলে গুনতে গুনতে বলে, তাহলেত আর দশ দিন। আমি কেঁপে উঠি। ওর হাতটা শক্ত করে ধরি। মুমু বলে, কি হল। তুমি এমন করছ কেন? কই আমাকে একটু সাহস দেবে! না উল্টো নিজেই ঘাবড়ে যাচ্ছ। আমি হাতটা আরও শক্ত করে ধরি। বলি, না ঠিক আছে।

২.

উনত্রিশ তারিখ বিকেলে হাসপাতালে যেতে হয়। মুমুর শরিরটা তেমন ভালনা। ডাক্তার আগেই বলেছেন অপারেশন লাগবে। তাছাড়া আরও সমস্যা হতে পারে। তাই আগে থেকেই হাসপাতালে থাকতে হবে। আগের রাত পর্যন্ত আমরা একসাথে ছিলাম। বিচ্ছিন্নতা। কেমন খালি খালি লাগে সব কিছু। লেবার ওয়ার্ডে পুরুষদের যেতে দেয়না। আমার তবু যেতে ইচ্ছে হয়। আমি করিডোরে পায়চারি করি। মা আমাকে বলেন, তুই বাড়িতে চলে যা। অন্যবেলাতে আসিস। আমি হ্যা না কিছুই বলিনা। মাথা নেড়ে আবার পায়চারি করতে থাকি।

৩.

সন্ধা তখনও নামেনি। অথবা রাত হয় হয়। সাদা সাদা চোখ নিয়ে আমার দিকে তাকায় মুমু। আমি কোন চোখে তাকাই তার কোন বর্ণনা নিজের কাছে নেই। একবার ছুতে মন চায় মুমুর কোমল গাল। ওর কাঁধে হাত রেখে বলতে ইচ্ছে করে, এইতো আমি আছি। বলা হয়না। চেনা অচেনা কতজন তাকে ঘিরে ধরেন। আমি আর এগুতে পারিনা। চোখে শুধু চোখ রাখা হয় মুহুর্তের জন্য। দরজা পেরিয়ে নিঃশব্দের ওপাশে চলে যায় মুমু। মিনিট পাঁচেক পর সেই দরজায় জ্বলে ওঠে লাল রঙের বাতি... আমি দাড়িয়ে থাকি... আমি হাটতে থাকি...

:: আমাদের ক, খ, গ, ঘ, এবং ঙ ::

ক.
বাড়ির সামনেই কবরটা। সাদা মার্বেল দিয়ে বাঁধিয়ে রাখা। আগে ছিল লাল রংএর ইটের দেয়াল। তিন বছর আগে দাদা যখন সার্টিফিকেটধারী রাজমিস্ত্রি হল তখন মার্বেল দিয়ে বাঁধিয়ে দিল। এতে নাকি তার মেধার উন্নতি হবে। আগামিতে সে হবে ফাঁটাফাঁটি ইঞ্জিনিয়র। এমনই আমাদের বিশ্বাস। আমরা সবাই বিশ্বাস করি। যতকিছু আছে আমাদের ভালো সবই তার দোয়ায়। আমরা বিশ্বাস করি আমাদের বিপদ আপদ সবই হয় যখন তিনি রেগে যান।
খ.
আমাদের মূলত নির্ভেজাল জিবনযাপন। আমদের বাড়ির ছেলে মেয়েরা পড়ালেখায় ভাল। পাশ করার আগেই তারা কাজ পেয়ে যায়। ভালো ভালো সব চাকরি। ভালো সব ব্যবসা। সবই আছে আমাদের।
গ.
রোজ স্কুল, কলেজ অথবা অফিস যাওয়ার পথে আমরা শান বাঁধানো কবরটার সামনে দাড়াই। নতজানু হই। আমরা নিজেদের জন্য সুভসময় নিশ্চিত করে সেই কবরের সামনে থেকে যার যার গন্তব্যে রওয়ানা দেই। বাবা বলেছেন, মা-ও বলেছেন কবরের সামনে নতজানু হই বলেই আমরা নিরাপদে ঘরে ফিরতে পারি।
ঘ.
শাহানা একবার স্কুলে মাথা ফাটিয়ে ফেলেছিল। কিভাবে তা জানিনা। তবে মা বলেছিলেন, সেদিন নাকি ওর কবরের কাছে যাওয়া নিষেধ ছিল। তবুও গিয়েছে তাই এই শাস্তি। এভাবে প্রতি মাসে নিয়মিত শাহানার উপর কবরে যাওয়ার ব্যপারে নিষেধাজ্ঞা থাকে! সেই কবরের এমনই অলৌকিক মতা! তাকে মেনে চলতেই হয়। তার কথা না মানলে নিশ্চিত শাস্তি। যখন বেঁচে ছিলেন তখন তা আরও কঠিন ছিল। ছোট চাচা তার কথা না শুনায় কোথায় যে হারিয়ে গিয়েছেন কেউ জানেনা।
ঙ.
৭১ সালে দাদাজান বলেছিলেন, মহান ইকবাল আর কয়েদ এ আজমের স্বপ্নের দেশ কখন্ও ব্যর্থ হতে পারেনা। কাফেরদের ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে। ছোটচাচা সেটা মানেননি। তিনি যুদ্ধে গিয়েছিলেন। সে খবর শুনে ক্ষেপে গিয়েছিলেন দাদাজান। অভিশাপ দিয়েছিলেন। ছোট চাচা সেই অভিশাপ কাটাতে পারেননি। তিনি ফিরে আসেননি। বড়চাচা ভাইয়ের পক্ষে কথা বলেছিলেন। তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়। তিনি আর এ বাড়িতে ঢুকতে পারেননি। আব্বা দাদাজানের কথা শুনেছিলেন। আমাদের সময় এখন সবসময় সূর্যরাঙা। আমরা ভাল আছি, ভাল থাকি...

:: আমার কোনদিন দুধ চা খাওয়া হবেনা ::

বেশি সময় কারও লাগেনা। বুঝে ফেলে। আমার দৌড়টা তাদের জানা হয়ে যায়। এর জন্য আমি নিজেই আসলে দায়ী। ভাব ধরাটা শিখতে পারলামনা। তাই খুব সহজেই সবাই বুঝে ফেলে আমি মূলত অন্তজ শ্রেনীর মানুষ।
আমি নাকি ঠিক মানানসই নই এই সময়ের জন্য। পরিচিতরা সবাই বলে। এমনকি মাও বলেন, তুই বুঝিসনা দিনদুনিয়া কোন তালে চলে এখন! আমি কোন উত্তর দিতে পারিনা। মাথা চুলকাই।
কাদির মিয়া আমাকে কেন যেন খুব পছন্দ করে। জেলখাটা দাগী আসামী। নামের শেষের মিয়াটা উধাও হয়ে সেখানে ডাকাত শব্দটা ঠেসে ছিল অনেকদিন। কি করে যেন সে আমাদের অফিসে এসে জুটে গেল আর আজব কোন এক কারনে আমার সাথে তার খাতির হয়ে গেল। কাচের মগে লাল চা দিতে দিতে বলত, স্যার আপনার জীবনে কোনদিন দুধ চা খাওয়া হবেনা। আমি অবাক হয়ে বলতাম, মানে? সে বলত, এইত রোজ রোজ লাল চা খাবেন। দুধ কেনার টাকা হবেনা! আমি ঠাঠা মারা হাসি দিয়ে তাকে লাল চার গুনাগুন বুঝাতে চাইলে সে শুধু মিট মিট করে হাসত। সব কথা শেষ হলে মাথা নাড়তে নাড়তে সামনে থেকে বিদায় হত। মাথা নাড়াড় ভঙ্গিটায় স্পস্ট বুঝা যেত তার মনের কথা... আপনেরে দিয়া কিছুই হবেনা টাইপ মাথা নাড়ানো।
অফিসে ওই কাদির মিয়া ছাড়া আর কেউ আমারে পাত্তা দেয়না। এমনকি যারা আমারে পাত্তা না দিলেই নয় তারাও না। সেলসে যারা কাজ করে তাদের প্রতিদিনকার কাজের হিসাব নেয়ার দায়িত্বটা আমার। ওদের লগবুকে আমার সই না থাকলে বেতন হয়না তাদের! সেই অর্থে আমি তাদের কাছে বিশাল মতাবান কিছু একটা হওয়া উচিত। কিসের কি, আমার কাছ থেকে তারা প্রতিদিন এমনভাবে সই নেবে, ভাব দেখে মনে হয় কারো খাতায় যদি আমি সই না দিই তাহলে আমার এমাসের বেতন আটকে দেয়া হবে!
আমাদের অফিসের সবারই প্রায় আরামের জীবন। আমাদের বাড়ির প্রায় সবারই আরামের জীবন। আমি শুধু সেখানে বাগড়া। ফেলনা টাইপের কিছু একটা। কোন কিছুতেই আমার প্রবেশাধিকার নেই। অফিসের আর সবাই মিলে অনেকধরনের ধরনের মজা করে। আমি তাতে কোনদিনই সুজোগ পাইনা। কাদের মিয়া না থাকলে সেসবের খবরই আমি পেতামনা। তবে একবার আমিও গিয়েছিলাম সেরকম এক আয়োজনে। আসলে যেতে বাধ্য হয়েছিলাম। সেদিন পাচটা না বাজতেই অফিসটা প্রায় ফাঁকা হয়ে গেল। আমার আবার রোজ রোজ দেরি হয় অফিস থেকে বেরুতে। প্রায়ই সেলসের ওরা ফিরতে দেরি করে ফেলে। সাড়ে পাচটার দিকে ফোন আসল। মহিউদ্দিন সাহেব ফোন করেছেন।
- কি খবর মোকাম্মেল ভাই, এখনও আপনি অফিসে।
আমি বলি, কাজ শেষ করতে দেরি হয়ে গেল মুহিভাই।
-সেতো আপনার রোজই হয় বলে তিনি কাদির মিয়ার খোজ করেন। আমি বলি ওতো চলে গেছে। আমার রুটিন জানতে চান তিনি। আমি বলি বাসায় চলে যাব মুহি ভাই। মুহিভাই আজব এক কথা বলেন এর পর। তিনি আমাকে তার বাসায় যাওয়ার প্রস্তাব দেন। আমি অবাক হয়ে যাই। ধাতস্ত হয়ে বলি, না ভাই আজ না আরেকদিন। তিনি নাছোড়বান্দা। বলেন, আরে আজই আসেন। ১০ মিনিটের জন্য হলেও আসেন। কি আর করা। রাজি হতে হয়। মুহিভাই তার বাড়ির নাম্বার দিয়ে আমাকে বলেন, একটা কস্ট করতে হবে কিন্তু মুকাম্মেল ভাই, আমার টেবিলের তলায় ছোট একটা বাক্স আছে একটু কস্ট করে ওইটা নিয়া আসতে হবে। আমি বাড়ির পথের উল্টা পথের রিক্সায় চড়ে বসি। প্রায় পাঁচ কেজি ওজনের বাক্সটা হাটুর ওপর শক্ত করে ধরে রাখি।
বাসায়ও এমন অনেককিছু হয় যার পাত্তাই আমি পাইনা! সেসব আমি গায়েও মাখিনা। অভ্যাস হয়ে গেছে। শুধু একবার, রাতে বাসায় ফিরে যখন মা মিস্টির বাটিটা এগিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বল্লেন নে মিস্টি খা, আমাদের মিনার বিয়ের মিস্টি। আমি ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি। মা বলেন, আগামী শুক্রবার মিনার বিয়ে। জামাই লন্ডনে থাকে। ছয়মাসের মধ্যে মিনাকে লন্ডন নিয়ে যাবে। আমার মিস্টি খেতে ইচ্ছে হয়না। মন খারাপ করে। আমার বোনটার বিয়ে হবে সেই খবরটাও আমি জানতে পারিনা। চোখটা ভিজে আসতে চায়।
মোসাদ্দেক বেশ বুঝদার ছেলে। আমার দুবছর পরে দুনিয়ায় আসলেও আদতে সে আমার বড়ই হবে। সব কাজেই সে পাক্কা। কন্ট্রাক্টরি করে। সব কন্ট্রাক্টই সে নেয়। সে বাড়ি বানানোই হোক আর কাগজের বাক্স বানানো হোক। একেবারে শুন্য থেকে শুরু করেছে। প্রথম কাজটা পেল বড়ভাইয়ার শালার কাছ থেকে। ইউনানী ঔষধ কোম্পানির বোতল সাপ্লাইয়ের কাজ। বড়ভাইয়া শুনে হেভি ক্ষেপা। কোনদিন করেনি কাজ। কি বুঝে নিল। টাকা ওড়ানোর ফন্দি। মাও তাতে যোগ দিল। মোসাদ্দেক তাদের পাত্তাই দিলনা। সোজা চলে গেল ঢাকা। তিন চারদিন পর ফিরে এল। পনের দিনের মাথায় মিস্টি নিয়ে ঘরে হাজির। বিল পেয়ে মিস্টি কিনেছে!
আমি মোসাদ্দেককে জিজ্ঞেস করি কিভাবে। সে বলে সিস্টেম। এরচেয়ে বেশি কিছু বলেনা। তবে আমি বুঝে যাই তিনমাসের মাথায়। যখন আমাদের অফিসের প্রিন্টিং এর কাজটা ও বাগিয়ে নিল। বড় স্যার আমাকে ডেকে নিয়ে বলেন, আপনার ছোটভাইতো বেশ কাজের ছেলে। আপনার মত নয়। দিন দুনিয়া বুঝে। আমি কিছুই বুঝিনা। দাড়িয়ে থাকি। তিনিই খোলাসা করেন। আরে আজ সে এসেছিল। আপনার পরিচয় দিয়ে বল্ল, কাজ চায়। দিয়ে দিলাম প্রিন্টিং এর কাজটা। আমি বেশ অবাক আর খুশি হই। রাতেই মোসাদ্দেক আমায় বলে, তুমার বসরে আইজ ফিট দিলাম। টেন পার্সেন্ট সাথে তুমি। আমি টেন পার্সেন্ট বুঝি কিন্তু সাথে আমিটা আর বুঝিনা। একবছরের মধ্যে মোসাদ্দেক আমাদের অফিসপাড়ায় পরিচিত একজন হয়ে যায়। আমার ভাইকে দেখি সবাই চিনে।
আমার দিয়া আসলেই কিছু হবেনা... এটা মোসাদ্দেকও বুঝে ফেলে যখন অফসেটে ছাপানোর অর্ডারটা আধাআধি টিকেতে ছাপিয়ে দেয়। আর সেটা আমি আটকে দেই তখন। আমি বুঝিনা কিভাবে তবু তার বিলটা পাস হয়ে যায়। আর মা কেন আমাকে এনিয়ে আমাকে বকা দেয় তাও আমার বুঝে আসেনা। আমার বৌও বলে, তুমি কি? নিজের ভাইয়ের সাথে আইন দেখাও!
মোসাদ্দেক একটা অফিস করেছে। খুব সুন্দর অফিস। লাল নীল কাচ বসানো অফিস। সে অফিসে সারাদিন বাতি জ্বলে। মা কয়েকদিন ধরে আমাকে খুব করে বকছেন। আমার দোষটা যে খুব বড় তা নয়। মোসাদ্দেক বলছিল আমি যেন রোজ তার অফিসে এক ঘন্টা করে সময় দিই। সন্ধার দিকে দিলেই হবে। ওর সারাদিনের হিসাবটা আমি দেখে দিলেই হবে। এটা এমন কোন আব্দার নয়। ওই সময়টায় আমি স্বপনের দোকানে বসে আড্ডা দিই। সময়টা কাজে লাগল। টাকাও নাকী দেবে। আমি যে বেতন পাই তারচেয়ে ডাবল! তবু আমার ভাল লাগেনি। মোসাদ্দেকের ঘাপলা আছে এই কথাটা অন্তত আমি বুঝতে পারি। তার সেই ঘাপলায় যোগ দিতে আমার ভাল লাগেনা। তাই না করে দিয়েছি। তাতেই মা ক্ষেপেছেন। বড়ভাইয়া ক্ষেপেছেন। বাবা থাকলে তিনিও নিশ্চয় ক্ষেপতেন।
আমার বৌও ক্ষেপেছে। কাঁদতে কাঁদতে বলেছে, যে লোক বৌয়ের রিক্সাভাড়া দিতে পারেনা তার আবার এত লম্বা কথা কেন?

:: মৌলীর বাবার চোখ ::



গাদাগাদি ভিড়ে আমি দাঁড়িয়ে থাকি। আমার ঠিক পাশেই দাঁড়ান জননী


এক। পিঞ্জরায় বন্দি পাখি তার চোখ ভরা জলে তাকায় শীর্ন জননীর মুখে।


বড়ই আকুলি তার যদি ছুঁয়া যেত জননীর হাত, যদি সেই হাত একবার


আদরে আদরে তারে মায়ায় ভরিয়ে দিত...




মানুষের মুখ গুলো বড় অসহায় আর আমিও যেহেতু মানুষ তাই শুনি


তেলের লিটার আশি টাকা... চাল কেনাও বড় কষ্ট... তুই কেমন আছিস


বাপ... আব্বা রোজ রাতে কারা যেন ঘরের চালে ঢিল ছুঁড়ে...




এক দাগী আসামীর সাথে দুর্বল শরিরে ধাক্কাধাক্কি করে আমার


সামনে এসে দাড়ান আরেক ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজ! মৌলী


ফোনে বাবাকে খোজ করে কীনা জানতে চান...

:: দুধ ভাত খেয়ে রোজ রাতে চাঁদ দেখি ::

সর্বত্রই নাকি ইদানিং বহে শান্তির সুবাতাস, ইদানিং নাকি

হররোজ পূর্নিমা ভর করে আমাদের আকাশে আর আমরা নাকি

প্রতিদিন করি কুর্নিশ মহামান্যকে, বলি বড় ভাল কাটে আমাদের

দিবারাত তোমারই রাহে হে মহান।


আমরা কেউ কেউ স্বপ্নবাজ হয়েছি, জেগে জেগেই দেখি

দুধভাতে ভরে গেছে আমাদের থালা আর আমরা চিমটিও

কাটিনা নিজের শরিরে সত্য যাচাই করতে হয়না।


বেহেস্তি পোষাকের রঙ নাকি সবুজ আর দোজখের কালো!

কবে কোন মোল্লা শিখিয়েছে এমন বচন!


মোল্লারাও আর এখন তমদ্দুনের গান গায়না।

সকল রঙের পোষাকেই নাকি শান্তি আছে, আছে বেহেস্তের ছটা

অচিরেই জারি হবে এমন ফতোয়া।

Tuesday, August 7, 2007

:: আমার এখন আকাশ ছুঁতে ইচ্ছে করে ::

তোমার মত আমারও এখন যখন তখন ভালবাসতে ইচ্ছে করে
যখন তখন হাত বাড়িয়ে আকাশ থেকে
মেঘের ভেলা সরিয়ে দিতে ইচ্ছে করে।

এই আমার আর আগের মত মিছিল নিয়ে সামনে যেতে মন টানেনা।
মানুষ ডাকার কাজগুলোতো আগের মত জোর পাইনা।

কে মরলো কে বাঁচলো কার জন্যে কার কপাল পুড়লো
এসব নিয়ে ভাবতে আমার মোটেই ভালো লাগেনা
মানুষ আমি গড়পড়তা, এমন ভাবনায় সময়দিতে একটুও আর ভাল্লাগেনা

তুমি আমার মাথার ভেতর ঢুকিয়ে দিলে একটা আকাশ
আমি এখন এই আকাশের তারা গুনি, ফেলে আসা সময়
নিয়ে আর ভাবিনা। দুনিয়া গেলে যাকনা চুলোয়
আমার ভেতর জ্বলছে আগুন সে আগুনে কাউকেই আর ভাগ দেবনা।

Thursday, August 2, 2007

:: বুকের উপর সাপের রাস্তা... ::

ক.

ইশপের গল্প টাইপের একটা গল্প বারবার আমার মনে পড়ে। একবার এক লোকের বুকের উপর দিয়ে সাপ চলে গেল। লোকটার সেকি কান্না। কেউ একজন বলে, আরে ভাই কাদেন কেন? সাপটাতো কামড়ায়নি। সেই লোক বিষন্ন হয়ে বলে, আরে ভাই কামড়ানোটাইতো ভালো ছিল, এতো এখন রাস্তা বানিয়ে ফেল্লরে ভাই! মানুষের বুকের উপর দিয়ে সাপের রাস্তা... লোকটা আবার বিলাপ শুরু করে।

খ.

মঙ্গলবার রাতের ঘটনা। রাত দেড়টা পৌনে দুইটা হবে। বাড়ির সামনে যেতেই বুঝে গেছে তুলি। বাড়িটা ছোট একটা টিলার উপর। সেটা উঠতে উঠতে ও বেরিয়ে এল। আমার বেগে চাবি থাকে। সেটা দিয়েই গেট খুলি।
বাবাই ঘুমে। ওর ফিডার রেডি করতে করতে ভাত খাবো কিনা জিজ্ঞেস করে তুলি। বলি, খাবনা। কয়েকটা কাজ জমে গেছে। দ্রুত কম্পিউটার খুলে বসি। লো-ভলিউমে গান ছেড়ে ঠুকে ঠুকে ইলাসট্রেটর সামলাই। টুকটাক কথা হয় দু'জনে। গরম পড়েছে প্রচন্ড। জানালা খুলা। ফিডারটা পাশে রেখে মা ছেলে তারা ঘুমিয়ে পড়ে। মিনিট পনের হবে। চিৎকার। চোখ মুখ কি রকম যন্ত্রনামাখা, কোলে বাবাইকে নিয়ে কাপতে থাকে। কি হয়েছে, কি করব কিছুই বুঝিনা... কিংকর্তব্য শব্দটা খুব কাছে এসে টোকা দেয় আমায়। ততক্ষনে বাবাই ফর্মে চলে এসেছে। সে ভেবেছে আমি তার মাকে গভির কোন যন্ত্রনা দিয়েছি, সে এর প্রতিবাদে আমাকে যাহ্ যাহ্ বলে বিদায় করার চেস্টা শুরু করল। তিন মিনিট পেরিয়ে গেছে প্রায়। তুলি কোনমতে বলে কার গলা থেকে চেনটা নিয়ে গেছে! কি বলে এইসব!? বিস্ময় চেপে ধরে। আব্বা আম্মা চলে এসেছেন। চোরের পিছে দৌড়ানোর সময় আর নেই। প্রায় পাচ মিনিট সময় তাকে দেয়া হয়ে গেছে।
রাতের বাকিটা সময় আমরা আর ঘুমাতে পারিনা। বাড়ির সবাই সজাগ।

ক.

ইশপের গল্প টাইপের একটা গল্প বারবার আমার মনে পড়ে। একবার এক লোকের বুকের উপর দিয়ে সাপ চলে গেল। লোকটার সেকি কান্না। কেউ একজন বলে, আরে ভাই কাদেন কেন? সাপটাতো কামড়ায়নি। সেই লোক বিষন্ন হয়ে বলে, আরে ভাই কামড়ানোটাইতো ভালো ছিল, এতো এখন রাস্তা বানিয়ে ফেল্লরে ভাই! মানুষের বুকের উপর দিয়ে সাপের রাস্তা... লোকটা আবার বিলাপ শুরু করে।

আমাদের কিশোর বেলায় ৯০-এ কারা কারা যেন মরে গিয়েছিল গনতন্ত্রের জন্য! কেমন আছে তারা এখন?

Tuesday, July 24, 2007

:: বৃষ্টি পিয়াসি আমি আর শাহানা ::

বৃষ্টির দিন ছিল, রাতেও ছিল বৃষ্টি। আমাদের মাঝে যাদের বৃষ্টি প্রীতি ছিল তারা ছাড়া আর সবাই বিরক্ত। টানা বৃষ্টি কারইবা ভালো লাগে।
আমি বৃষ্টি পিয়াসি মানুষ। মেঘ আমায় মাতাল করে। আমি মেঘের ছায়ায় দাঁড়াতে পছন্দ করি। বৃষ্টিতে ভিজি বালক বেলার উল্লাসে।
শাহানার সাথে দেখা হয়। সেও বৃষ্টিময় দুপুরে। আমি হাটছিলাম কংক্রিটের রাস্তায়। মানুষের সাথে মানুষের সহজে ঘেষাঘেষি হয়না এমন রাস্তা। তবু হঠাৎ কেউ একজন আমার শরীরে হামলে পড়ার মতই আচরণ করে। সামলে নিয়ে তাকাই। শাহানা! বদলে যাওয়া শরির নিয়ে দাড়িয়ে আছে আমার সামনে।
শাহানা, আহা শাহানা। আমার নিঃশ্বাসের মত প্রিয় ছিলে তুমি। আমার বুকে তোমার জন্যই জমে আছে গাঢ় এক বেদনা।
শাহানাদের পুকুরে শানবাঁধানো ঘাট ছিল, তাদের তিন মহালা বাড়ি ছিল। আমি সেই বাড়িতে কতবার গিয়েছি। গ্রাম থেকে উঠে আসা নিতান্ত এক কিশোরের জন্য সে বাড়ি ছিল আরামদায়ক নিঃশ্বাসের মত। সে বাড়িতে শাহানা ছিল।
শাহানার সাথে দেখা হলে মেঘ মেঘ দুপুরে সে আমাকে নিয়ে পাশের ষোলতলা বাড়িটার দিকে হাঁটা দেয়। আমি কোন কথা না বলে তাকে অনুসরণ করি। আর অবচেতন মনে চাপা ফুলের ঘ্রাণ খুঁজি। শাহানার কাছে গেলে সেই কৈশোরে আমি চাপা ফুলের ঘ্রাণ পেতাম। মূলত এই ঘ্রাণের লোভেই আমি তার পাশে পাশে থাকতে চাইতাম। মূলত এই ঘ্রাণের খোঁজেই আজও আমি শাহানার সাথে হাটতে থাকি।
কোন ফাকে এগার তলায় উঠে এলাম টেরই পেলামনা। কৃত্রিম গাছ ও লতাপাতা জড়ানো দরজা খোলে শাহানা আমায় ডাক দেয়, আয় ভেতরে আয়।
এয়ারফ্রেশনারের ঝাজালো গন্ধময় একটা ঘর। আমাকে বসতে বলে চঞ্চল পায়ে ভেতরের ঘরে চলে যায় শাহানা। আমি দেয়ালে চোখ ফেলি। ঝা চকচকে একটা প্রাসাদের সামনে দাড়িয়ে শাহানা। ইউরোপিয়ান পোষাকের শাহানাকে আমার দুরাগত এক রাজকুমারী বলে ভ্রম হয়। পাশে আরেকটা ছবি। সোনালী চুলের পুতুল পুতুল মেয়েটাকে জড়িয়ে ধরে রেখেছে শাহানা। আমি খুটিয়ে খুটিয়ে দেখি। কখন যে শাহানা এসে পেছনে দাড়িয়েছে টের পাইনা। বলে, আমার মেয়ে, বাপের সাথে থাকে। শাহানার দিকে তাকাই, কি এক বিষণ্নতা দেখি তার চিবুকে।
কলেজের বেড়া ডিঙানোর আগেই শাহানার বিয়ে হয়েছিল। হাওর পারের না কিশোর না তরুণ আমি সেই বিয়েতে ছিলাম স্পেশাল গেস্ট। কনের বন্ধু বলে কথা। বিয়ের আসরেই শাহানার বড়ভাই আমার সাথে দুধে আলতা রঙের হিমায়িত মাছ কারবারি শাহানার বরের পরিচয় করিয়ে দেন। তার আগে আমার মহাজন বাবার পরিচয়টা দেয়া হয়। মুক্তোর মত দাঁত বের করে শাহানার বর হাসে। আমি তার পাশে মিনিট পাঁচেক বসি। আর বেদনায় নীল হই। আহা শাহানা সেদিন আমি তোমার জন্য বেদনাহত হয়েছিলাম, তুমি কি তা বুঝেছিলে...
এক মাসের মাথায় বরের সাথে উড়াল দেয় শাহানা। তারও পনের দিন পরে আমার কাছে রয়্যাল মেইলের চিঠি আসে। সেই প্রথম কেউ আমাকে চিঠি লিখে। শাহানার চিঠি। আমি ভালো, তুই কেমন আছিস? এর বেশি কিছু ছিলনা সে চিঠিতে। তবু আজো সে চিঠি আমি যতন করে রেখেছি। চারটা চিঠি লিখেছিল শাহানা। সবগুলোই আছে আমার কাছে। যক্ষের ধনের মত আগলে রেখেছি আমি শাহানার চিঠি।
দ্বিতীয় চিঠিতে শাহানা লিখেছিল, ওর বর মদ খায়। রাতে বাড়ি ফেরেনা প্রায়ই। শাহানা ভালো নেই এই বিষয়টা রাস্ট্রবিজ্ঞানে অনার্স পড়ুয়া তরুণের না বুঝার কথা নয়। সে রাতে আমি মেসে ফিরিনি। সারা রাত রাস্তায় রাস্তায় হেটেছি। সেরাতে বৃষ্টি ছিল। আমি বৃষ্টিতে ভিজে শীবগঞ্জের মেসে ফিরেছি।
তৃতীয় চিঠিতে শাহানা লিখেছিল, সে স্কটল্যান্ড চলে যাচ্ছে। তার ছোটমামার কাছে। স্বামীর সাথে ছাড়াছাড়ির খবরও ছিল সে চিঠিতে। শেষ চিঠিটা তারও বছরখানেক পরে লেখা। আবার লন্ডনে ফিরছে। মাঝবয়েসি এক সাদাচামড়াওয়ালা মানুষ শাহানাকে জড়িয়ে ধরা এমন একটা ছবি ছিল সেবারের খামে! এর পর আর শাহানা চিঠি লিখেনি।
দশ বছর পর শাহানা আর আমি পাশাপাশি বসি। আমার হাত নিয়ে খেলতে থাকে শাহানা। সেই আগের মত। পারমিতার কথা বলে। পারমিতা, শাহানার মেয়ে। ৮ বছর বয়েস। বলে, শেষ পর্যন্ত বিলেতি স্বামীর ঘরেও না টিকতে পারার বেদনার কথা। মেয়েটাকে ইচ্ছে করেই ফেলে এসেছে। থাকুক সেখানে। ইচ্ছেমত বেড়ে উঠুক। আর কিছু হোক আর না হোক না বোঝার বয়েসে বিয়ে অন্তত কেউ দেবেনা!
এক এক করে পরিচিত মানুষের কথা জানতে চায় শাহানা। আমি তাকে কোন খবরই দিতে পারিনা। বিচ্ছিন্ন এক দ্বীপের মত আমার জীবন। এ দ্বিপে কেউ আর তার খবরের পায়রা পাঠায়না এই সত্য জেনে কেমন বেদনায় ভরে উঠে শাহানার অবয়ব। আমি চাপা ফুলের ঘ্রান পাই।
শাহানা আমার মাথায় বিলি কেটে দেয়। যেন তাদের পুকুরঘাটে বসে আছি আমরা। আমার কেমন অস্বস্তি হয়। বিয়ে করলামনা কেন? জিজ্ঞেস করে। উনত্রিশ খুব বেশি বয়েস নয় বলে আমি পাশ কাটাই। শাহানা দৌড়ে আবার উঠে যায়। আমার জন্য খাবার রেডি করতে। আমি না না করি। বলি খেয়েছি একটু আগেই। কে শুনে কার কথা। বলি, যাওয়া দরকার। বলে, বৃষ্টির মধ্যে যাবি কিভাবে? খেয়াল হয় আমার। ভারি পর্দা তুলে বাইরে তাকাই। ঝুম বৃষ্টি। এইসব বাড়িগুলো সবকিছু থেকে আগলে রাখে! এরা রোদ পোহাতে দেয়না, বৃষ্টিতেও ভিজতে দেয়না। আমি পর্দা সরিয়ে বৃষ্টি দেখতে থাকি, নিঃশব্দ বৃষ্টি। এই প্রথম আমি শব্দহীন বৃষ্টির স্বাদ নিই।
দুপুরটা গড়িয়ে যায়। আবারও রাস্তায় নামার নামার তাড়না বোধ করি। শাহানা আবারও কথার প্যাঁচে ফেলতে চায়। এবার আর পারেনা। হঠাৎ শাহারা আমার মুখোমুখি দাড়ায়। চোখে চোখ রাখে, আমি টিকতে পারিনা। চোখ নিচে নামাই। শাহানার পায়ে চোখ আটকে যায়। আশ্চর্য সুন্দর সেই তিলটা এখনও শাহানার পায়ে তারার মত জ্বলজ্বল করছে। আমার হাতটা শক্ত করে ধরে শাহানা বলে, তুই একবার আমার কাছে কি চাইবি বলেছিলি, চাওয়া হয়নি। সেই চাওয়াটা ফুরিয়ে গেছে? আমি শাহানার পা থেকে চোখ তুলিনা। শাহানা আমাকে শক্ত করে ঝাকুনি দেয়, কি হল? আমার কাছেনা তোর কি একটা পাওনা বাকি রয়ে গেল অপু, চাইবিনা? আমি আশ্চর্য সুন্দর তিলটার দিকে তাকিয়েই থাকি...

Sunday, July 22, 2007

:: মেঘ মেঘ দিনে বেলাদি ::

মেঘ মেঘ দিনে আমি আবারও ফিরে যাই হাওরপারের শৈশবে,আমি তখন আমি ছিলামনা ছিলাম জলের সন্তান এক, আমার পায়েরসীমানায় ছিল কোমল পলির বিস্তার, চোখের ছিল অবাধ স্বাধীনতা,আমি তখন আমি ছিলামনা ছিলাম মাটির সন্তান।

বৃষ্টি ধোঁয়া সকাল ও দুপুরে আমি বারবার বেলাদির কাছে ফিরে যাই বেলাদির মেঘবর্ন চুলের আশ্চর্য ঘ্রান আমায় আচ্ছন্ন করে আমি সারি সারি কদমের ভেজা শরিরে শৈশব খুঁজে পাই, আমি আমার লাটিম খুঁজে পাই

বৃষ্টির বিকেলে আমি চোখ খোলা রেখেও বিভোর হই। বেলাদির হাত আমার আবিন্যাস্ত চুলে বিল কেটে বলে, যা অপু নলুয়ার হাওরের জলে মিশে যাওয়া আকাশের কার্নিশে জেগে ওঠা রঙধনু থেকে সিঁদুরের মত একটুকরো লাল রং নিয়ে আয়, আমি কপালে পরব...

Saturday, July 21, 2007

:: সন্যাসে তোমাদের এতই ভয়, আতিপাতি করে বুকে আমার জন্য ভালবাসা ::


সেইযে বালিকা ছিল এক, দুই বিনুনি ছিল চুলে তার। আমি কতকতবার তারে মন থেকে মুছে ফেলি আর সে বারংবার থেকে যায় আমার মনে। আমার শুধু চোখে ভাসে মনে ভাসে রমনীর সিঁথির মত মাঠের বুকে জেগে ওঠা হাটাপথে দুজনে আমারা দুজনকে আলতো পায়ে পেছনে রেখে হাটতে শুরু করলে হঠাৎ হঠাতই সে পেছন ফিরে প্রশ্ন করেছিল, কোথায় যাবে এখন...


মনে অমন তোফানতোলে এমন প্রশ্ন আমায় কেউ আর কোনদিন করেনি তবে কেন আমি সেই দুই বিনুনির কথা ভুলে যাব তবে কেন আমি সেই রমনীয় সিথির সবুজ মাঠকে ভুলে যাব তবে কেন আমি সেই মায়াময় চোখ থেকে পালিয়ে বেড়াব


নদীবর্তি সেই করুনা আমায় আর কতবার পোড়াবে যতটা না পোড়ালেই নয় ততটাতো আমি আগেই পুড়েছি তবে কেন আজ এইসকল পাথুরে আয়োজন! আজ কেন সকল প্রিয় মানুষ ভালবাসা নিবেদিতে আমারে এমন করে তুলে উচাটন। আজ কেন আমি আর আগের মত পুরনো সেই নদীবন্দরের খেয়াঘাটে বসা ছোট দাদার মত সাদা চোখ মেলে সন্যাসের কথা বলতে পারিনা

:: অর্না বন্ধু আমার ::



সে বড় মায়াবতী ছিল।


সে ছিল ছায়াময় বৃক্ষের মত।




আমার যত অপরাধ কতদিন


আগলে রেখেছে বন্ধু আমার।




আমার কত নাঁকি কান্না মুছে


দিয়েছে মমতায়।




আমি আর কত কাঁদতাম


যতটা কাঁদিয়েছি তারে!




আমাদের শৈশবে কত বেলীফুল আর গোলাপের পাপড়ি ছড়ানো ছিল উঠোনে উঠোনে।


আমরা হেটেছি ছায়ায় ঢাকা কত কত পথ। আমরা মায়ায় বেধেছি আমাদের কত কত শৈশব।




এখনও আমাদের পথগুলো আগেরই মত আছে, আমরা তবু হাটি


অন্য পথে, অন্য আগুনে পুড়ি আর দুর থেকে বলি ভাল থাকিস।

:: তখনও ঝরেনি পাতারা, বেলাদি ছিল ::


বেলাদির মাথায় একরাশ ঘনকালো চুল ছিল। রাজের বিস্ময় মাখানো একজোড়া চোখ ছিল তার। তখন অবশ্য অতটা বুঝতামনা। শুধু চোখ গুলো দেখতে আমার ভিষন ভালো লাগত।

আমাদের বাড়ির উত্তর সীমানায় ছিল একসারি কদম গাছ। তার পরই শুরু বেলাদিদের বাড়ি। সীমানা থেকে ঘর অবধি যেতে বেশ লম্বা একটা ফাঁকা যায়গা ছিল। মখমলের মত বিছানো সবুজ সবুজ সেই ঘাসের মাঝখানে ছিল বেশ বড় একটা পাথর। অনেকটা বেদীর মত। সাদা রঙের সেই পাথরে বসে রোজ বিকেলে বেলাদি রবীন্দ্রনাথের বই পড়ত। মাঝে মাঝে সুনীল।

রোজ বিকেলে আমরা সব বালকের দল সেই ফাঁকা যায়গায় খেলা করতাম। গোল্ল্লাছুট খেলা হত। পাথরের সেই বেদীটাকে কেন্দ্র ধরে আমরা ঘুরে ঘুরে ছড়া বলে একসময় দিতাম ভু দৌড়। আমরা আসলে বেলাদিকে ঘিরেই ছড়া কাটতাম।

এটা একেবারেই আমার বালক বেলার কথা। ওই বয়েসে আমরাতো আর দুরে কোথাও যেতে পারতামনা। তবে আস্তে আস্তে আমাদের দৌড় বড় হতে থাকে। বেলাদিকে ঘিরে ছড়া বলার সময় ফুরুতে থাকে। গ্রামের শেষে যে মাঠ, তারও পরে যে পরিত্যাক্ত জমিদার বাড়ি। সেইসব গলিঘুপচিতে ভাগ হতে থাকে আমাদের শৈসব।

কনক, নিলু, রাজু সবাই খুব সহজেই রোজ রোজ চলে যেত সেইসব অচেনাকে চিনতে। আমার যাওয়া হতনা। কি এক পিছুটানে আমি রোজ বেলাদির উঠোনে ঘুর ঘুর করতাম। আমার শুধু মনে হত আবার আমার বন্ধুরাসব ফিরে আসুক সবুজ এই মখমলে। আমরা লোকুচুরি খেলায় মাতি। হাতের বইটা পাশে রেখে বেলাদি আমাদের মাঝে যে চোর হল তার চোখটা চেপে ধরুক। (হাতের ছোঁয়া পাব বলে আমিই হতাম নিয়মিত চোর।) অথবা আমরা তাকে ঘিরে আবার ছড়া আউড়াতে থাকি। কেউ সে মনোডাকে সাড়া দেয়না! আমি থাকি সেই ছোট্ট মাঠে।

আমাকে ঘুরতে দেখে বেলাদি মাঝে মাঝে বলে, কিরে তোর খেলা নাই? আমি মাথা নাড়ি। বেলাদি হাসে। মাথা নিচু করে দাড়িয়ে থাকি। হাত ইশারায় কাছে ডাকে বেলাদি। আস্তে আস্তে এগিয়ে যাই। মাথার চুলগুলো বিন্যস্ত করতে করতে বেলাদি বলে, যা খেলতে যা। সন্ধায় ঘরে যাওয়ার সময় আমাকে দেখে যাবি!

আমি দৌড় দিই। বেলাদি আমার মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেই আমি আতরের ঘ্রান পেয়েছি। সেই ঘ্রানটা সঙ্গি করে আমি দৌড়াই।

:: সময়, ইদানিং ::


সময় বড় সংক্ষিপ্ত এখন
বামুন-বনসাই জামানা।
উদ্যানে বিপনী বিতান
পেটের ভেতর মিনি চিড়িয়াখানা।


প্রকৃতির উৎসবে মুঠোফোন
বাণিজ্য। শর্ট ম্যাসেজ;
ঘন্টা বাজে: চিঠির মৃত্যু।

এখন আধুনিক রিমিক্স হাছন,
কান ঝালাপালা করে ডিজিটাল ফিউশন।

:: সেইসব সময় অথবা তুমি বিষয়ক অথবা কিচ্ছুনা ::


আমার তখন না ঢাকা না সিলেট অবস্থা! আরিফ ভাই, নিজের ভাই, রনি ভাই এমনতর ভাই এবং সঙ্গিয় গৌরী, চেরী, রাজুরা প্রায় প্রতিদিন টানছেন মহানগরের দিকে। সেখানে নাকী আছে আমার জন্য অবারিত প্রান্তর। আমার সকল প্রতিভা(!) বিকষণে সেই নগরীই হবে প্রকৃষ্ট স্থান!

এদিকে প্রাণের শহরে আছেন জননী আমার, আছেন শিশুমনের পিতা। আছে আমার প্রান্তিক। আছে সবুজ ঘনবন, জাফলং টাঙ্গুয়া...। আছে অর্ণা নামের এক মানবী!!! সাথে সাথে আমারই মত বিষয় বুদ্ধিহীন একদঙ্গল বালক বালিকা!!!

ঘরে আবার মাঝে মাঝে কানাঘুষা হয়। সাতসমুদ্র তের নদীর পারের নিকটজনেরা বলেন, চলে আস জাদুধন, পাবে সফেদ স্নেহ আর স্নো...।

এমন এক সময় শহর সিলেটে কতিপয় মানুষ দাড় করাতে চায় পত্রিকা। আমাদের টুকুদা তখন যে কোনভাবেই আমাকে ধরে রাখতে চান শহর সিলেটে! আমি বলি তাইলে একটা চাকরি দেন। বেকার হয়েত আর থাকতে পারিনা! তিনিই খবর জানান সেই পত্রিকার। বিজ্ঞাপনও জোগাড় করে নিয়ে আসেন তখনকার ঘরবাড়ি প্রান্তিকের টিনশেড বারান্দায়।

অর্ণাতো মহা খুশি। আমাকে বুঝায়, সবাই চলে যাক, আমরা দুই বন্ধুতে এই শহরকে আগলে রাখব!!! সেই বালিকা এখন নগর ছেড়ে বৈদেশের পথে পথে ঘুরে ইচ্ছেমত!!!

চাকরিটা হয়ে যায়। আমিও পড়ি সৃষ্টির মায়ায়! ২০০১ সালের মার্চ মাসের ২০ তারিখে প্রবেশ করি চেনা জগতের অচেনা বন্দরে।

সব নতুন ছেলেপিলে। মেয়েও আছে। আমার তখন প্রেমহীন সময়। অর্ণা ছাড়া আর কোন মেয়ের সাথে পারতে কথা বলিনা! আমার যত বন্ধু আছে তাদের প্রায় সবাই তখন শহর ছাড়া। যারা আছে তাদের সাথে কোন এক আজিব কারনে আমার আর তখন খাতির নাই! আজীবন ঝগড়াটে আমি তখন আক্ষরিক অর্থেই খবিশ প্রকৃতির মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই কোননা কোন ভাবে মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করে চলেছি! ঘরে মা আগলে রাখেন আর বাইরে অর্ণা।

নতুন অফিসে আমার পুরনো বন্ধু পলাশ দত্ত আছে। এছাড়া পুরনো পরিচিত কয়েকজন। তিন বালিকার কাউকেই চিনিনা। চেনার কোন গরজও নাই। আমি আছি আমার কেশরাশি সামলানোতে ব্যাস্ত! প্রায় খোপা করা যায় এমন চুলের মালিক আমি লাল চোখে ধুন্দুমার ঝগড়ায় মাতি সারাদিন। এমন বালকের সামনে কোন বালিকাই সহজে কথা বলতে আসবেনা। আসেনিও।

আমাদের মাঝে ছিল শিপলু। তোতলাতে তোতলাতে সেই আমার সাথে কথা বলিয়ে দেয়, মনিকা, সালমা আর তুলির। আমি কাষ্ট হাসি দিই। এর বেশি প্রেমভাব তখন আমার নাই! আমি শুধু মনে মনে ভাবি কি করবে এই বালিকাগুলো! এরা সাজবে কখন আর কাজ করবে কখন! ( যদিও পরে দেখেছি, এখনও দেখছি এই বালিকাদের ওতে আছে প্রবল আপত্তি )

শিপলু, চয়ন, তুলি, মনিকা মিলে যখন আড্ডায় মাতে আমি তখন আমার কাজে ব্যাস্ত। ভুলেও মুখ তুলে তাকাইনা। তাচ্ছিল্যই করি কিছুটা। সুজোগ পেলে দুই পান্ডারে গাইল দেই, মাইয়া পাইলে আর কিছুই বুঝি মনে থাকেনা। তারা আমাকে সহকর্মীদের সাথে ভালো ব্যবহারের গুনাগুন বর্ণনা করলে আমি এ বিষয়ে গ্রন্থ লেখার পরামর্শ দেই!

এরপর আছে অনেক কথা। খুটিনাটি সেসবের আর নাইবা হল বর্ণন...

Thursday, June 21, 2007

:: হাবিব আলীর পতাকা পুরাণ ::


হাবিব আলীর শখটা অনেক দিনের। বুকের মধ্যে যত্নে লালন পালন করতে করতে পুষ্ট শখ কখনও পুরন হবে কিনা এই নিশ্চয়তা না থাকলেও হাবিব আলী স্বপ্ন দেখার হাল ছাড়েনি। সে স্বপ্ন দেখেই যায়। শখ পুরনের স্বপ্ন।মানুষের সকল ইচ্ছা পূর্ন হয়না। তবু মানুষ নতুন নতুন ইচ্ছা নিয়ে মেতে উঠে। অনেকেই পুরনো শখ ভুলে যায়। কিন্তু হাবিব আলী ভুলেনা। যতদিন যায় শখ বাড়তে থাকে, তাতে চেকনাই লাগে। শখের জেল্লা বাড়ে। শখ পুরনের ফন্দি ফিকির আবিস্কারে ব্যয় হয় হাবিব আলীর রোজকার কিছুটা সময়। কিন্তু সফল লভেদী বুদ্ধি আবিস্কার করা হয়ে উঠেনা।অবশেষে এল বুদ্ধি। শানদার এক বুদ্ধি। যখনই এই বুদ্ধিটা মাথায় আসল তখনই শুরু হল সমস্যা। নিজের মাথার চুল নিজেই ছেড়া শুরু করল হাবিব আলী। এই ব্যপারটা এতদিন ধরে ঘটছে বাংলাদেশের ঘরে ঘরে আর তার মাথায় কিনা এতদিন পরে আসল! নিজেকে সে কুৎসিত ভাষায় গালি দিতে লাগল।
একসময় হাবিব আলীর মাথা ঠান্ডা হল। সে তার শখ, তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করতে বসল। কিন্তু সেটা মোটেই সহজ নয়। দিব্যওচাখে নিজেন স্বপ্নের রুপায়ন দেখে তার মনের ডুগডুগি অবিরাম বাজতে থাকায় মন ও মগজকে পুরুপুরি শিতল করা যায়না। অবশেষে অনেক চেষ্টায় হাবিব আলী তার কর্মপর্যায় নির্দিষ্ট করতে সম হল।
১৯৯৯ সালের পহেলা মে। সকাল দশটা। হাবিব আলী তার বাড়ির সামনে সাত হাত লম্বা, আড়াই হাত পেট মোটা লাল একটা ব্যানার টাঙ্গালো যাতে সাদা হরফে লেখা “বিশ্বকাপে বঙ্গশার্দুল”। মানুষজন এই ব্যানার দেখে পুলক অনুভব করল। বস্তুত: বিশ্বকাপ ক্রিকেটে বাংলাদেশ খেলছে, দেশের প্রতিটি মানুষ এই কথা জানে। এবং এজন্য সবসময় মনে আনন্দ অনুভব করে। তার উপর হাবিব আলীর এই ব্যানার সবার কাছে আরামদায়ক নিঃশ্বাসের মত মনে হল। সেদিন বিকেলেই হাবিব আলী বাড়ির ছাদে বাংলাদেশের একটি পতাকাও উড়িয়ে দিল। মানুষের প্রিত অনুভব এতে আরও বেড়ে গেল। কিন্তু সেটা বিশ্বকাপ শুরুর দ্বিতিয় দিন পর্যন্ত! কারন তৃতীয় দিনেই অর্থাৎ ষোল মে সকালে হাবিব আলী তার দীর্ঘ দিন লালিত শখ পুরন করে ফেল্ল!
সেদিন ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ এবং পাকিস্তানের খেলা। এই সুজুগে হাবিব আলী তার পেয়ারা পাকিস্তানের পতাকা বাংলাদেশের পতাকার ঠিক পাশেই উড়িয়ে দিল। বিদেশী পতাকা উড়ানোতে উস্তাদ মানুষের জন্য এই ঘটনা তেমন বিকারের নয়। কিন্তু এখানে এটি দৃষ্টি আকর্ষন করল। কারণ পাকিস্তানের পতাকার পাশে বাংলাদেশের পতাকা! তাও আবার প্রায় একহাত ওপরে থাকা পাকিস্তানী পতাকাটা দৃষ্টিকটুই ঠেকছিল।
হাবিব আলী পাকিস্তানী পতাকা ওড়ানোর পরেই প্রস্তুতি নিয়েছিল যেকোন রকম পরিস্তিতি মোতাবেলার। কিন্তু অবাক হয়ে গেল সে! পতাকার ব্যাপারে কথা বলার জন্য কেউ এলনা! দু’দিন পার হল, কেউ আসেনা। হাবিব আলী আবারও নিজেকে গালমন্দ করে। কেন সে এতদিন ভয় পেল! কেন ওড়ালোনা পেয়ারা পাকিস্তানের পতাকা!
বিশ্বকাপ শেষ হয়ে গেছে বেশ ক’দিন হয়ে গেল। বর্ষার বৃষ্টিতে ধুয়ে গেছে বাজে রঙে লেখা বিশ্বকাপে বঙ্গশার্দুল ব্যানার। বাংলাদেশের পতাকাও উড়ছে শোচনীয় অবস্থায়। আর কী আশ্চর্য পাকিস্তানী পতাকাটা এখনও টিকে আছে সকল সজিবতা নিয়ে! হাবিব আলী এখন এখন প্রায়ই উদাস হয়ে যায়। তার চেহারায় লেপ্টে থাকে বিষাদ। কিন্তু সেটা খুব বেশি সময়ের জন্য নয়। বিষাদমাখা মুখটায় হাসি ফুটে উঠে। হাবিব আলী অপার্থিব এক ভালোলাগায় নতজানু হয় চাঁদতারা খচিত পতাকার সামনে।


___________________________________________________________________
এই গল্পটা লিখেছিলাম ১৯৯৯ সালে। ছাপা হয়েছিল প্র।আ। বন্ধুসভায়। আরও অনেক লেখার মত এটিও হারিয়ে গিয়েছিল। পরশু রাতে পুরনো কাগজের স্তুপ থেকে এর মূল কপি বেরিয়ে আসে। পড়ে মনে হল এখনও এই গল্পের দিন শেষ হয়ে যায়নি। কিছুটা বদলে দিয়ে দিলাম।

Wednesday, June 20, 2007

:: ওতটা পুতুপুতু নাই আমার যে পথের কান্নায় বুক ভাসাব স্বপনের জন্য ::


আমার অনুভূতি অতটা পুতুপুতু নয়। যতটা হলে পথের কান্নায় বুক ভাসানো যায়। বেশ শক্ত ঘোচের মানুষ আমি থেতলে যাওয়া মানুষের সামনে বসে তারই স্বজনকে প্রশ্ন করতে পারি, মাথায় যখন গুলি লাগে তখন উনার হাতে একটা পিস্তল ছিল, সেটার মালিক কে জানেন? ক্রসফায়ারে মরা মোশারফের মাকে বলি, আছে আপনার ছেলে হাসপাতালে... আচ্ছা ওর কোন ছবি আছে আপনার কাছে। ত্রস্ত হাতে মোশারফের বোন পাসপোর্ট সাইজের ছবিটা বের করে দিলে আমি খুব দ্রুত চলে আসতে পারি। যদিও আসার আগে বলে আসি, তাড়াতাড়ি হাসপাতালে চলে যান। ওসমানীর ইমার্জেন্সিতে...

একসময়, কোন এক সময় নাটকের ঘরে আমিও ছিলাম। আমিও ছিলাম নতুন কবিদের ভিড়ে দাড়ানো এক পথিক। সেসব আর আমাকে এখন অতটা টানেনা। যতটা টানে বাদশাহ ফখরুদ্দিন। আমি আর সে পাড়াতে যাইনা। বালিকাগুলোকে বেশ্যা বলিনা যদিও নটী বলতে দোষ কী? আমি আর কবিতার পথে হাটিনা। অতটা দম আমার নেই যতটা দম থাকলে আবুল হাসান হওয়া যায়।

আমিও হয়ত ছিলাম স্বপনের পরিচিত তালিকার কোন এক মানুষ। মাঝে মাঝে খবর পাঠালে কিংবা কবিসুলভ বৃষ্টিতে ভিজে মাথা ধরালে আদা দিয়ে মগ ভর্তি চা আমাকেও দিয়েছে মমতায়, স্বপন মাহালি। স্বপন মাহালি কী ছিল আমাদেরই একজন। জানিনা। এসব আর খোঁজ রাখিনা। আমাদের পাইলট (নাটকের মাল টানতেন ঠেলায়, তাই পাইলট) বলে, আমি নাকি মুন্সি হয়ে গেছি। আমি শুধু দাত কেলাই আর বলি, বয়স হইছে, বেদাতি কাম ছাড় মিয়া। কিয়ের নাটক আর কিয়ের কী। তারচেয়ে আমার লগে আস। দাদারে বইলা চাইনিজে ঢুকায়া দেই। রোজ বিরিয়ানী খাইতে পারবা... পাইলট আমারে পাত্তা না দিয়া আমার বৌয়ের লগে খাতির জমায়!!!

আমারও ছিল এক বৈরাগীমন! সেই টানে এখনও মাঝে মাঝে ছাড়ি ঘর। এখনও আমারে ডাকে কোনকালে ঘর ছাইড়া আউলা হয়ে যাওয়া কোন কোন মানুষ। তাই নাগরীক জীবনের অনুষঙ্গ ক্রিকেট, আর দেশপ্রেমের প্রতীক হয়ে ওঠা বাংলাদেশ দলও আমায় ধরে রাখতে পারেনা। আমি উড়াল পাখি হয়ে ছুটে যাই যাদুকাটার তীরে। প্রেম জিনিসটা কঠিন বিষয়ে মন মজাই।

যাদুকাটার আশ্চর্য সুন্দর বালুচরে, হুহু বাতাসে দাড়িয়ে যখন আমি আর সংসারের কথা মনে করতে পারিনা তখনই বেজে ওঠে পকেটে। ধাতব শব্দে দুর হয়ে যায় মনের ভেতরের কুহু ডাক! চাররঙা স্ক্রিনে ভেসে ওঠে বাবু ভাইয়ের চেহারা। ফোন তুলে আওয়াজ দিই, বস আমি আর নাই। আমার মৃত্য হয়েছে। তিন আর আমার গলায় গলা মেলাননা। শুধু বলেন একটা খারাপ খবর আছে। ধাতস্ত হয়ে বলি, কি ব্যাপার বস...

আমার ভেতর কেমন এক আকুলি পাকুলি করে ওঠে। ঠিক তখনই যদি দুর পাহাড়েরর মাতাল বাতাস না আসত তবে কবি শামস শামীম, যে কীনা আমার নিষ্ঠুর আমাকেই চিনে সে হয়ত অন্য কিছু আবিস্কার করে ফেলত। রাতের জলসায় শুনা সকল গান আমাকে ছেড়ে পালিয়ে যায় অথবা আমিই তাদের আর ধরে রাখতে পারিনা! প্রেম জিনিসটা আমার কাছে সত্যি সত্যি কঠিন বিষয়ে পরিণত হয়।

স্বপনকে দেখিনা অনেক দিন। অনেকদিন তার কোন খবর নেয়া হয়না। তবু এইটুকু জানি, সে আছে তার বনানীতে, তার মত করে সে তাড়ির নেশায় কাটায় নিজের রচিত সময়। বাবু ভাই কেনযে আমায় এই খবরটা জানাতে গেল! আমি হয়ত অনেকটা বছর স্বপন আছে তার পৃথিবীতে এই ভুল তথ্যে কাটাতে পারতাম নির্ভার সময়। বেঁচে থাকা মানুষতো আর স্মৃতি খুঁজে বেদনা জাগায়না।

নতুন করে পুরনো শব্দ


আমাদের ঘরময় বাতাসের মত
টইটুম্বুর হয়ে ছিল বিষন্নতা
সেখানেই এলে তুমি, কাঁদলে, তাকালে, হাসলে, হাসালে
কোন ফাঁকে বিষন্নতা ছাড়ল
ঘর, টেরই পেলামনা। তুমি হাটলে, দৌড়ালে
আমরা ভুলেই গেলাম বিষন্নতা বলে একটি শব্দ আছে বাংলা অভিধানে


জ্বরগ্রস্ত তুমি যখন লাল চোখ নিয়ে বলো
কমলা রঙের ইঁদুরটা তোমার নীল জামা খামচে
খেয়ে ফেলছে! আমরা আঁতকে উঠি! ঝুপ
করে ঘরে ঢুকে পড়ে বিষন্নতার শকুন


তুমি এমন করে পুরনো ভুলে যাওয়া শব্দগুলো
আমাদের মনে করিয়ে দিওনা বাবাই...

৭ মার্চ

কি এক ঘোর লাগা কবিতা...
কি এক নেশা জাগানিয়া উচ্চারণ।
কি এক ভালবাসা খেলা করে
শব্দের পরতে, জেগে ওঠে জনমানুষ...

:: আমার কিছু এলোমেলো সরল মৌলবাদী ভাবনা ::

আমার কিছু সমস্যা আছে। অনেকেই বলেন। আমিও মাঝে মাঝে অনুভব করি। তবু সমস্যাগুলো পুষে রাখি। গোয়ার্তুমি ধরে রাখি।


আমার একটা গোয়ার্তুমি লোকগান বিষয়ক। বলা যায়, লোক কবি বিষয়ে। এদরকে যখন ভাংচুর করা হয়। তাদের গান চুরি করা হয় কিংবা একটু আধুনিক প্রলেপে হাজির করা হয়, আমার সেটা খারাপ লাগে। আমি অশ্লিল হয়ে উঠি।


মরমি সাধক হাছন রাজা। এ নামেই পরিচয়। আলাদা সূর আর ভাব নিয়ে তিনি বিরাজ করেন আমাদের গ্রাম্য জীবনে। মফস্বলি আমরা তাকে মনে করি আমাদের একান্ত মানুষ। যদিও তিনি ছিলেন জমিদার, রাজা রাজড়া, সামন্ত প্রভু। তবু ভাবের মানুষটা হয়ে যান আমাদের মতো প্রান্তজনদের।


আমরা শুনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুশিলের দরবারে (তখনও কী এভাবে সুশিল সমাজ বলে চিৎকার চলত ) হাছনকে পরিচিত করেছিলেন। আমার কেমন লাগে। কবি গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও মানতে পারিনা তার জবানিতে বলা পূর্ববঙ্গের গ্রাম্য কবি শব্দ গুলো। কেমন এক বেদনা জাগায় মনে। মন বলে, তুমি কি কবি আমার গ্রাম্যতাকে হেলা করলে।


অপ্রাসঙ্গিক হল কিনা বুঝতে পারছিনা। আমি শুধু আমার বোধের কথা বলি। ব্যক্তিগত বোধ।


একই ভাবে গায়কিতেও আনা হচ্ছে আধুনিকতা। হাছনের গানের প্রধান উপাদান হল একবারেই আঞ্চলিক কিছু শব্দের ব্যবহার। এই শব্দগুলোর উচ্চারনে হেরফের হলে অর্থই বদলে যায়!!! আমাদের শিল্পিরা, উর্দু হিন্দি, ইংরেজী গানগুলো গাইতে মাখরেজ আদায়ে চরম সতর্কতা নিলেও এমনতরো আঞ্চলিক গানগুলোতে তারা বড় বেশি নিরিক্ষক!!! নিরিক্ষার কবলে পড়ে গানগুলোর বারটা বাজে!!! দেশের সকল আঞ্চলিক গানের ক্ষেত্রেই এমনটা প্রযোজ্য।


আরও একটা কাজ হয় আমাদের এখানে। দেদারছে 'সংগ্রহ' বলে চালিয়ে দেয়া হয় লোক কবিদের রচনা। পলাশ নামের মহান গায়ক প্রবর কোন কালে লোক গীতির সংগ্রাহক ছিলেন আমার অন্তত জানা নেই। এটা আমার জানার সিমাবদ্ধতা হতে পারে। কিন্তু বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম এর গান তিনি সংগ্রহ বলে চালিয়ে দেন। মাকসুদ যখন গলায় ধারন করেন রবীন্দ্র সুর তখন জাত গেল বলে রব উঠে! কিন্তু প্রান্তবর্তি গানের মানুষ শাহ আব্দুল করিম বেঁচে থাকতেই যখন সংগ্রহের খাতায় চলে যান তখন কোন খানকির পোলা মাইয়াই কোন কথা বলেনা।


শাহ আব্দুল করিমের গান বিক্রি করে হুমায়ুনরা যখন টাকার সাথে মহান মানুষের তকমাটাও বাগিয়ে ফেলেন, করিম তখন সাদা জমিনের 280 টাকা দামের লুঙ্গি আর সফেদ পাঞ্জাবীর পেকেট ছেড়া ব্যাগে ভরে সিলেট রেল স্টেশনে নেমে পুত্র নূর জালালকে জিঙ্গেস করেন, বাবা রিক্সা ভাড়া আছেনি ফকেট, না আটিয়া যাওয়া লাগব...

দেয়ালের দাগ

দেয়ালের এক পাশে ছাপ্পান্ন নাম্বার দাগ দেওয়ার সময় দরজায় ঠক ঠক করে আওয়াজ হলো। দাগটা টেনে মতিন সাহেব দরজা খুলে দিলেন।'চাচা আমাকে চিনতে পারছেন? আমি সাইদ, রনজুর বন্ধু।'মতিন সাহেব কোনো কথা বললেন না। কিন্তু সেদিকে সাইদের খেয়াল নেই। সে নিজেদের পরিচয় দেওয়ায় ব্যস্ত_ 'আমার কথা কি আপনার মনে পড়ছে না? সিলেটে আপনাদের আর আমাদের বাড়ি ছিল পাশাপাশি। আমার বাবা তারাপুর চা-বাগানে চাকরি করতেন।'
তারাপুর চা-বাগান কথাটা মতিন সাহেবের মাথায় ঢুকেছে। এর আগে সাইদ যা বলেছে তিনি তার কিছুই শোনেননি। এমনকি তিনি ছেলেটাকে চিনতেও পারছেন না। হঠাৎ তার খেয়াল হলো_ তিনি ওর কথা যেমন শুনছেন না, তেমনি বলছেনও না কিছু। তাই প্রশ্ন করলেন_ 'তুমি এখন আসছ কোত্থেকে? প্রশ্নটা করে একটু অস্বস্থি হলো, তুমি বলাটা কি ঠিক হলো...!
'চাচা সিলেট থেকেই আসছি।'
মতিন সাহেবের অস্বস্তি কেটে গেল। চাচা বলছে যখন তখন ্তুমি বললে সমস্যা হবে না। আর অস্বস্তি কেটে যেতেই তিনি সাইদকে চিনতে পারলেন। সাইদ, রনজুর বন্ধু। গিয়াস উদ্দিন সাহেবের ছেলে। ওর মা, পারুল ভাবী। খুব সুন্দরী ছিলেন। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম পায়েস রাঁধুনী। রনজু আর সাইদের খুব ভাব ছিলো। একবার এই ছেলে রনজুর মাথা ফাটিয়ে দিয়েছিল। সেই সাইদ, তার একমাত্র ছেলে রনজুর কিশোর বেলার বন্ধু। তাকে চিনতে এত দেরি...! ভেতরে ভেতরে মতিন সাহেব লজ্জায় নুয়ে গেলেন।
সাইদ কথা বলেই চলেছে। সে এসএসসি পাস করেই চলে গিয়েছিল সৌদি আরবে। চার বছরে চারবার হজ্ব করেছে। টাকা রোজগার করেছে বেশ ভালোই। একমাস আগে ছুটিতে এসেছে। খুব লজ্জা নিয়ে বলল। বিয়ে করে তারপর ফিরে যাবে। মতিন সাহেবের পাশে এখন মর্জিনা বেগম এসে বসেছেন। তিনিই কথা বলছেন সাইদের সঙ্গে। আরবের গল্প হচ্ছে।
'বুঝলেন খালাম্মা, হেরা গুহা হইলো আপনের পঞ্চাশ তলা বিল্ডিংয়ের চাইতেও উচায়। একেবারে খাড়াখাড়িভাবে উঠে গেছে। সেই খানে যাওয়া বিরাট কষ্টের কাজ। তাকত না থাকলে ওঠা সম্ভবই না। আমি আল্ল্লাহ-নবীর নাম নিয়ে একদিন ওঠা শুরু করলাম। ভাবলাম নবী করিম (সা।) রোজ রোজ উঠতে পারলে আমি তার উম্মত হয়ে ক্যান পারবো না। বিশ্বাস করেন খালাম্মা, আল্লাহ আমারে সেই খোশ নসিব দিলেন।'
সাইদ যা যা বলছে, মর্জিনা বেগম এর সবটাই জানেন। এসব কথা তিনি কতবার শুনেছেন! তবুও সাইদের মুখ থেকে শুনতে তার ভালো লাগছে। অন্য কেউ এ রকম কথা বললে সামনেই বসতেন কি-না সন্দেহ। বাচাল বলে হয়তো উঠে যেতেন। কিন্তু এখন তার উঠতে ইচ্ছে হচ্ছে না। এই ছেলেটাকে রনজুর মতো আদর করতে ইচ্ছে করছে। বার বার পুরনো কথা মনে পড়ছে। তিন বছর ছিলেন সিলেটে। তখনকার প্রতিবেশি সাইদরা। রনজু আর সাইদ এক সঙ্গে থাকত সারাদিন। কিন্তু দুজনের চরিত্র দু'রকম। রনজু মেধাবী, ধীর স্থির আর খুব লাজুক। সাইদ ঠিক উল্টো। হৈ চৈ করতেই ওস্তাদ, পড়ালেখায় তেমন মন ছিল না। কিছুটা মনভুলা আর পাগলাটেও ছিল। এখনো মনে হয় সে রকমই আছে। ভুলোমন, পাগলাটে, বাচাল। তবু মর্জিনা বেগম বিষণ্ন মুগ্ধতা নিয়ে সাইদকে দেখছেন। কাস এইট পর্যন্ত একসঙ্গে পড়েছে রনজু আর সাইদ। তারপরই বিচ্ছিন্ন। এরপর রনজু ভালো রেজাল্ট করে কলেজে গিয়েছে। সাইদ গিয়েছে সৌদি আরবে। সাইদ শরীরের চামড়া পুড়িয়েছে মরুভূমির তাপে। আর রনজু পুড়িয়েছে তার ভেতর, অন্য আগুনে। সাইদ হেরা পর্বতের চূড়ায় উঠে নিচের দিকে তাকিয়ে পিপড়ার মতো প্রায় অদৃশ্য মানুষ দেখেছে। আর মর্জিনা বেগম সমতলে থেকেও নিজের ছেলের কাছে আস্তে আস্তে অদৃশ্য হয়ে গেছেন।
সাইদ চা খাচ্ছে আর তারাপুর বাগানের গল্প করছে। মতিন সাহেব খুব অবাক হয়ে গল্প শুনছেন। সাইদের জানার যেন আগ্রহ নেই। তার যত আগ্রহ সব বলতে। কোনো প্রশ্ন নেই। যেন সবকিছু তার জানা। মতিন সাহেব কিংবা মর্জিনা বেগম কাউকেই কোনো প্রশ্ন করেনি সে। এমনকি কোনো কুশল সংবাদও জানতে চায়নি। সবচেয়ে আশ্চর্য হলো, যে রনজুর পরিচয় নিয়ে সে এ বাড়িতে এসেছে তার কথা পর্যন্ত জিজ্ঞেস করছে না। অবশ্য এজন্য মতিন সাহেব বেশ আনন্দিত। আগ্রহ, প্রশ্ন এসব কম থাকাটাই ভালো। রনজুর সঙ্গে সাইদের পার্থক্য এখানেই। রনজুর আগ্রহ যতটা উঁচু, প্রশ্ন ততটাই। সাইদ বড় ভালো, ওর ভেতরে প্রশ্ন কম।
মর্জিনা বেগম তাড়াহুড়া করে রেধেছেন। রনজুর পছন্দের খাবার তার বন্ধুর জন্য। চিংড়ি মাছ দিয়ে পুইশাক আর মোরগের মাংস। টেবিলে খাবার সাজিয়ে তিনি সাইদকে ডাকতে এলেন।
'খালাম্মা, দুইটা তো বেজে গেল। রনজু এখনো এল না? এক সঙ্গে বরং খাই।'মর্জিনা বেগম স্থানুর মতো দাঁড়িয়ে গেলেন। তার চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে।
সাইদ বোকা বোকা চোখে মতিন সাহেবের দিকে তাকিয়ে আছে। এখন সে শ্রোতা।'রনজু খুব ভাবত আর প্রশ্ন করতো। সব কিছু বদলে গিয়ে নতুনভাবে গড়তে চাইত। কিন্তু কীভাবে সেটা করতে হবে জানত না। তাই ছুটত ভাবনার পেছনে। মানুষের পেছনে ছুটত, ভুল মানুষের পেছনে। আমরা সেসব কিছুই জানতাম না। বুঝতাম না। শুধু রনজুকে ভুল বুঝলাম। তার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারতাম না। কিন্তু পরাজয় মানতে চাইনি কোনো দিন। তাই রনজু অভিমান করে চলে গেল। আজ থেকে ছাপ্পান্ন দিন আগে পাড়ার মোড় থেকে সে পালিয়েছে। দুটি সিসার পিণ্ড বুকের ভেতর রয়ে গিয়েছিল। তৃতীয়টা ফুসফুস ফুটো করে পিঠ দিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল...ঠিক ছাপ্পান্ন দিন আগে...।'
---------------------------------------------------------------------------------------------

জলজ বিষন্নতা

অনেকের মাঝে থেকেও
আমি ঠিক ঠিক একা হয়ে যাই
জলের মায়ায় বেড়ে উঠা জলজ বৃক্ষের মত
মাছেদের সাথে ভেসে থেকেও প্রজাতি ভিন্ন

বৃষ্টি অথবা তোমার বন্দনা

পেজা তুলোর মতো বৃষ্টি ঝরছিল
অথবা, মখমল বৃষ্টি...
অথচ আকাশের রঙ বৃষ্টিরঙা নয়
আশ্চর্য অন্য আলোয় রাঙা

বারান্দায় দাঁড়িয়ে তুমি হাত বাড়ালে
সিঁড়ির ঠিক পাশে খুলে রাখলে স্যান্ডেল
কংক্রিটের উঠোনে হেটে গেলে কোমল পায়ে
একবারও আমার দিকে তাকালেনা

বৃষ্টির কণা স্পর্শ করছে তোমার চোখের আলো

...বড় ইচ্ছে হয় বৃষ্টি হতে...

...বড় ইচ্ছে হয় বৃষ্টি হই...

আমার বাবাই


সকাল আটটায় তুলি ডাক দেয়। চোখ টেনে মেলে দেখি সোঁনাজান মাথাটা মায়ের বুকে চেপে পা'টা তুলে দিয়েছেন বাপের উপর। আদর করতে ইচ্ছে করে। ঘুম মুখে এগিয়ে যাই। ফিরিয়ে দেয় তুলি। ইশারায় বলে ফিডারটা দাও... এটাই নিয়ম। রাজপুত্রকে ঘুমের ঘোরে না খাওয়ালে আর খাওয়ানো যাবেনা।

পা টিপে টিপে ডাইনিং রুমে যাই। কষ্ট করতে হয়না। আম্মা জেগে উঠেছেন আগেই। ... দাদু ভাইয়ের জন্য দুধ বানিয়ে দেন। কোনমতে মুখে পুরেদিই... তিনি টানেন ঘুমের ঘোরে। আমি আবারও তন্দ্রাচ্ছন্ন হই!

নয়টা তিরিশে আবারও ডাক পড়ে। ধুন্দুমারের শুরু। তাড়াহুড়োয় কাটে ১৫ মিনিট। পুত্র জেগে উঠেছেন ততনে। তিনি পরম মমতায় আচড়ে পাচড়ে মুখের দু এক যায়গায় জানান দিয়ে দেন। আমি শুধু আহাদিত হই আর বৌকে দেই তাড়া!

সোনাজান ইনিয়ে বিনিয়ে কত গল্প করতে চায়... আমার সময় নাই! বলি, বাবাসোনা দাদু তোমায় ডাকে। কিংবা দাদাভাইকে ডেকে বলি, ওরে একটু সামলাওতো। কেমন অভিমান নিয়ে সরে যায় সে। টোনা-টুনি বেরিয়ে পড়ি চুরি করে, ফাঁকি দেই বাবাইটারে...

ব্যাস্ত রাস্তায় ছুটে দুই চাকা... বৌকে নামিয়ে দিয়ে চল নিজের গন্তব্যে। শুরু হল যন্ত্রের জীবন।

নিউজপ্রিন্ট... কম্পিউটার... প্রেস... এ্যাসাইনমেন্ট... ফোন... প্রশংসা... হুমকি... মিটিং... মগ ভর্তি চা... প্রফেশনাল বজরং... খুনসুটি... সময় পেলে বৌকে ফোন... বাসায় লাইন লাগালে মায়ের বকুনি, আমাকে না দাও নিজের ছেলের জন্যতো কিছুটা সময় দিতে পারো! মাঝে মাঝে ছেলের হাতেই রিসিভার... আধো আধো বুলিতে... বাবা... আওওও... ভেতরে কেবল মুচড় লাগে। ফোন রেখে দিই। বৌকে ফোন দিই... যাবে? মন খারাপ করে বলবে, মিটিং করতে হবে, কিংবা ভিজিটর আসছে, নয়ত-রিসিপশনেই বলে দিল- ম্যাডামতো বোর্ডরুমে...

কোন কোন দিন হয়ত বৌই বল্ল চল বাসায় যাই... আমি তখন শহর থেকে ২০ কিলো দুরে নয়ত মাননীয় এসেছেন! তেনার গলাবাজী শুনছি!তবুও মাঝে মাঝে সময় করুনা করে... আমরা ছুটে যাই! সেকি উৎসব সেইসব দিনে!

ফিরতে ফিরতে সন্ধা। বৌ ফিরে স্থায়িভাবে, আমাকে আবারও ছুটতে হয়। প্রায়ই সন্ধায় বাবাই ঘুমাতে যায়। এমনটা হলে আর মিস্টি কথা কিংবা মুখের আশ্চর্য পবিত্র ঘ্রান নিতে পারিনা। মন খারাপ করে বেরিয়ে আসি। আর যদি ও জেগে থাকে... উফ... বর্নণা নাই...

তবে বেরুবার সময় জ্বালা... বলবে, বাবা যাইওনা, থাক আমার কাছে... ও মাগো কত আদর ঝরেগো... আমি কানে তুলো দিয়ে বেরিয়ে আসি।ফিরতে ফিরতে মধ্যরাত।

--------------------------------------------------

আর পারছিনা লিখতে, মন খারাপ লাগছে, খুব বাজে মনে হচ্ছে নিজেকে।


লেখা হয়েছিল : ৭ ফেব্রুয়ারী ২০০৭। সামহ্যোয়ার ইন ব্লগে।

Thursday, June 14, 2007

জ্বরগ্রস্থ বাক্যবিন্যাস

১.


কৈশোরের জ্বরে

মরে যাওয়ার ইচ্ছে হত।


এখন

শুধু তোমার কাছে

আসতে ইচ্ছে করে।



২.


যতই গভীরে যাই কোমল

কোমল কোমল পলি

আমি চাষে মাতি...


ফসলের ঘ্রানে মেতে উঠুক

উঠোন তোমার আমার




অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ০৮:২২:২০
দ্্বিতীয়?ভাল হইছে। চুপেচুপে আসেন আর গ্যাপে গ্যাপে দেখা হয়! ঘটনাটা কি?



নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ০৮:২৫:৩২
ধন্যবাদ,একটু সমস্যায় ছিলাম কৌশিক ভাই। ঝামেলাময় জীবনরে ভাই।


মাহবুব সুমন বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ০৮:২৬:০৪
ঘটনাটা কি ?ভাবীরে কয়া দিমু !


আলভী বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ০৮:২৬:০৬
জটিল হইছে ম্যান।


নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ০৮:৩১:৩৭
মাহবুব ভাই ডর দেখান কেনরে ভাই?আলভী: মানুষের চোইতেওকি বেশি জটিল?


অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১০:১১:৪৭
কঠিন................তয় মানুষের মত নয়......


নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১১:০৪:৪৭
ঘটনাটা কী? সবাই বলে কঠিন, জটিল...!এরচেয়ে সহজ আর কী হইতে পারে...ধন্যবাদ আবু সালেহ


অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১১:২৭:০৬
সেই যে নাই হইলেন আর দেখা মিললো এখন।পোলার কি অবস্থা?


নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১১:৩০:৩৯
ভাল এখন।আসলে বুঝলাম এখন কতটা জড়াইছি জীবনের প্যাচে!কেমন আছেন?


অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১১:৪০:১৭
ঐ আরকি!অল টাইম হিট...


অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১২:৫৫:৪৯
হুম!ঠিকাছে এখন?


নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১৩:০২:০২
হু


অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১৩:০৫:২২
ওকে , পরে কথা হবে বাকী সব ।


অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১৩:৫৩:০৫
লেমন জুস!


নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১৭:১৯:২০
লেমন জুস খুব পছন্দ করেন নাকি শিমুল? আমারও ভাল লাগে।



অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১৭:৩৮:৪৭
আদার জু্যস খাইছেন?



নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৩ ১৭:৪০:৫৬
খাই নাই তবে খাওয়াইছি অনেকরে।আরেকজনরে খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিতেছি। @ ধুসর

অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৪ ০৭:২৬:৫৭
পছন্দ মানে? হেভী জিনিস! খাঁ খাঁ গরমে বাসায় ফিরে...। আহ্!

নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৪ ০৭:৩৭:১৭
ধুসর বল্ল আদার জুসের কথা। কোন মন্তব্য আছে? @ শিমুল

অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৪ ০৭:৪৪:১৬
যতটুকু জানি - বিভিন্ন সময়ে ধুসর আদাজল খেয়ে মাঠে নামতো। ঐটাই মনে হয় - আদার জুস! ঠান্ডার দেশে থাকলে ঐটা খাইতে হয়।আমার আর আপনার মতো নাতিশীতোঞ্চ দেশে থাকলে লেমন জুসই ভরসা!কী বলেন?

নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৪ ০৭:৪৬:৩৭
হা...হা...লাস্ট গল্পটা খুব ভাল লাগছে। দারুন লিখছেন।

অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৪ ০৭:৫৭:১১
থ্যাংকস্!ওখানে আপনার কমেন্ট পড়ে আমি আবেগী হয়ে পড়েছি। ধন্যবাদ এখানে জানালাম, ওখানেও বলবো! ভালো থাকুন!

অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৪ ০৭:৫৮:২০
ধুসর আসার আগেই এখান থেকে ভাগি, নাইলে আমাকে আদাজল খাইয়ে ছাড়বে!!!!!!!!!

অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৪ ২১:০৪:২০
খবরদার ভাই...!!!এইসব কি হইতাছে শুনি?আমার জমিতে আপনি চাষ করবেন কেন?

নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৫ ১০:১১:০২
চাষতো চাষইতোমার আমারকীহে অনন্ত

অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৫ ২২:৪০:৫৬
হে জ্বরগ্রস্ত বালক, সম্ভব হইলে জিমেইলে আইসো ।

নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৫ ২২:৪৮:২০
জ্বরগ্রস্ত বালক এখন জিমেইলে...

অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৫ ২৩:৪৫:২২
হাহাহা @ শিমুলনজমুল ভাইয়ের কী অবস্থা? কদম্ব তল হইতে রিট্রিট করেছেন নাকি?

অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৫ ২৩:৪৮:৩৯
কোপানি হইছে বাক্যবিন্যাসগুলান!!!! পুরা কোপানি................................

নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৭ ০৬:৩৮:১১
কোপায়া যান দ্রোহী, ধুসর কদম্বতো ছাড়েনারে ভাই, বড়ই আজব নেশা

অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৭ ০৬:৪৮:৫২
হ্যাঁ.........যতদিন বাঁচবো, ততদিন কোপাবো।নাহলে জমি চাষ দিব কিভাবে?

নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৭ ০৬:৫১:৫৬
শুভকামনা দ্রেহীর জন্য
অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৭ ০৬:৫৩:৩২
জি্ব, ধন্যবাদ।
মাশীদ বলেছেন :
২০০৭-০২-০৭ ২২:৪৫:০৩
সবার সাথে সহমত।খুব, খুউব সুন্দর।
নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৭ ২৩:০৫:৫৮
ধন্যবাদ মাশীদ
অতিথি বলেছেন :
২০০৭-০২-০৯ ২১:২৩:৩৭
সুন্দর!
নজমুল আলবাব বলেছেন :
২০০৭-০২-০৯ ২৩:৩৩:৩৫
সাদিক : ধন্যবাদ

Monday, June 11, 2007

:: চন্দ্রাবতী বিষয়ক ::

রৌদ্র ছায়ায় এত খেলা আকাশে,
চন্দ্রাবতী তোমার আলো ছায়ায়
সব খেলা ম্লান।

কী করে বলো তুমি আসবেনা
আমার কাছে!
চোখে ঠিকই আদর ঝরে পড়ে
তোমার। মুখে বল 'না'।

চন্দ্রাবতী অতটা বেদনা
কীভাবে পোষ ভেতরে তোমার!
অমন বেদনাকীভাবে দাও আমায়!

তোমার নিরবতায়
আমাকে স্পর্শ করে মৃত্যুর শীতলতা।

::বউ, বাটা, বল সাবান::

সমস্যা শুরু হয়েছিল বিয়ের দিনেই। শ্বশুর বাড়ির লোকজন দাদাকে মাত্র এক হাজার টাকা নজরানা দিলো! খেপে গেলেন মা, বাবা, বড় চাচা...।
ভাবী যে শো-কেস এনেছে সেটার তাকগুলো কদম কাঠের। সোফার ফোম খুব বাজে, দুদিনেই বসে যাবে। ড্রেসিং টেবিলটার ডিজাইন সেই মান্ধাতা আমলের। আরো কতো ভেজাল যে আছে.....!
ভাবীর অনেক খুঁতও বেরুতে লাগলো। কথা বলে কেমন করে, তিন বাড়ির মানুষ শুনতে পায়!ঠা ঠা করে হাসে। বাপের বাড়ির এতো অপরাধের ব্যাপারেও তার কোনো বিকার নেই। এমন ভাব দেখায়...! যেন কিছুই হয়নি...
এরকম হলে কার না খারাপ লাগে! শরীর জ্বলবে না কার?
আর দাদাও এমন ভেড়ুয়া! বউ এতো বেহায়ার মতো চলে তবু কিচ্ছু বলবে না। যেন কিছুই হয়নি। বিয়েতে এতো অপমান, আর সে মিন মিন করে বলবে, 'থাক এসব নিয়ে কথা বাড়িয়ে আর লাভ কী!' কোনো আত্মসম্মান নেই। দু'দিনেই বউয়ের আঁচলের তলে ঢুকছে!
আমরা কেউ ভাবীকে পছন্দ করি না। আচরণেও সেটা বুঝিয়ে দেই। কিন্তু ভাবী সেটা গায়েই মাখে না। আর নিজেকে জড়াবে সবকিছুতে। আমরা হয়তো বসে গল্প করছি বা খেলছি, এসে বলবে_ 'আমিও খেলবো তোমাদের সঙ্গে...।
'বাবা বাটার জুতা পরেন। প্রাচীন ডিজাইনের ভোম্বল সাইজ জুতা পরছেন তো পরছেনই। দাদা কতোবার অন্য কোম্পানির জুতা এনেছেন, বাবা পায়ে দিয়েও দেখেননি।
আর মা বল সাবান না হলে কাপড় ধোয়াই বন্ধ করে দেন। কতো কতো নতুন ডিটারজেন্ট বেরিয়েছে, তাদের কতো বাহারি বিজ্ঞাপন! কিন্তু মা তার বল সাবান বদলাবেন না।
বাবা, মা, বড়চাচা_ সবারই এমন অনেক কিছু আছে, যা কখনো বদলানো হবে না। তিনজনই বলেন_ 'এসব বদলানোর প্রশ্নই ওঠে না।
'বল সাবান কিংবা বাটার জুতা বদলানো অসম্ভব। কিন্তু বউ বদলানো কোনো ব্যাপারই না। এটা আমরা সবাই জানি। মা বলছেন, দাদার বউ বদলে ফেলবেন।
.........................................................................................
যারা প্রথম আলো'র প্রথম দিকের পাঠক তাদেরও হয়ত নজরে পড়তে পারে গল্পটি। কারন প্রথম প্রকাশটা হয়েছিল 'বন্ধুসভায়'।

Saturday, June 9, 2007

ব্যক্তিগত ব্যাখ্যান

আমাদের সুসময়ে সহবাস নামের ছোট গল্পের একটা কাগজ বেরুত। হাসান মোরশেদ ছিলেন সম্পাদক। সাথে ছিলাম নিলাঞ্জন দাশ টুকু, আরিফ জেবতিক, আসিফ মনি, অর্জুন মান্না, সুরঞ্জিত সুমন, অর্ণা রহমান, জাকির আহমদ চৌধুরী, রিয়াদ আওয়াল এবং আমি। সহবাস এর চতুর্থ সংখ্যায় ছাপা হয় ব্যক্তিগত ব্যাখান। ছাপাখানা থেকে আসার পরই বড় ধরনের কয়েকটি অসংগতি আবিস্কার করি আমি। মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু কামান দাগা শেষ। তাই আর ঘাটাইনি বেশি। সাত বছর পর কিছুটা শুধরে নিলাম আজ।


;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;


প্রাইমারি স্কুলে একটা বিষয় ছিল ছবি আঁকার। বাংলা স্যার মাঝে মাঝে কিছু একটা আঁকতে বলতেন। আমরা আলতো হাতে তা আঁকতাম।ক্লাস বলতে এই পর্যন্ত। কিন্তু পরীক্ষার সময় ছবি আঁকার আলাদা পরীক্ষা ঠিকই হতো। পরীক্ষার দিনে ক্লাসের সবাই রঙ, রঙ পেন্সিল, তুলি, স্কেল কত কি নিয়ে আসতো। ...আমার সে সব নেওয়া হতো না। বড় আপা কচি সীমপাতা তুলে দিত বেশ কটা, সাথে বাবার লাল কালির কলম। আর আমার লেখার কলমটাতো থাকতই। এ জন্য আমার আঁকা ছবি সব সময়ই তিন রঙের হতো। কচি সীমপাতা সবুজ, লাল আর কালো নয়ত নীল এই তিন রঙা। শুধু একবার ছাড়া সেবার বড় আপা কিভাবে যেন দুটো রঙ পেন্সিল জোগাড় করেছিল। একটার রঙ গোলাপী অন্যটা খয়েরী।



সেই শৈশব থেকে তাই রঙ আর রঙ পেন্সিলের জন্য আমার মনে কিযে বেদনাবোধ। পেন্সিল দেখলেই বুকের ভেতর অপ্রাপ্তির ব্যাথা কেমন দলা পাকাতে শুরু করে। আমার তখন বড় আপার কাছে যেতে ইচ্ছে করে। মৃত্যুর মত শীতল হয়ে যায় আমার চারপাশ।



মন কেমন হয়ে যায় কদম দেখলেও। আকাশছুয়া এক সারি কদম গাছ পেয়েছিলাম শৈশবে। তার সোনালি ফুলের কোমলতায়, কাটিয়েছি অনেকটা সময়। রাতের আধারে সেখানটায় নেমে আসে রাজ্যের নিরবতা। সূর্যবিদায়ের পর তাই সেদিকটায় যাওয়াই হতো না। মাঝে মাঝে খুব দরকার হলে কদম সারির ওপাশে বেলাদির বাড়িতে যাওয়া হতো। তিনিও আসতেন কোন প্রয়োজন হলে। ...এক রাত। খুব গভীর নয়। দশ, এগার হবে। হঠাৎ কদমতলার দিক থেকে কি রকম এক গোঙানীর শব্দ শুনে বেরিয়ে এলাম সবাই। টর্চ লাইটের আলোয় দেখলাম বিভৎস এক দৃশ্য। বেলাদি বড় কদম গাছটার পাশে পড়ে আছে। উড়না দিয়ে বাঁধা মুখ...



এক সপ্তাহের মাথায় বেলাদিরা কাউকে কিছুনা বলে কোথায় যেন চলে গেল। চন্দন ভাইয়া বলেছিলো 'মালাউনরা' আর কোথায় যাবে। ইন্ডিয়াতেই গেছে। সত্য হতে পারে আবার মিথ্যাও। কিন্তু বেলাদি চলে যাবার পর থেকে কদম দেখলেই তার কথা মনে হয়। মাসিমার কথা মনে হয়। আর মনে হয় সেই রাতের কথা ...মনটা খারাপ হয়ে যায়। আর তাই, প্রতি বর্ষায় মুঠো মুঠো সোনা ছড়িয়ে যে কদম শোষে নিত বালক বেলার কষ্টগল্প। সে নিজেই আজ কষ্টের অংশ, রঙ পেন্সিলের মতো।



বড় আপা পেন্সিল কার কাছ থেকে পেয়েছিলো সেটা আমি পরে জেনেছিলাম। ওগুলো ছিল চন্দন ভাইয়ার।যে চন্দন ভাইয়া বেলাদিকে মালাউন বলত। দাবড়ে বেড়াত মোটরসাইকেল। আমাদের পাড়াতেই ওদের বাড়ি। যে সকালে বড় আপা বিছানা ছেড়ে উঠলোনা, যতক্ষণ না মা আর হাসু খালা তাকে পাটি বিছিয়ে উত্তর দক্ষিণ করে শোয়ালেন...। সেদিন আমি জেনেছিলাম পেন্সিলগুলো চন্দন ভাইয়ার। আমাকে কেউ বলে দেয়নি। তবু। আর বলবেই বা কী। এই যে আপা ইচ্ছে করে মরে গেল। মা, বাবা কিংবা দিদা কেউ সে কথাটা আমায় বলেনি। তবু বুঝেছি। আসলে তখন বুঝতে শিখছি অনেক কিছু।



কবিতার কামড়ে অস্থির হওয়ার তখন থেকেই শুরু। কবিতা! কবিতা আমাকে ছেড়ে যায়নি, আরও অনেকের মতো।



সমাজ বিজ্ঞান নবম শ্রেণীতে।
একসাথে কাস ছেলে মেয়েতে।
প্রথম দেখলাম শময়িতা...
বাদামী ত্বক, চিবুকে বিষন্নতা...

বুক জুড়ে ঝড়, শরীরে জ্বর ...
আকাশের বুকে দেখা তারাদের ঘর।
তারাদের আয়ু খুব বেশি ক্ষীন...
ফর্সা পৃথিবী, আলোতে রঙিন।
চোখ খুলি আলোয়।
শময়িতা নেই!

শময়িতা নেই...
সামনে মিছিল...
আলগোছে হয়ে গেলাম মিছিলের জন...



সে এক ঘোর লাগা সময়। কত স্বপ্ন, কত কথা, সমাজ বদলের কথা। তার আগে বদলে যাই নিজে। ইশতিয়াক, অর্জুন, জাফর আরো কতো নাম। সে নামের ভিড়ে আমিও মিশে যাই। সবার হাতে একেকটা চাবি। আকাশের নিচে যাব আমরা। যেতে হলে খুলতে হবে অনেক ফটক, অনেক তালা। ওগুলো খোলার চাবি আমাদের হাতে হাতে। আমরা চাবি নিয়ে ঘুরি। খুলে ফেলি একেকটা অদৃশ্য তালা। দ্রোহের আগুনে জ্বালিয়ে দিতে চাই পুরোটা বর্তমান।



...হঠাৎ আকাশ ঝরায় বৃষ্টি। অঝোরে ঝরে বৃষ্টি। সেই বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে অর্জুন আর আমি ইশতির জন্য আফসোস করি। আফসোস করি জাফরের জন্য। ওরা যদি রক্ত স্নানের আগে একটিবার অন্ততঃ দাঁড়াতে পারত এই বৃষ্টি আকাশের নিচে...। বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে আমার মায়ের কথা মনে পড়ে যায়। আমি দৌড় দিই।



অর্জুনও দৌড়ায়। দৌড়? ওরতো মা নেই। মুহূর্তের সে ভাবনা। অন্য কেউ নিশ্চয় আছে, আরো জোরে দৌড়। হাত থেকে ছুড়ে ফেলি ভয়ংকর সেই চাবি। ভেজা শরীরেই জড়িয়ে ধরি মাক। হতচকিত হয়ে পড়েন মা। তারপর আঁচল শুষে নেয় মাথার জল।



এ আঁচলটা এমন কেন? এত মমতা মাখা! ছোট বেলায় ভাত খাওয়া হলে মা তাঁর আঁচলে মুখ মুছে দিতেন। আঁচলের সে ঘ্রাণ এখনও পাই। বাবা খুব মেরেছিলেন এক বিকেলে। অনেক রাত পর্যন্ত কেঁদেছিলাম মায়ের আচলের আশ্রয়ে। পরের দিনও খুব মন খারাপ। সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে বাবা ডাকলেন। আস্তে গিয়ে পাশে দাঁড়ালাম। পেছনে বড় আপা, বাবা একটা প্যাকেট দিলেন, বড় আপা ছোঁ মেরে সেটা নিয়ে খুলে ফেললো। বেরিয়ে এলো একটা শার্ট। নীল রং। বড় আপা বললো "আকাশী রঙের শার্ট! অপু এটা পরলে তুই আকাশের অংশ হয়ে যাবি! সেদিন থেকে আকাশ আর আকাশী রং আমার সবচেয়ে প্রিয়।



মানুষ মরে গেলে আকাশের তারা হয়ে যায়। আকাশ জানে নিশ্চয় প্রত্যেক তারার ঠিকুজী। এই যে আকাশ আমার এত প্রিয় তবু সে আমায় বলে না ঠিক কোন তারাটা বড় আপা!

...বড় আপা কেমন আছিস এখন?
বৃষ্টি ছিল তোর খুব প্রিয়।
এখন বৃষ্টিতে ভেজা হয়?
আকাশ থেকে আমাকে দেখা যায়?
...আমার খুব ছবি আঁকার শখরে আপা, অনেক ছবি, রঙে ভর্তি ছবি।
তার জন্য রং চাই, তুলি চাই, পেন্সিল চাই। অনেক রং...
অনেক তুলি...
অনেক পেন্সিল, রং পেন্সিল...
কে দেবে এতো কিছু?

বড় আপা, আয় না ফিরে। আমার সকল চাওয়া তোর জন্য তুলে রাখা বড় আপা। শুধু তোর জন্য। আসবিনা বড় আপা। না আসলে আমাকে নিয়ে যা তোর কাছে। তুই কাছে থাকলে আমার আকাশটা কত উজ্জ্বল হয়ে যাবে।


.............................................................................................

স্কেচ:নীলু সিনহা


;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;;