Wednesday, June 20, 2007

:: আমার কিছু এলোমেলো সরল মৌলবাদী ভাবনা ::

আমার কিছু সমস্যা আছে। অনেকেই বলেন। আমিও মাঝে মাঝে অনুভব করি। তবু সমস্যাগুলো পুষে রাখি। গোয়ার্তুমি ধরে রাখি।


আমার একটা গোয়ার্তুমি লোকগান বিষয়ক। বলা যায়, লোক কবি বিষয়ে। এদরকে যখন ভাংচুর করা হয়। তাদের গান চুরি করা হয় কিংবা একটু আধুনিক প্রলেপে হাজির করা হয়, আমার সেটা খারাপ লাগে। আমি অশ্লিল হয়ে উঠি।


মরমি সাধক হাছন রাজা। এ নামেই পরিচয়। আলাদা সূর আর ভাব নিয়ে তিনি বিরাজ করেন আমাদের গ্রাম্য জীবনে। মফস্বলি আমরা তাকে মনে করি আমাদের একান্ত মানুষ। যদিও তিনি ছিলেন জমিদার, রাজা রাজড়া, সামন্ত প্রভু। তবু ভাবের মানুষটা হয়ে যান আমাদের মতো প্রান্তজনদের।


আমরা শুনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সুশিলের দরবারে (তখনও কী এভাবে সুশিল সমাজ বলে চিৎকার চলত ) হাছনকে পরিচিত করেছিলেন। আমার কেমন লাগে। কবি গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা রেখেও মানতে পারিনা তার জবানিতে বলা পূর্ববঙ্গের গ্রাম্য কবি শব্দ গুলো। কেমন এক বেদনা জাগায় মনে। মন বলে, তুমি কি কবি আমার গ্রাম্যতাকে হেলা করলে।


অপ্রাসঙ্গিক হল কিনা বুঝতে পারছিনা। আমি শুধু আমার বোধের কথা বলি। ব্যক্তিগত বোধ।


একই ভাবে গায়কিতেও আনা হচ্ছে আধুনিকতা। হাছনের গানের প্রধান উপাদান হল একবারেই আঞ্চলিক কিছু শব্দের ব্যবহার। এই শব্দগুলোর উচ্চারনে হেরফের হলে অর্থই বদলে যায়!!! আমাদের শিল্পিরা, উর্দু হিন্দি, ইংরেজী গানগুলো গাইতে মাখরেজ আদায়ে চরম সতর্কতা নিলেও এমনতরো আঞ্চলিক গানগুলোতে তারা বড় বেশি নিরিক্ষক!!! নিরিক্ষার কবলে পড়ে গানগুলোর বারটা বাজে!!! দেশের সকল আঞ্চলিক গানের ক্ষেত্রেই এমনটা প্রযোজ্য।


আরও একটা কাজ হয় আমাদের এখানে। দেদারছে 'সংগ্রহ' বলে চালিয়ে দেয়া হয় লোক কবিদের রচনা। পলাশ নামের মহান গায়ক প্রবর কোন কালে লোক গীতির সংগ্রাহক ছিলেন আমার অন্তত জানা নেই। এটা আমার জানার সিমাবদ্ধতা হতে পারে। কিন্তু বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিম এর গান তিনি সংগ্রহ বলে চালিয়ে দেন। মাকসুদ যখন গলায় ধারন করেন রবীন্দ্র সুর তখন জাত গেল বলে রব উঠে! কিন্তু প্রান্তবর্তি গানের মানুষ শাহ আব্দুল করিম বেঁচে থাকতেই যখন সংগ্রহের খাতায় চলে যান তখন কোন খানকির পোলা মাইয়াই কোন কথা বলেনা।


শাহ আব্দুল করিমের গান বিক্রি করে হুমায়ুনরা যখন টাকার সাথে মহান মানুষের তকমাটাও বাগিয়ে ফেলেন, করিম তখন সাদা জমিনের 280 টাকা দামের লুঙ্গি আর সফেদ পাঞ্জাবীর পেকেট ছেড়া ব্যাগে ভরে সিলেট রেল স্টেশনে নেমে পুত্র নূর জালালকে জিঙ্গেস করেন, বাবা রিক্সা ভাড়া আছেনি ফকেট, না আটিয়া যাওয়া লাগব...

1 comment:

  1. আগেও বলেছিলাম, আবারও বলি। এদের ধরে ধরে চাবকানো প্রয়োজন।

    হুমায়ূন দাদা, এঁদের ডেকে ডেকে গানাবাজানা করেন, কিন্তু এঁদের নিয়ে খানিকটাও চিন্তা করেছেন বলে তো আমার মনে হয় না।

    ডলি সায়ন্তনি মাত্র ১০০ টাকা এবং একবেলা খাইয়ে কাঙালিনি সুফিয়া (নামটা ঠিক না লিখে থাকলে ক্ষমা চাই)- এর কাছ থেকে অসম্ভব হßদয়গ্রাহী ১টা গান নিজের নামে চালিয়ে দিয়েছিলেন।

    ওই যে বললাম এদের ধরে চাবকাতে···।

    ReplyDelete