Friday, August 22, 2014

শুক্কুরবার, বাবা, আমি

শুক্কুরবার রাত থেকেই আসলে মজা শুরু। বাবা সেদিন একটু দেরি করে ফেরে যদিও, কিন্তু মজা হয়। এম্নিতে রোজ বিকালে প্লে-গ্রাউন্ডে যাই। অনেক্ষন থাকি সেখানে। কিন্তু শুক্কুরবারে আগে আগে চলে আসি। যদিও সেদিনই বাবা দেরি করে বাড়ি ফিরে, তবুও। আমাদের বসার ঘরের জানলা দিয়ে তাকালে উঠোন পেরিয়ে একেবারে বাস স্টপ পর্যন্ত দেখা যায়। আমি ঘরে ফিরেই সেই জানলার ধারে বসে পড়ি। অন্যদিন বাড়ি এসে হাত ধোয়া, মুখ ধোয়া, ঘামে ভেজা কাপড় বদলানো কতো কিছু করতে হয়, কিন্তু শুক্কুরবারে সেসব নেই। আগে মা জোরাজুরি করতো, এখন আর করে না। জানে বাবা না আসলে শুক্কুরবারে সেসব কিছুই হবে না।
আমি জানলার ধারে বসে বসে দেখি বাবা কখন আসে। বাবার দুহাত ভরে থাকে ব্যাগ, সারা সপ্তার বাজার সেখানে। অফিস শেষে বাজার করে, তারপর বাড়ি ফেরে। বাজারের ভারে বাবা নুয়ে পড়ে যেনো। কাঁধটা ঝুলে থাকে, মাথা নিচু। তবু বাবা একটু পর পর চোখ তুলে তাকাবে আমাদের জানলায়, দেখবে আমাকে দেখা যায় কীনা। এর আগে জানলার ধারে বসা থাকলেও ঠিক তখন আমি লুকিয়ে যাবো। জানালার পাশের দেয়ালে নিজের শরীরটা আড়াল করে শুধু চোখটা পর্দার ফাঁকে দিয়ে দেখছি বাবা হাঁটছে আর আমাকে দেখার চেস্টা করছে। কিযে মজা লাগে আমার… তারপর বাবা যখন গেটে চলে আসে, আমাদের উঠোনের ওপাশের কাঠের গেটটাতে বাবা হাত দেবার আগেই লাফ দিয়ে আমি দরজার কাছে চলে যাই, বাবা গেট খোলার আগেই দরজা খুলে একেবারে ঝাঁপিয়ে পড়ি বাবার কোলে। দরোজা খোলার শব্দ পেয়েই বাবা হাত থেকে সবগুলো ব্যাগ তাড়াতাড়ি করে রেখে দিয়ে হাঁটু গেড়ে বসে, আমি উড়ে গিয়ে বাবার কোলে পড়ি। মা দৌড়ে বের হয়ে আসে। আমরা বাপ ছেলে অনেক্ষণ ধরে একজন আরেকজনকে জড়িয়ে ধরে থাকি। মা একটা দুটা ব্যাগ নিয়ে রান্নাঘরে যায়, বাকিগুলো বাবার হাতে। আমার জন্য কোন ব্যাগ বাকি থাকে না, তবু আমার একটা নিতেই হবে, বাবা বেছে বেছে হালকা ওজনের ব্যাগটা ধরিয়ে দেয় আমার হাতে।
আটটা বাজলেই ঘুমিয়ে পড়ার নিয়ম। কিন্তু শুক্কুরবারে সেটা হবে না। সে রাতে বাবার সাথে আমার সিনেমার রাত। শুক্কুরবার মানে গল্প শোনার রাত। বাবা অদ্ভুদ সব গল্প জানে। একটা হাঁস তার সাথে কেমন করে একটা সঁজারুকে জুড়ে দেয়া যায়, সেই গল্পটা বাবা সুরে সুরে বলে, তারপর বাবা একটা নদীর গল্প বলে, খুব স্বচ্ছ জলের কথা বলে, লাল একটা গরুর গল্প বলে, খুব রাগ সেই গরুর, দুধ দিতে দিতে সে রেগে যেতো আর ইয়া জোরে একটা লাথি দিতো, সেই লাথি খেয়ে বাবার মধু’দার একবার দাঁত ভেঙে গেলো! সেই গল্প শুনে কি যে হাসি পেয়েছিলো আমার।
শনিবার মহা স্বাধীনতা। বাবা আমাকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ে সকাল থেকে। আমরা নদীর ধারে রোজ হাঁটতে হাঁটতে অনেক দুর চলে যাই। একই নদী, একই আঁকাবাকা পাড় তবু কতোবার যে আমরা সে পথ দিয়ে গিয়েছি তার হিসাব নেই। নদীর পাড় ধরে হাঁটতে হাঁটতে একটা খেলার মাঠ পাওয়া যায়, সেই নদীতে অনেক সাদা সাদা রাজহাঁস খেলা করে। ছোট ছোট মাছ ভাসে নদীতে। বাবা বলে এরকম মাছ নাকি আমাদের বাড়ির পুকুরেও পাওয়া যায়। সেই পুকুরে নাকি আরও অনেক রকমের মাছ আছে। আর দু’বছর পর আমাকে নিয়ে সেখানে যাবে বাবা। এই বাড়ির গল্প শুরু হলেই বাবা কেমন আনমনা হয়ে যায়। তবু গল্প করতেই থাকে। আমারও শুনতে ভালো লাগে। সেই বাড়িতে নাকি বৃষ্টি হলে ঘরের চালে ঝুম ঝুম শব্দ হয়। এই বিষয়টা আমি বুঝতে পারি না। বৃষ্টি হলে ঘরের ভেতর থেকে ঝুম ঝুম শব্দ শোনা যাবে কেমন করে? বাবা বলেছে টিনের চালে বৃষ্টি পড়লে শব্দ হয়… কি জানি। বৃষ্টিতো আমার ভালোই লাগে না। কিন্তু বাবার খুব পছন্দ।
নদীর পাড় থেকে ফেরার পথে বাবা আমাকে কোক কিনে দেয়। গুনে গুনে চারটা চুমুক দেই সেটাতে। এটা আমার আর বাবার সবচেয়ে গোপন বিষয়। মা যদি কোনদিন এটা শুনতে পায়, আমাকে বাবার সাথে আর বেরই হতে দেবে না হয়তো। মা বলেছে বড় হবার আগে কোক খাওয়া একদম নিষেধ। বাবাও সেটা বলে, কিন্তু মাঝে মাঝে খেতে মন চাইলে খাওয়া যায়, কিছু হয় না, এটাও বলেছে সে! আমার বন্ধু স্টুয়ার্ট এটা শুনে বলেছে, এতো ভালো বাবা তার হলে, সেও কোক খেতে পারতো। কিন্তু কিচ্ছু করার নেই, স্টুয়ার্টের বাবা কখনই ভালো হবে না। লোক্টা এমন নিষ্ঠুর, একবার আমার দাঁতে ব্যাথা হয়েছিলো, স্টুয়ার্টের বাবা সেই দাঁতটা ঠোনকা মেরে ফেলে দিলো! আমি ভ্যাঁ ভ্যাঁ করে অনেক্ষণ কেঁদেছিলাম। আমার বাবা সেরকম না। বাবা কখনো কাউকে কষ্ট দেয় না। কারো সাথে ঝগড়া করে না, আর আমি যা চাই, বাবা তাই করে।
শুক্কুরবার রাত থেকে রোববার বিকেল পযর্ন্ত পুরো সময়টা বাবা আর আমার। এই সময়ের ভেতর বাবা আমাকে নিয়ে পার্কে যাবে, খেলনার দোকানে নিয়ে যাবে, তারপর গানের স্কুলে নিয়ে যাবে। গানের স্কুলে একটা মিস আমাদের গান শেখায়, কিন্তু আমাদের স্কুলের মিসের মতো করে উনাকে আমরা মিস বলি না, বলি খালামনি। উনি দাদুমনির মতো করে কাপড় পরেন। এর নাম শাড়ী। তার মাথায় একটা টিপ থাকে। কোনদিন সেটা লাল, কোনদিন নীল, কোনদিন সবুজ… খালামনিকে আমার খুব পছন্দ, আমাকে গাল টিপে আদর করে দেন তিনি। কিন্তু মা এসব একদম পছন্দ করে না। আমাকে বলেছে, ভালো মুসলমানরা এভাবে মাথায় টিপ দেয় না। শুধু বাবার জন্যই মা কিছু করতে পারে না, নয়তো আমাকে গানের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করে দিতো। এই যেমন আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে গানটা ঘরে গাইতেই দেয় না মা। কিন্তু কি সুন্দর গান… নিজেকে রাজা ভাবতে কতো ভালো লাগে।
আজ আরেকটা শুক্কুরবার। কিন্তু বাবা আজ আসবে না। গত তিনদিন থেকেই বাবা বাড়ি ফিরে না। মা বলেছে বাবা আর কোনদিনই এখানে আসবে না। আমার সাথে মাঝে মাঝে দেখা হবে হয়তো, হয়তো বেড়াতেও নিয়ে যাবে বাবা, কিন্তু মাঝখানে অনেক ঝামেলা আছে, সেসব শেষ না হলে বাবার সাথে আর দেখা হবে না আমার। একথা শুনে আমার বুকটা দুমড়ে মুচড়ে যায়। আমার কান্না আসে, হুহু করে কাঁদতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কাঁদতে পারি না। মা বলে, মর্দলোককে কাঁদতে হয় না! কিন্তু বাবাতো সেইরাতে অনেক কাঁদলো, আমাকে জড়িয়ে ধরে কি কান্না… এরপর মাঝরাতে বেরিয়ে গেলো বাড়ি থেকে। তার আগে আমি ঘুমে ছিলাম। ধুম করে কিছু একটা পড়লো, আর আমার ঘুমটাও ভাঙলো। ভয়ে ভয়ে বিছানা থেকে নেমে গিয়ে দরোজার ফাঁক দিয়ে দেখি সিড়ির সামনে বাবার কম্পিউটারটা পড়ে আছে। আর মা খুব জোরে জোরে কথা বলছে, সেসব কিছুই আমি বুঝতে পারছি না। বাবা মাকে শান্ত করতে চাইছে, কিন্তু পারছে না, তারপর মা একবার বলে উঠলো, রেন্ডিকা আওলাদ… এটা মনে হয় একটা গালি, বাবা চিৎকার করে উঠলো, সামনে রাখা বড়ো ফুলদানিটা মাথার উপর তুলে আছাড় মারলো। ভয়ে আমি পর্দা জড়িয়ে ধরলাম। বাবা কখনো এতো জোরে কথা বলে না। কিন্তু তারা কি নিয়ে কথা বলছে সেটাও বুঝতে পারছি না। বাবা বাংলায় কথা বলছে, আর মা বলছে উর্দুতে। এসবের কিছু কিছু আমি বুঝি, কিন্তু তারা এতো দ্রুত কথা বলছিলো, সেটা আমার পক্ষে বুঝা সম্ভব না। তাদের ঝগড়ার মাঝখানেই দরোজায় বেল বাজলো। বাবা গিয়ে দরোজা খুলে দিলো। তারপর পুলিশ এসে বাবা আর মায়ের সাথে অনেকক্ষণ ধরে আলাদা আলাদা কথা বল্লো, আমি এইসময়টাতো একটাবারের জন্যও রুমের বাইরে বের হইনি। অনেকক্ষণ পরে বাবা আমার কাছে এলো। হাঁটুমুড়ে আমার সামনে বসে জড়িয়ে ধরলো। অনেকক্ষণ ধরেই থাকলো, কাঁদলো। তারপর কপালে একটা চুমু এঁকে বাবা বেরিয়ে গেলো। মাঝরাতে। তখন অনেক বৃষ্টি হচ্ছিলো বাইরে…

Sunday, August 3, 2014

এবং বন্ধুতা...

ঝুমুর বয়েসে বড় ছিলো আমাদের, তাই নামের শেষে দাদা যোগ করে সে আমাদের বন্ধু হয়ে গেলো। ঝুমুরদা। মূলত এটা একটা নামই শেষ পর্যন্ত। ওসব দাদাগীরি কি আর চলতো! দীর্ঘ বছর আমরা আড্ডা দিয়েছি। উদ্দাম তারুণ্য বলতে যে সময়টা থাকে, ঠিক সেই সময়ের বন্ধুদের একজন ঝুমুর।
এই বয়েসে একটা দলের সাথেতো আর সময় কাটানো যায়না। নানা ধরণের বন্ধু বান্ধব জুটে যায়। তারপর বয়েস বাড়ার সাথে সাথে যেকোন একজন, দুজন অথবা বিশেষ একটা গ্রুপের সাথে যোগাযোগ হয়তো বেশি থাকে, অন্যদের সাথে সেটা কমে। কোন কোন ক্ষেত্রে বন্ধই হয়ে যায়। স্টেডিয়াম পাড়ার সৈকত রেস্তোরাতে বসে আমরা যারা আড্ডাবাজি করতাম, সেটা খেলাধুলাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিলো। সেই গ্রুপে কেউ ক্রিকেট খেলতো, কেউ হকি, কেউ ফুটবল। কোন ধরণের খেলাধুলা না করেও আমি আর শামীম সেই গ্রুপে কেমন করে ঢুকে গিয়েছিলাম সেটা আর মনে নাই। কিন্তু টানা ৪/৫ বছর সেই আড্ডাটায় ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটিয়েছি আমরা। আর সেই আড্ডার মধ্যমনি ছিলো এই ঝুমুরদা। বিচিত্র কাণ্ডকারখানা, মজার মজার কথা দিয়ে আড্ডা মাতিয়ে রাখতো। সৈকত রেস্টুরেন্টের টেবিল কিংবা স্টেডিয়ামের যে কোন একটা গ্যালারী দখল করে প্রতিদিনের আড্ডার আজান দিতো এই ঝুমুর।
শামীমের বাবা মারা গেলেন হঠাৎ। বাড়ির বড় ছেলে হিসাবে সংসারের হাল ধরলো সে। বাবার ব্যবসায় যোগ দিলো। আমি আস্তে আস্তে নাটকের কাজে জড়িয়ে গেলাম। সৈকতের সেই আড্ডায়ও যাওয়া বন্ধ হয়ে গেলো একসময়। অন্যরাও এদিক সেদিক চলে যেতে লাগলো, রেস্টুরেন্টের টেবিলতো ফাঁকা থাকেনা। সেখানে নতুন আড্ডারুরা এসে যোগ দেয়। আমার সেসব খবর নেয়া হয় না। স্টেডিয়াম পাড়ায় যদিও যাওয়া হয়। একদিন সেখানেই পাকড়াও করলো ঝুমুরদা। ব্যপক হাউকাউ, টানতে টানতে নিয়ে গেলো সৈকতে। একটা টেবিল ঘিরে বসে আছে জুনিয়র কয়েকটা ছেলে, মুখ চিনি কারো, কাউকেবা নামে চিনি, ঝুমুর টুপ করে সেখানে বসে গেলো, তখনও সমানে খিস্তি করছে। তার খিস্তি, সামনে আমি এসব নিয়ে বসে থাকারা যেমন বিব্রত, আমিও ততটাই। মিনিট দশেক সেখানে বসে ফিরে এলাম। আমাকে আবার এগিয়ে দিতে এলো ঝুমুরদা, মন খারাপ করে বল্ল, তোমরা কেউ আসোনা, এই বাচ্চা বাচ্চা পোলাপানের সাথে আমি এখন আড্ডা দেই! কিছু বলার ছিলো না আমার, কাজের দোহাই দিলাম শুধু।
ম্যালাদিন পরে, সম্ভবত বছর দশেক হবে, আমাদের পাশের পাড়াতেই ওর সাথে আবার দেখা। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ইয়া আলী বলে কোলাকুলি... মুখে কাচাপাকা দাড়ি! কি অবস্থা, কেমন আছো এসব আটপৌরে কথাবার্তা হয়। হাতের ব্যাগ থেকে এক প্যাকেট মোম বের করে দিলো ঝুমুরদা! ‘লোকনাথ মোমবাতি’। এই মোম ফ্যাক্টরির মালিক সে। আমাদের পাশের পাড়াতে বাড়ি করেছে তারা। সেই বাড়িতেই এই মোম ফ্যাক্টরি। দেখে খুব ভালো লাগে। প্রশংসা করি। ভালো চলছে তার, সে কথা শুনে আনন্দিত হই। কিন্তু ঝুমুরদা বেশ মন খারাপ করে বলে, কারো সাথে যোগাযোগ হয় না আর। সময় পায় না! আমি বলি জীবনের নিয়মই এই। কিন্তু ঝুমুর সেটা মানতে নারাজ। তার কথা হলো, রোজ যদি বন্ধুদের সাথে আড্ডাই না দিলো, তাহলে আর কিসের জীবন! সেই শেষ দেখা। আর কখনো দেখা হয়নি ওর সাথে।
ফেসবুকে একটা ছবি পেলাম আজ, এক অচেনা সন্ন্যাসীর। এরকম ছবি দেখলে কোন আগ্রহবোধ করিনা। পরিচিত কেউ পোস্টও করেনি, ফেসবুক কোন এক বন্ধুর বন্ধুকে আমি বন্ধু বানাতে আগ্রহী কীনা সেটা জানার জন্য এই ছবি লটকে দিয়েছে। চোখের কোনায় আটকে গেলো ঝুমুর শব্দটা। পড়ে দেখি এই আমাদের ঝুমুর!!! যিনি ছবিটা দিয়েছেন, তিনিও আমারই মতো ঝুমুরের আরেক ছোটভাই বন্ধু, তার সাথেও ঝুমুরের অনেকদিন দেখা নেই। হঠাৎ করেই পেয়ে গেলেন এই সন্ন্যাসীকে, আর অবাক হয়ে আবিস্কার করলেন এ আর কেউ নয়, প্রিয় ঝুমুরদা!
ফেসবুকে অচেনা জঞ্জাল এড়িয়ে চলতে চলতে এইযে মনের খুব ভেতর থেকে কিছু একটা উকি দিয়ে ঝুমুরের নামটা দেখে ফেল্ল। এইযে ঝুমুর এসে টেনে হিচড়ে ষোল, সতেরো, আঠারো, উনিশ কিংবা বিশ বছরের আমাকে আবার নিজের সামনে দাড় করিয়ে দিলো, সম্ভবত এরই নাম বন্ধুতা!