Saturday, September 27, 2008

এমন চিঠি আর কেউ লিখবে না...

প্রিয় নজমুল আলবাব,
আমার বয়সীরা সাধারণত কনিষ্ঠদের লেখা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তাদের লেখা পড়ে না, পড়লেও স্বীকার করতে চায় না, করলেও প্রশংসায় তাদের শব্দের ঘাটতি পড়ে। ব্যতিক্রম হওয়ার জন্যে নয়, আমি সাম্প্রতিক লেখকদের জানতে চাই, তাদের ভাবনা বুঝতে চাই, তাদের কাছে শিখতেও চাই। আদৌ জানা-পরিচয় নেই, এমন অনেকের লেখা পড়ে ভালো লাগলে নিজের উদ্যোগে যোগাযোগ করেছি, এমন ঘটনা খুব বিরল নয়।


আপনার লেখা এবং তার অন্তর্নিহিত শক্তি নিয়ে আমার মুগ্ধতা আছে, সে কথা প্রকাশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবেও জানিয়েছি। আপনার কাছে আরো অনেক গাঢ় ও গভীর রচনা পাবো আশা করি। কিন্তু খুব দুঃখের সঙ্গে একটি পুরনো প্রসঙ্গের অবতারণা না করে উপায় দেখছি না। আজকের টম-জেরি গল্পটি আমার যতোটা ভালো লেগেছে, ঠিক ততোটাই ব্যথিত করেছে এর অসংখ্য ভুল বানান ও অসতর্ক বাক্যনির্মাণ। আপনি মনঃক্ষূণ্ণ হলেও আমাকে বলতেই হবে, আমার প্রিয় লেখকের কাছে আমি এটা আদৌ আশা করি না।

ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবন, বয়স ইত্যাদি অজুহাত আসলে অচল। অবাংলাভাষী আবু সয়ীদ আইয়ুব বাংলা শিখেছিলেন চল্লিশ বছর বয়সে এবং শিখেছিলেন অনেক বাংলাভাষীকে শেখানোর মতো করে। চেক বংশোদ্ভুত লেখক মিলান কুন্ডেরা প্রথম জীবনে লিখতেন চেক ভাষায়, এখন লেখেন ফরাসী ভাষায় যা তিনি শিখেছেন মধ্যবয়সে। আপনি মনোযোগ দিলে আপনার দুর্বলতাগুলি কাটাতে পারবেন না, তা আমার বিশ্বাস হয় না।

পৃথিবীতে কোনো ভাষায় কোনো বড়ো লেখক নিজের ভাষা ব্যবহারে সংশয়মুক্তভাবে নিশ্চিত নন বা ছিলেন না, এমন উদাহরণ আমার জানা নেই। সাহিত্যচর্চার প্রথম শর্তই তো হওয়া উচিত যে ভাষায় তিনি সাহিত্য রচনা করবেন তার ব্যবহারিক প্রয়োগ কৌশল সম্পর্কে জানবেন এবং ক্রমাগত তাকে শাণিত করবেন। আপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য লেখক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আমি দেখতে পাই এবং লেখালেখি বিষয়ে আপনার মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে বলে অনুমান করি। কিন্তু সাফল্যের কোনো শর্টকাট পথ নেই।

আপনার লেখাটিতে আমি ভুলগুলি মোটামুটি নির্দেশ করার চেষ্টা করেছি। আপনি হয়তো অপছন্দ করবেন, অসস্তুষ্টও হতে পারেন, কিন্তু আমার প্রতিক্রিয়া সরাসরি না জানিয়ে পারলাম না।

একেকজন লেখকের লেখার অভ্যাস বা ধরণ একেকরকম। এসব দিকে অতিরিক্ত সতর্ক হতে গেলে আপনার লেখার স্বতস্ফূর্ততা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে একটানে লেখা শেষ হওয়ার পর সম্পাদনায় মন দিতে পারেন।

বাদবাকি আপনার বিবেচনা।
জুবায়ের
এপ্রিল ২৬, ২০০৮
---------------------------------------------------------


এইভাবে বিষন্ন হতে আর ভাল্লাগে না।
চিঠির বাক্স এখন খালি পড়ে থাকবে, প্রিয় পত্রলেখক আর জানাবেন না ভুলের ফিরিস্তি। মৃদু বকুনি দিয়ে বলবে না কেউ, নিজেকে এভাবে নষ্ট করার কোনো মানে নেই। আর কি আশ্চর্য লোকটা নিজেই নিজেকে নষ্ট করেছে, খেলেছে নিজেকে নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে! আমাদেরকে বলেছে, নষ্ট হয়ো না, কষ্ট পেলে সেটাকে শক্তিতে পরিণত কর। আর নিজের ভেতরে পুষে রেখেছে দেখো কত কষ্ট, হাহাকার রেখে গেছে আমাদের জন্য...
সবুজ বাতি তবে আর জ্বলবে না? আর কেউ টোকা দিলেই বলবে না, ঘুম নাই তোমার? বাজে ক'টা এখন? আর কেউ অবিন্যস্ত লেখায় লাল দাগ দিয়ে ফেরত পাঠাবে না। 'তুমি' বলার অধীকার পেয়ে শিশুর মতো বলবে না, তোমার সাথে আমার অনেক মিল হে বালক...
'আপনি তো অনেক বুড়ো' এই শব্দুগুলো শুনে তিনি কেমন শব্দে হেসেছিলেন শুনিনি, তবে স্ক্রিনে ভাসা অক্ষর বলেছিল, 'আমি এই লেখাটা দিয়ে বিরাট ভুল করলাম নাকি অপু...'
আমি খুব কাতর সময়ে ছিলাম, আপনি সাহস দিয়ে বলেছিলেন নিজের দীর্ঘ কষ্টের কথা। আর বলেছিলেন, এই যে মানিয়ে নেয়ার চেস্টায় আছো, অবিরত নিজেকে বদলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছ, এইসবই লেখায় তুলে আনো।
কিছুই করা হয় না, এই জীবন আমাদের যতটা ভাঙে, দুমড়ে দেয়, মুচড়ে দেয়, ততটা শক্ত হতে মনে হয় শেখায় না...
তবে শেষ কথা এই যে, আপনি লোকটা ভাল নন মুহম্মদ জুবায়ের। এভাবে মাঝপথে যে একা আকাশের তারা দেখতে বেরোয় তাকে ভালো মানুষ কিভাবে বলি জুবায়ের ভাই? কাজটা আপনি ঠিক করেননি...

Sunday, September 21, 2008

মেঘদেখা বালিকা

কি এমন খোঁজ ব্যস্ত রাস্তায়
মেঘেদের মতো চঞ্চল চোখে

শাহানা, আকাশে আজ তারা
নেই, মৃত্তিকায় নেই জল
আজ প্রেমহীন সময়ে
ঘুঙুর বাঁধা পা নিয়ে খবরহীন
উড়ে বিষন্ন পায়রা

আজ কোন খবর পাঠাইনি
মেঘের আড়ালে তোমার জন্য
নিজেই এসেছি, এসো ফুল খেলি...

প্রেমহীন প্রথিবীকে আমি আজ
শাহানার রঙে রাঙাবো...

Tuesday, September 9, 2008

স্বপ্নের শুরু হইছে, খুশবো ছড়ালো বলে...

সকাল হয়েছে সবে। আলো ফুটতে শুরু করেছে আকাশে। মহারাণী রিকশায় চড়ে হাসপাতালে রওয়ানা হলেন! সাথে গুণধর রাজপুত্র! শহরের বড় মোড়টাতে এসে হাসপাতালের রাস্তার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে একজনকে জিজ্ঞেস করলেন। রিকশা আবার চলতে শুরু করলে আবেগে গদগদ লোকটা রাজপুত্রের জন্য শুভকামনা জানায়। বলে, ভাইয়া ভালো থাকবেন। এরপরেই তার ইচ্ছা জাগে, তাঁদের সাথে যোগ দেয়ার ইচ্ছা। সে পেছন থেকে কাতর কণ্ঠে বলে, আমি আপনাদের সাথে আসি? প্রথমে কোন জবাব আসে না। কয়েক পল পরে, রাণীমা মুখ ফেরান আর তার বিখ্যাত গোলাবী হাসি দিয়ে ইশারা করেন...
এটা একটা স্বপ্ন। মহান এক তেলবাজ এই স্বপ্নটা দেখেছেন এবং পরিচিতদের কাছে স্বপ্নটা বর্ণনা করছেন। স্বপ্নের তাবির দেনেওয়ালারা এইটা নিয়া গবেষণায় ব্যাস্ত এখন।
সেই পুরনো খেলা আবার শুরু হলো তবে। শোনা যায় হাওয়ায় আবার খেলা জমছে। খুশবো ছড়াবে যে কোন সময়। আবারও ভাইয়ারা ছড়ি ঘোরাবেন, দেশকে আবার ইচ্ছেমতো উল্টে পাল্টে ভেজে খাবেন। আমরা দেখব আর আপ্লুত হবো। স্বপ্ন দেখতে দেখতে লোকজন হাওয়ার সামনে লাইন দেবে। তাদের ঝুলন্ত জিহ্বা থেকে ঝরবে লোভাতুর লালা।
এই যদি কথা ছিল, তবে কেন খেলারামের এত খেলা? তবে কেন এত হম্বি তম্বি? সব শালাই ঠিক থেকে যায়। স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন বিলায়। পা’টা ভাঙ্গে শুধু আহমেদ নূরদের। বেকার হয় রুমন, নাজিম।
কিছু করার নেই হে বালক বালিকারা, হুগা মারা খাবে বলেইতো সবুজ শ্যামল দেশে জন্মাইছ তোমরা আবালের দল।

Monday, September 1, 2008

একটা দিনলিপি রিস্টোর হইতেছে ফ্রম মেমোরি...

শিমুল আমারে ডান দিকে তাকাতে বলে। আমি কিছুই দেখি না। সে আবার দেখায়। সদ্যই ণূড়ে এ্যালার্ম এর খোমা আবিস্কার করে আমি আপ্লুত অবস্থায় তখন, তাই চোখ বিট্রে করে, শিমুল আমাকে কয়েক হাত টেনে নিয়ে দাড় করিয়ে দেয়, 'হিমু মানি একচেঞ্জ' এর সামনে। আমি চোখ কুচকে তারে জিগাই, এইটার মানে কি? শিমুল বলে, দেখো না বেটা মানি লন্ডারিং করতো আগে, আর সচলে কেমন ভাব নেয়। আমি বলি, ধুর ব্যাটা, একচেঞ্জ করলেই কি মানি লন্ডারিং করে নাকি সবাই? সে আমারে ফু: দিয়া উড়ায়া দেয়ার ভঙ্গি করে বলে, তোমার বয়েস ৪০ না হয়ে ৬০ হওয়া দরকার। আরে এইসব আকাম করত বলেইতে সে ভাগছে...
আমি মাথা নাড়াই। কিছুই বুঝি না। অয়নের দিকে তাকাই। দেখি সেও কিছু বুঝে নাই। শিমুলের দিকে তাকাই আবার, বেটা এত পাকলো কেমনে?
তারপরে সামনে দিয়া হাটতে হাটতে সে বলে, অপু ভাই তুমি একটু সাদা দুনিয়ার হিসাব বুঝতে শিখ। তোমারে বুঝাইতে বুঝাইতে আমার বয়েস চল্লিশ হতে চল্ল, কিন্তু তোমার কোন উন্নতি নাই! নিজেরে আমার অসহায় লাগে। আমি এত কম বুঝি কেন? সে যাত্রায় শিমুল আমাকে অনেক কিছুই বুঝায়। শাহবাগের মোড়ে নির্মলেন্দুরে দেখায়। আমি বাদাম খাই, আর মাথা নাড়াই।
পরে সিলেটে এসে আবার পুরানা কথা তুলে। ধান্দাবাজির নানা ঘটনা বলে। শেষ খবর দেয়, সচলের মডুরা নাকি একটা ঘটক খানা খুলতেছে! অবাক কান্ড। আমি তারে জিগাই ক্যামনে কি? সে বলে আহারে তুমি দেখি কিছুই দেখ না, [url=http://www.muktopran.org/node/17839]এই[/url] পোস্ট পড় নাই? আমি বলি, হ্যা। সে পাল্টায়, কি লিখছে? বলি, বয়েস জানতে চাইছে। আবার সে বলে তবু কিছু বুঝ নাই? এইভাবে ক্যান বয়েস জিগায়, তথ্য জোগার করে, কিছু বুঝ না? আরে হেরা কয়েকদিন পরেই দেখবা সচলসাদী ডট কম খুইলা বসছে। তখন বুঝবা...
আমি আবার শিমুলের দিকে তাকাই... অয়নের চোখে দেখি আমার করা প্রশ্নটাই চকচক করে। শিমুল পোলাটা এমন পাকলো কেম্নে?
(চলবে?)

bf