Tuesday, December 30, 2008

ব্যবধানে বাড়ায় শঙ্কা: বিচারের কথা কি বলা হবে এইবার?

ভুমিকা ছাড়াই শুরু করি।

এতটা ব্যবধান কি আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম? মনে হয় না। কিন্তু সেটাই ঘটেছে। ২৬২'র বিপরীতে ৩০। হারাধন মোজাফ্ফরের এক ছেলে ছিলো ৭২ এ। এবার অবশ্য তারচে ভালো অবস্থা বিরোধী শিবিরের।
এই ব্যবধানই বাড়ায় শঙ্কা। আমরা কেমন আগামী পাবো? সংখ্যার এই আধিক্য কি আমাদের অন্য আরেক ভূবনে ঠেলে দিতে পারে?
ইতিহাস কি বলে? এইসব গরিষ্ঠতার ফল কি? চিন্তার ক্ষেত্র যাদের প্রসারিত, যারা পাঠ নিয়েছেন ইতিহাসের, তারা কি বলেন? খুব জানতে ইচ্ছা করছে। জেনে নেয়াটা প্রয়োজন বোধ করি।
ইতিহাসের পাঠ থেকে আমি এই জেনেছি, হিটলার নির্বাচিত হয়েছিল...
মাথার ভেতরে শুধু ঋনাত্মক পাঠ। বার বার মেঘ এসে ভর করে মনের আকাশে। পরিবর্তনের গতিধারা কেমন হবে? যারা আসছে তারা আমাদের দায়িত্ব নেবেন, না ক্ষমতায় বসবেন?
নিরব বিপ্লবের গোপনে যে দাবী, যে দাবী প্রবল নিয়েছে রূপ ৩৭ বছর পরে, তার কি হবে? বিচারের কথা কি পুনর্বার ভুলে যাবে প্রিয় বাংলাদেশ? এইসব প্রশ্নের কোনো উত্তর মিলেনা। ভেতরে নানান উপমা আসে, ভয়ের, শঙ্কার। আমরা কি আশ্বস্থ হবো প্রিয় মাতৃভূমি?
..........................
এই পোস্টটা করা হয় সচলায়ন এ। সেখানে অনেকেই মূল্যবান কমেন্ট করেছেন। সেগুলোও দেখতে পারেন আগ্রহীরা। এখানে রাখা আছে সব।

Monday, December 22, 2008

বেঁচে আছি, দেখে যাও

প্রত্যাবর্তনের পথে নাকি কিছু কষ্টলি অতীত থাকে। বলেছিলেন প্রিয় কবি হেলাল হাফিজ। সেই প্যত্যাবর্তনের পথে আরেক প্রিয় কবির কণ্ঠস্বর ধার করে আজ আমি বলি, শুনে রাখো সবে, আলবাব মরে নাই।

তবে কি তাহার মৃত্যু হয়েছিল?

সেইসব সময়ে আমি মৃত্যুকে ধারন করে ছিলাম। অথবা বেঁচে থাকার প্রাণান্তকর চেস্টা। নিতান্তই অবহেলায় বছরেরও অধীককাল আগে যারা যারা আমারে ছুড়ে ফেলে দিলে, তারা একবার দেখে যাও এসে আলবাব কি অসাধারণ ভাবে বেঁচে উঠেছে আবার।

ভয়ংকরভাবে পতিত আমাকে মনে রাখে নাই কেউ। কালো, হলুদ তালিকায় উঠেছিল নাম। কিভাবে বেঁচে ছিলাম, বাঁচলাম, কেউ খোঁজ নেয় নাই। আহমেদ নূর একবারও প্রশ্ন করেন নাই, কিভাবে টিকে থাকলে? বরং মানুষের মাঝে প্রচারিত হয়েছে অশ্লিল সমালোচনা।

পোষাকী কুকুরের তাড়া খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য প্রিয় বন্ধুর কাছ থেকে পরামর্শের বদলে ভৎসর্না শোনার ঠিকানা পেয়েছি! সব অপমানের পরে বছরের এই শেষ সময়ে এসে দেখি আমি বেঁচে আছি, মাথা উঁচু করেই বেঁচে আছি।

কে আছো কোথায়, দেখে যাও এসে
নজমূল আলবাব মরে নাই।
আর এই পাঠ আমার কাছ থেকে
পূনর্বার শিখে নাও হে বন্ধুসকল
প্রত্যাবর্তনের পথে কিছু কস্টলি অতীত থেকে যায়।

Tuesday, November 25, 2008

এই লেখাটার শিরোনাম নাই। দিতে পারি নাই

বছর দশেক হতে চল্ল... নাহ যুগ পেরিয়ে গেছে। তখন ঢাকা নামের নগরটা আরো অনেক দুরের ছিল। ট্রেনে চড়লে সিলেট পৌছাতে সময় লাগতো সাত/আট ঘন্টা। আর বাসে চড়ার জন্য যথেষ্ঠ সময় হাতে রাখতে হতো। রাতের বেলায় সাহস। নভেম্বরের ২৩ তারিখের ভোর। রাতের বাসে সেই পথ পাড়ি দিয়ে, একটা উলুম্বা পাঠা হৈ হৈ করতে করতে আমার রুমে ঢুকে একেবারে লেপের তলায় সেদিয়ে গেল। লাত্থিগুতা মেরে তাকে নামানো গেলোনা। সে তারস্বরে চেচায়... চিৎকারের ঠেলায় মা নেমে এসে চিল্লা ফাল্লা করে থামালেন। সাফ সাফ বলে দিলাম রোদের যথেষ্ট তেজ না হলে আমাকে যেন সে না ডাকে। কে শোনে কার কথা, পাঠার কাইকুই এর মাঝে কি আর ঘুমানো যায়? অনভ্যাসের সময়ে উঠে দেখা গেল ভ্যামতালাবদমাশটা বিশাল একটা ব্যাগ বয়ে এনেছে, আর তাতে ঠেসে এনেছে মানিক রচনা সমগ্র!!! তিন দশকের অধীককাল বেঁচে থেকে এর চেয়ে মূল্যবান উপহার আর পাইনি। আমার বই এর তাকে রোজ রোজ শোভা ছড়ায় প্রিয় উলুম্বা পাঠা গৌরীশের সেই ঠান্ডা অথচ আবেগী ওমে ভরা ভোরটা...
নভেম্বর তেইশের মতো আরো অনেক তারিখ ছিল আমাদের। সারাদিন আমরা বন্ধুরা মিলে শহর সিলেটকে উল্টে পাল্টে গিলে খেতাম সে সময়ে। তারপরে আমাদের নিস্তরঙ্গ জীবনের শুরু হয়েছিল। সকলের অলক্ষে। আমাদের মাঝে খরগোশের মতো চুপিসারে ঢুকে গেল কয়েকটা মানব মানবি। আমাদের আর নিজের বলে কিছু থাকলো না। আমরা মুড়ি মুড়কির মতো ছড়িয়ে পড়তে শুরু করলাম।
মাঝখানে শূন্যতার মতো দীর্ঘ বিরতির পরে গত শীতে আবার পেয়েছিলাম সেইসব সময়ের কিছুটা ওম। আর এইবার একেবারে ভেসে গেলাম। ....৭৭ নাম্বার সচল লেখায় সৌরভের কিবোর্ড থেকে ছুটে আসা কোমল তুষার আমারে ভিজায় যখন তারও আগে মুঠোফোন ভরে উঠে টুকরো টুকরো চিঠিতে। দুরাগত পাখির মতো গান গায় প্রিয়সব কণ্ঠস্বর...
শুভ ভাই (আলী মাহমেদ) বলেন, প্রতিটা কমেন্ট নাকি তাকে ছুয়ে যায়, সৌরভের পোস্টে করা বন্ধুদের বাক্যগুলো সারাদিন আম্মার দেয়া চাদরের মতো আমারে জড়ায়ে ধরে। অনুভূতি কেমন ভোতা লাগে, আমিও আরন্যকের মতো অনুভূতিশূন্য হই। কাজের ফাঁকে, দৌড়ের ফাঁকে বার বার সচলের পাতায় ফিরে আসি। ভেতরে কতো উচাটন হয় প্রতিবার তার আর কোন বয়ান দিতে পারেনা অক্ষম গদ্য লেখক নজমুল আলবাব। কৃতজ্ঞতায় নত হওয়া ছাড়া আর কিছু নাই।
শুধু বিকেলের রোদ ম্লান হয়ে এলে প্রিয় পলাশ দত্ত যখন মরে যাওয়া কোন এক অপুর জন্য রচনা করেন শোকগাথা, নিজেরে আর ধরে রাখা যায় না। আমিও আপ্লুত হই। মৃত আত্মার জন্য বুকের ভেতরে আনচান করে, চোখ জ্বলে...

Saturday, November 1, 2008

একটা হাবিজাবি রচনা

গত সপ্তাহের পুরোটা সময় কেটেছে দুধের পেছনে। ঘরে দুইটা বাচ্চা। নিজের আর ভাইয়ের। আমাদের পারিবারিক সকল কর্মকান্ড এদের নিয়ন্ত্রনেই আছে। এই উড়ে আসা সরকারে সেনাপ্রধান যতটা গুরুত্বপূর্ণ তারচেয়ে কয়েকগুন বেশি এদের পারিবারিক অবস্থান। সেই দুই ভি ভি আই পি'র খাদ্য সংকট নিয়ে আমর ব্যস্ত, আতংকিত এবং অক্ষম ক্রোধে আক্রান্ত।
১৭/১৮ বছর আগেও আমাদের বাড়িতে গরু পালা হতো। আমরা দুই ভাই আক্ষরিক অর্থেই হাতের কব্জি ডুবিয়ে দুধ খেয়েছি। কিন্তু বাবা-মায়ের সেই পশু প্রীতি কেন যেন আমরা পাইনি। তাই পাশের বাড়িতে থাকতে থাকতে আমাদের শেষ গাভীটি দু তিন মাস আগে মারা গেছে। দুধের এই দুঃসময়ে বার বার এক 'কৃষকমন' আমার ভেতরে তড়পাচ্ছিলো।
আমার এই তড়পানি তুলিকে তেমন স্পর্শ করেনি। সে বার বার বলছিলো, আরে এতদিন যখন খাইছে, তাইলে আর কয়েকমাস খেলে কিছু্ই হবে না। কিন্তু সরকার বাহাদুর তাকে আটকে দিলো। বুধবারে মার্কেট থেকে দুধ উধাও। বাবাইকে যে ব্রান্ড দেয়া হয় সেটা সিলেটে যারা বাজারজাত করে তাদের একজনকে ধরলাম। সে বল্লো তাদের কাছে যা ছিল সব ফেরত দিয়ে দিয়েছে। লোকজন কিছুতেই বিশ্বাস করেনা আমি আর আগের মতো ছিদ্র খুজে বেড়াই না। সাংবাদিকতায় ইস্তফা দিয়েছি। তারা আসল কথা আমার কাছে আগের মতই চেপে যায়।
বিকালে বাসায় যাওয়ার পথে শুরু হলো দুধ খোঁজাখুঁজি। তুলি তখনও গুড়ো দুধ খুজেই যাচ্ছে। আমি তার পেছন পেছন হাটছি। একবার বল্লাম দেশী তরল দুধ নিয়ে নিতে, সে বিকট রিএক্ট করলো। এরচেয়ে নাকি মেলামাইনওয়ালাটা অনেক নিরাপদ!
একবার সে বাসায় ফোন করে জেনে নিলো, গরুর দুধ জোগাড় হয়েছে কীনা। আম্মা না করলেন। পরিচিত এক দোকানদার তখন একটা ফার্মের খবর দিলেন, সকাল-বিকাল একটা নির্দিষ্ট সময় ধরে গেলে সেখানে নাকি দুধ পাওয়া যায়। ছুটলাম দুজনে। ভাগ্য ভালো মিলে গেলো। সময়টাও মিললো আমাদের সাথে। সন্ধ্যায় বাড়ি যাবার পথে নিয়ে নেয়া যাবে।
আমার বাচ্চাদের দুধের সমস্যা মিটে গেলো বলা যায়। বাপের বানানো বাড়িটাকে কাজে লাগিয়ে হয়তো যে কোন দিন আমি নিজেই দুধ ওয়ালা বনে যেতে পারবো। কিন্তু অন্যদের?
আমাদের মহা ক্ষমতাধর বর্তমান সরকার দুই বছরে কত্তো বড়ো বড়ো বুলি আওড়ালো, এখন তারা কথা বলেনা কেনো? অনেক লোকেরইতো কোমর ভেঙেছে তারা, সংস্কারে সংস্কারে ভরে দিয়েছে দেশটা। এখন তাদের সেই জেহাদী ভাব নাই কেন? দুধের এই ভেজালে তারা বাজার থেকে সব দুধ তুলে নিলো, এতেই কি সব দায়িত্ব শেষ? বিকল্প ব্যবস্থার দায়িত্বটা তবে কে নেবে? এই অশ্লিল মানুষগলো কি একবারও সাধারণের কথা ভাবে না?
হরলিক্স এর একটা বিজ্ঞাপন ব্রিটিশরা বন্ধ করে দিয়েছে মিথ্যাচারের জন্য। সেখানে সাফাই গাইতে গিয়ে এরা আবার বলেছে, বিজ্ঞাপনটা নাকি বাংলাদেশের জন্য বানানো হয়েছে। এর মানে কি? কেউ বলতে পারে না। আমাদের ক্ষমতাধর সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেছেন, আইনের খামতি আছে বলে বিজ্ঞাপনগুলোর বিরুদ্ধে কিছু করা যাচ্ছে না।
যারে শালা, এইও আমাদের শুনতে হলো। এই সরকার তবে আইন বুঝে ব্যবস্থা নেয়। আহমেদ নূর ভাইকে তবে বলতে হবে, তার পা ভাঙা হয়েছে আইন মেনে... তিনি যেন বেশি লাফালাফি না করেন।
প্রথম আলো সব ভালোর সাথে থাকার দাবী করে। সম্পাদক মতিউর রহমান কেমন বিছিয়ে বিছিয়ে, ইনিয়ে বিনিয়ে কথা বলেন। সেই মতিউর রহমান তার পত্রিকায় নিয়মিত মিথ্যাচারে ঠাসা হরলিক্স এর বিজ্ঞাপন ছাপান। আহা বড়ো বিচিত্র দুনিয়া। জাতীর বিবেকগুলো কেন যে যাত্রাপালার সেই বিবেকের মতো হয় না...

Saturday, October 25, 2008

অক্টোবর ২০০৮


বনবাসে যাওয়া আর হয় না। বনবাসে যাওয়ার সাহস নেই। শেকড় বাড়ছে, শক্ত হচ্ছে। পিছুটান অনেক...
মনপুকুরে ডুবে থাকতে শিখেছি সেই কবে। পেরিয়ে আসা কৈশোর থেকে শিখে গেছি ডুব দেয়ার সকল কৌশল। এখন সেই সময় এসেছে, ডুবে থাকার, নিঃশ্বাস বন্ধ করে নিজেকে গোপন করার।
অক্টোবর চলে যাবে এ সপ্তাহেই। কি ভয়ঙ্কর সুরেলা মাস ছিলে তুমি প্রিয় অক্টোবর। দেখ আমি এখন আর তোমাকে মনে রাখি না।
মাসের শুরু হয়েছে, একটা বোকা মানুষের জন্ম দিয়ে, সাথে একটা বন্ধুও ছিল। টুকু'দা, শুমি কাউকেই বলা হয়না শুভ জন্মদিন। আগের মতো ঘড়িতে আর রাত বারোটা বাজে না বুঝি? অক্টোবরের সকালেও অনেক কুয়াশা থাকে ঘাসের ডগায়। টুকু'দাকে ঘুম ভাঙাতে না গেলে তাকি আর দেখা হয়?
শেষের আর মাঝের আটেও আছে জন্মদাগ। সেইসব সময়ে অক্টোবর আসলেই কেমন হয়ে যেতাম... আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে... স্বপনের চায়ের দোকানে বিনিময় হতো ভাব, ভালোবাসা। হাতিরাজের বিরিয়ানিও জুটেছিল মনে হয় কয়েকবার। কানিশাইল জল ও তরঙ্গে মেপে কুল পায়নি বন্ধুতার।
বেনোজল ঢুকেছিল কবে মনে নাই আর। মুড়ি মুড়কির মতো ছড়িয়ে পড়লাম কবে সেটা বুঝতেই পারলাম না। বোধহীন হলাম তবে সকলেই? নাকি আমিই শুধু বিচ্ছিন্ন আজ রঙের উৎসব থেকে?
সতের, বাইশ শুধু শুধু কোন তারিখ ছিলোনা মনে হয়। আরও অধীক কিছু, প্রেমেরও অধীক ছিলো আমাদের সম্পর্ক। হায় তবে কেন এই বিচ্ছিন্ন বসবাস? পক্ষিকুল একাই কেন শুধু মালিক ডানার?

Monday, October 20, 2008

আলবাব'র সময় ০৪

ধেয়ে আসছে অশ্লিল আলোর ঝলকানি
মৃত জোনাকে ভরে গেছে বড়গুলের মেঠোপথ

বড়ো বেশি ম্লান চাঁদ সোডিয়ামের মতো হেপাটাইটিস আক্রান্ত, অসুস্থ

দুরে, দুরে, আরও দুরে যতোটা গভীরে যাওয়া যায়, যাও
আলবাব, বেঁচে থাকার মতো মধুময় আর কিছু হতে পারে না।

Saturday, September 27, 2008

এমন চিঠি আর কেউ লিখবে না...

প্রিয় নজমুল আলবাব,
আমার বয়সীরা সাধারণত কনিষ্ঠদের লেখা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তাদের লেখা পড়ে না, পড়লেও স্বীকার করতে চায় না, করলেও প্রশংসায় তাদের শব্দের ঘাটতি পড়ে। ব্যতিক্রম হওয়ার জন্যে নয়, আমি সাম্প্রতিক লেখকদের জানতে চাই, তাদের ভাবনা বুঝতে চাই, তাদের কাছে শিখতেও চাই। আদৌ জানা-পরিচয় নেই, এমন অনেকের লেখা পড়ে ভালো লাগলে নিজের উদ্যোগে যোগাযোগ করেছি, এমন ঘটনা খুব বিরল নয়।


আপনার লেখা এবং তার অন্তর্নিহিত শক্তি নিয়ে আমার মুগ্ধতা আছে, সে কথা প্রকাশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবেও জানিয়েছি। আপনার কাছে আরো অনেক গাঢ় ও গভীর রচনা পাবো আশা করি। কিন্তু খুব দুঃখের সঙ্গে একটি পুরনো প্রসঙ্গের অবতারণা না করে উপায় দেখছি না। আজকের টম-জেরি গল্পটি আমার যতোটা ভালো লেগেছে, ঠিক ততোটাই ব্যথিত করেছে এর অসংখ্য ভুল বানান ও অসতর্ক বাক্যনির্মাণ। আপনি মনঃক্ষূণ্ণ হলেও আমাকে বলতেই হবে, আমার প্রিয় লেখকের কাছে আমি এটা আদৌ আশা করি না।

ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবন, বয়স ইত্যাদি অজুহাত আসলে অচল। অবাংলাভাষী আবু সয়ীদ আইয়ুব বাংলা শিখেছিলেন চল্লিশ বছর বয়সে এবং শিখেছিলেন অনেক বাংলাভাষীকে শেখানোর মতো করে। চেক বংশোদ্ভুত লেখক মিলান কুন্ডেরা প্রথম জীবনে লিখতেন চেক ভাষায়, এখন লেখেন ফরাসী ভাষায় যা তিনি শিখেছেন মধ্যবয়সে। আপনি মনোযোগ দিলে আপনার দুর্বলতাগুলি কাটাতে পারবেন না, তা আমার বিশ্বাস হয় না।

পৃথিবীতে কোনো ভাষায় কোনো বড়ো লেখক নিজের ভাষা ব্যবহারে সংশয়মুক্তভাবে নিশ্চিত নন বা ছিলেন না, এমন উদাহরণ আমার জানা নেই। সাহিত্যচর্চার প্রথম শর্তই তো হওয়া উচিত যে ভাষায় তিনি সাহিত্য রচনা করবেন তার ব্যবহারিক প্রয়োগ কৌশল সম্পর্কে জানবেন এবং ক্রমাগত তাকে শাণিত করবেন। আপনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য লেখক হয়ে ওঠার সম্ভাবনা আমি দেখতে পাই এবং লেখালেখি বিষয়ে আপনার মধ্যে উচ্চাকাঙ্ক্ষা আছে বলে অনুমান করি। কিন্তু সাফল্যের কোনো শর্টকাট পথ নেই।

আপনার লেখাটিতে আমি ভুলগুলি মোটামুটি নির্দেশ করার চেষ্টা করেছি। আপনি হয়তো অপছন্দ করবেন, অসস্তুষ্টও হতে পারেন, কিন্তু আমার প্রতিক্রিয়া সরাসরি না জানিয়ে পারলাম না।

একেকজন লেখকের লেখার অভ্যাস বা ধরণ একেকরকম। এসব দিকে অতিরিক্ত সতর্ক হতে গেলে আপনার লেখার স্বতস্ফূর্ততা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে একটানে লেখা শেষ হওয়ার পর সম্পাদনায় মন দিতে পারেন।

বাদবাকি আপনার বিবেচনা।
জুবায়ের
এপ্রিল ২৬, ২০০৮
---------------------------------------------------------


এইভাবে বিষন্ন হতে আর ভাল্লাগে না।
চিঠির বাক্স এখন খালি পড়ে থাকবে, প্রিয় পত্রলেখক আর জানাবেন না ভুলের ফিরিস্তি। মৃদু বকুনি দিয়ে বলবে না কেউ, নিজেকে এভাবে নষ্ট করার কোনো মানে নেই। আর কি আশ্চর্য লোকটা নিজেই নিজেকে নষ্ট করেছে, খেলেছে নিজেকে নিয়ে দীর্ঘ বছর ধরে! আমাদেরকে বলেছে, নষ্ট হয়ো না, কষ্ট পেলে সেটাকে শক্তিতে পরিণত কর। আর নিজের ভেতরে পুষে রেখেছে দেখো কত কষ্ট, হাহাকার রেখে গেছে আমাদের জন্য...
সবুজ বাতি তবে আর জ্বলবে না? আর কেউ টোকা দিলেই বলবে না, ঘুম নাই তোমার? বাজে ক'টা এখন? আর কেউ অবিন্যস্ত লেখায় লাল দাগ দিয়ে ফেরত পাঠাবে না। 'তুমি' বলার অধীকার পেয়ে শিশুর মতো বলবে না, তোমার সাথে আমার অনেক মিল হে বালক...
'আপনি তো অনেক বুড়ো' এই শব্দুগুলো শুনে তিনি কেমন শব্দে হেসেছিলেন শুনিনি, তবে স্ক্রিনে ভাসা অক্ষর বলেছিল, 'আমি এই লেখাটা দিয়ে বিরাট ভুল করলাম নাকি অপু...'
আমি খুব কাতর সময়ে ছিলাম, আপনি সাহস দিয়ে বলেছিলেন নিজের দীর্ঘ কষ্টের কথা। আর বলেছিলেন, এই যে মানিয়ে নেয়ার চেস্টায় আছো, অবিরত নিজেকে বদলে ফেলতে বাধ্য হচ্ছ, এইসবই লেখায় তুলে আনো।
কিছুই করা হয় না, এই জীবন আমাদের যতটা ভাঙে, দুমড়ে দেয়, মুচড়ে দেয়, ততটা শক্ত হতে মনে হয় শেখায় না...
তবে শেষ কথা এই যে, আপনি লোকটা ভাল নন মুহম্মদ জুবায়ের। এভাবে মাঝপথে যে একা আকাশের তারা দেখতে বেরোয় তাকে ভালো মানুষ কিভাবে বলি জুবায়ের ভাই? কাজটা আপনি ঠিক করেননি...

Sunday, September 21, 2008

মেঘদেখা বালিকা

কি এমন খোঁজ ব্যস্ত রাস্তায়
মেঘেদের মতো চঞ্চল চোখে

শাহানা, আকাশে আজ তারা
নেই, মৃত্তিকায় নেই জল
আজ প্রেমহীন সময়ে
ঘুঙুর বাঁধা পা নিয়ে খবরহীন
উড়ে বিষন্ন পায়রা

আজ কোন খবর পাঠাইনি
মেঘের আড়ালে তোমার জন্য
নিজেই এসেছি, এসো ফুল খেলি...

প্রেমহীন প্রথিবীকে আমি আজ
শাহানার রঙে রাঙাবো...

Tuesday, September 9, 2008

স্বপ্নের শুরু হইছে, খুশবো ছড়ালো বলে...

সকাল হয়েছে সবে। আলো ফুটতে শুরু করেছে আকাশে। মহারাণী রিকশায় চড়ে হাসপাতালে রওয়ানা হলেন! সাথে গুণধর রাজপুত্র! শহরের বড় মোড়টাতে এসে হাসপাতালের রাস্তার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে একজনকে জিজ্ঞেস করলেন। রিকশা আবার চলতে শুরু করলে আবেগে গদগদ লোকটা রাজপুত্রের জন্য শুভকামনা জানায়। বলে, ভাইয়া ভালো থাকবেন। এরপরেই তার ইচ্ছা জাগে, তাঁদের সাথে যোগ দেয়ার ইচ্ছা। সে পেছন থেকে কাতর কণ্ঠে বলে, আমি আপনাদের সাথে আসি? প্রথমে কোন জবাব আসে না। কয়েক পল পরে, রাণীমা মুখ ফেরান আর তার বিখ্যাত গোলাবী হাসি দিয়ে ইশারা করেন...
এটা একটা স্বপ্ন। মহান এক তেলবাজ এই স্বপ্নটা দেখেছেন এবং পরিচিতদের কাছে স্বপ্নটা বর্ণনা করছেন। স্বপ্নের তাবির দেনেওয়ালারা এইটা নিয়া গবেষণায় ব্যাস্ত এখন।
সেই পুরনো খেলা আবার শুরু হলো তবে। শোনা যায় হাওয়ায় আবার খেলা জমছে। খুশবো ছড়াবে যে কোন সময়। আবারও ভাইয়ারা ছড়ি ঘোরাবেন, দেশকে আবার ইচ্ছেমতো উল্টে পাল্টে ভেজে খাবেন। আমরা দেখব আর আপ্লুত হবো। স্বপ্ন দেখতে দেখতে লোকজন হাওয়ার সামনে লাইন দেবে। তাদের ঝুলন্ত জিহ্বা থেকে ঝরবে লোভাতুর লালা।
এই যদি কথা ছিল, তবে কেন খেলারামের এত খেলা? তবে কেন এত হম্বি তম্বি? সব শালাই ঠিক থেকে যায়। স্বপ্ন দেখে, স্বপ্ন বিলায়। পা’টা ভাঙ্গে শুধু আহমেদ নূরদের। বেকার হয় রুমন, নাজিম।
কিছু করার নেই হে বালক বালিকারা, হুগা মারা খাবে বলেইতো সবুজ শ্যামল দেশে জন্মাইছ তোমরা আবালের দল।

Monday, September 1, 2008

একটা দিনলিপি রিস্টোর হইতেছে ফ্রম মেমোরি...

শিমুল আমারে ডান দিকে তাকাতে বলে। আমি কিছুই দেখি না। সে আবার দেখায়। সদ্যই ণূড়ে এ্যালার্ম এর খোমা আবিস্কার করে আমি আপ্লুত অবস্থায় তখন, তাই চোখ বিট্রে করে, শিমুল আমাকে কয়েক হাত টেনে নিয়ে দাড় করিয়ে দেয়, 'হিমু মানি একচেঞ্জ' এর সামনে। আমি চোখ কুচকে তারে জিগাই, এইটার মানে কি? শিমুল বলে, দেখো না বেটা মানি লন্ডারিং করতো আগে, আর সচলে কেমন ভাব নেয়। আমি বলি, ধুর ব্যাটা, একচেঞ্জ করলেই কি মানি লন্ডারিং করে নাকি সবাই? সে আমারে ফু: দিয়া উড়ায়া দেয়ার ভঙ্গি করে বলে, তোমার বয়েস ৪০ না হয়ে ৬০ হওয়া দরকার। আরে এইসব আকাম করত বলেইতে সে ভাগছে...
আমি মাথা নাড়াই। কিছুই বুঝি না। অয়নের দিকে তাকাই। দেখি সেও কিছু বুঝে নাই। শিমুলের দিকে তাকাই আবার, বেটা এত পাকলো কেমনে?
তারপরে সামনে দিয়া হাটতে হাটতে সে বলে, অপু ভাই তুমি একটু সাদা দুনিয়ার হিসাব বুঝতে শিখ। তোমারে বুঝাইতে বুঝাইতে আমার বয়েস চল্লিশ হতে চল্ল, কিন্তু তোমার কোন উন্নতি নাই! নিজেরে আমার অসহায় লাগে। আমি এত কম বুঝি কেন? সে যাত্রায় শিমুল আমাকে অনেক কিছুই বুঝায়। শাহবাগের মোড়ে নির্মলেন্দুরে দেখায়। আমি বাদাম খাই, আর মাথা নাড়াই।
পরে সিলেটে এসে আবার পুরানা কথা তুলে। ধান্দাবাজির নানা ঘটনা বলে। শেষ খবর দেয়, সচলের মডুরা নাকি একটা ঘটক খানা খুলতেছে! অবাক কান্ড। আমি তারে জিগাই ক্যামনে কি? সে বলে আহারে তুমি দেখি কিছুই দেখ না, [url=http://www.muktopran.org/node/17839]এই[/url] পোস্ট পড় নাই? আমি বলি, হ্যা। সে পাল্টায়, কি লিখছে? বলি, বয়েস জানতে চাইছে। আবার সে বলে তবু কিছু বুঝ নাই? এইভাবে ক্যান বয়েস জিগায়, তথ্য জোগার করে, কিছু বুঝ না? আরে হেরা কয়েকদিন পরেই দেখবা সচলসাদী ডট কম খুইলা বসছে। তখন বুঝবা...
আমি আবার শিমুলের দিকে তাকাই... অয়নের চোখে দেখি আমার করা প্রশ্নটাই চকচক করে। শিমুল পোলাটা এমন পাকলো কেম্নে?
(চলবে?)

bf

Tuesday, August 19, 2008

মিহিদানাদিনলিপি

পোষাকী হলে একমুখি সড়কেও ঘোরানো যায় চাকা,
উল্টোদিকে।
সন্তানবতী হলে বউ, ব্লাডি সিভিলিয়ান যায় মাতৃমঙ্গলে,
যানজট ঠেলে।

Saturday, August 16, 2008

সম্পাদকীয়

জলমগ্ন ভবদহ আরও ডুবুক, ভেসে যায়, যাক সুনামগঞ্জের ফসলি হাওর, খেয়াল রেখো, ঢাকায় স্যুয়ারেজ সিস্টেম যেন ঠিক থাকে। খরায় পুড়ে যাক উত্তর বঙ্গের কোমল মাটি, লিড নিউজ কিন্তু ঢাকার তাপমাত্রা নিয়েই করতে হবে। আর্সেনিকে পচে যাক সিলেটের সখিনা, ভেতরের পাতায় থাকুক, সাবধান থেকো, রাজধানীর বাতাসে যেন আর না বাড়তে পারে সীসার মাত্রা।

Sunday, August 3, 2008

ছেলে আমার বড় হবে

জুন মাসের ১ তারিখে বাবাই স্কুলে গেল। সেদিন আমি যাইনি তার সাথে। দু'দিন আগে ভর্তির ব্যাপারে আলাপ করতে গিয়েছিলাম। গাড়িতে ঠাসাঠাসি করে ঘরের প্রায় সবাই। মানে আব্বা, আম্মা, দাদাভাই, তুলি আমিসহ। ভাবী যায়নি বাবা (দাদা ভাই এর ছেলে, আমার বাবা) তখনও ঘুমে ছিল বলে।সে এক বৈরাতি বটে।

প্রথম স্কুলে যাওয়ার দিনে বাবাই যখন গাড়িতে উঠে টা টা বাবা বলছিল, আমার বুকে একটা মোচড়ের মতো দিল। মনে হলো ছেলে আমার বড় হচ্ছে বুঝি, তবে বুঝি দুরত্বের সময় এল...

কয়েকদিন পরে আমি ওকে স্কুলে নিয়ে গেলাম। ফটকের ভেতরে আম্মা তাকে নিয়ে গেলেন। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে। কালো প্যান্ট এর নিচে ইন করে সাদা শার্ট পরা ক্ষুদে ক্ষুদে বাবুদের মাঝে মিশে গেল যখন ও আমার আবার মন খারাপ হলো!!! এসব সময়তো আনন্দ হওয়ার কথা। আমার শুধু মন খারাপ করে কেন?

ফেব্রুয়ারীতে বাবাইর জন্ম। এপ্রিল মাসে সম্ভবত আব্বা বড় একটা টাওয়ালে জড়িয়ে বাবাইকে নিয়ে মোটর সাইকেলে চড়ে বসলেন। সেই থেকে বাবাই নিয়মিত মোটর সাইকেল চড়ছে। অবশ্য দুনিয়ায় আসার প্রস্তুতিকালিন সময়টা ধরলে সে মোটর সাইকেলের যাত্রি হিসেবে আরও অনেক সিনিয়ার। আমার আর তুলির প্রিয় বাহন এই দুই চাকার যান। বাবাইর যেদিন জন্ম হলো সেদিনও তুলি হাসপাতালে গেল মোটর সাইকেল চড়ে।

টাওয়ালে জড়ানো, দাদার কোলে বসা তমাল সোনা এরপর মায়ের কোলে বসে মোটর সাইকেল চড়েছে, আরেকটু বড় হয়ে মা-বাবার মাঝখানে বসেছে, একসময় বাবার সামনে বসাও শিখে ফেলেছে। তেলের টেংকের উপর বসে বসে বকবক করতে করতে ক্বিন ব্রিজ, লাক্কাতুড়া, ডলিয়া, চাতল হাওড়ের পার সব যায়গায় গিয়েছে।

গত সপ্তায় সকালে ড্রাইভার দেরি করে আসায় স্কুলে নিয়ে গেলাম মোটর সাইকেলে করে। মাঝখানে বেশ কয়েকদিন সে মোটর সাইকেলে চড়েনি। মোটর সাইকেলে বসতেই খেয়াল করলাম বাবাইর মাথাটা আমার থুতনি পার হয়ে যাচ্ছে! হেলমেটের গার্ডে মাথাটা বার বার খোচা খাচ্ছে! সেটা খুলে ওর মাথায় দিয়ে দিলাম।

গতকাল বিকেলে । অফিস থেকে ফিরতেই দু'ভাই দৌড়ে গেল, একজন মোটর সাইকেল চড়বে, আরেকজন চড়তে চায় বুমবুম! ছোটজনকে টান দিয়ে তুল্লাম সামনে, বড় সাহেবকে আর বলতে হয়না, নিজেই লটকে ফটকে পেছনে বসে আমার বেসাইজ পেটটা জড়িয়ে ধরে বলে, বাবা চালাও...হঠাৱ করেই আমার বুকের ভেতরটায় ঝুপ করে মনখারাপের মেঘ নামে, ছেলে আমার তবে বড় হয়েই যাচ্ছে...

Tuesday, July 1, 2008

শুভ জন্মদিন হে সচলায়তন

সচলায়তন এর জন্মদিনে (০১ জুলাই ০৮) লিখেছিলাম

এই লেখাটার জন্য আমি ঠিক যোগ্যতরজন নই। কিন্তু জন্মতারিখের বয়েস প্রায় ৪ ঘন্টা হয়ে গেলে বাধ্য হয়েই লিখতে বসা।

একটা বাজে, অস্থির এবং মন খারাপ করা সময় ছিল সেটা। ব্যাক্তিগত ভাবে দুঃসময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছিলাম আমি, দেশ (এখন কি কেটেছে দুঃসময়, প্রিয় স্বদেশ?) এবং আমরা। ব্লগ জীবনের মাস চারেক বয়েস তখন। কিন্তু পুরনো বন্ধুদের কল্যানে নতুন ভাবটা নেই। বরং একটা মুরুব্বি মুরুব্বি ভাব চলে আসে প্রায় প্রথম ব্লগ দিবস থেকেই। বন্ধুদের তৈরি বলয়ে ঢুকে যাই সহজেই।

প্রায়ই অস্থির হত সেই বাড়ি। ভাল লাগত না। এমন এক খাইস্টা সময়ে ধুসর গোধুলি একটা লিংক দিয়ে বলে, শান্ত হোন, কিছু একটা হতে পারে। কিন্তু আল্লাহর দোহাই কাউরে বলবেন না। (প্রায় দেড় বছর পর বল্লাম, সমস্যা হবে না আশা করি। তবু কেউ কিছু বল্লে বলিস আমারে, দেবানে হুড়কো!)

ভার্চুয়াল জিন্দেগানির সুত্রে গড়ে উঠা বন্ধুতায় আরামবোধ হয়। কিবোর্ড, মাউস আর মনিটর হয়ে উঠে প্রিয় অনুসঙ্গ। ইন্টারনেট কানেকশনটা সবচে প্রয়োজনীয় বলে মনে হয়। একসাথে ভাবতে থাকি, আর কি আশ্চর্য সেইসব ভাবনায় কেমন একাকার হয়ে যায় অনেকে। ব্লগারু বলে একটা গ্রুপে প্রবেশ সেই সূত্রে। (কেমন আছ ব্লগারু? কতদিন বিনিময় হয় ভাব ভালবাসা।) প্রিয় অনেক ব্লগারের সাথে সেইসময়েই পরিচয়, বন্ধুতা এবং তারচে বেশি কিছু একটা হয়...

নিয়মিত বিরতিতে অশান্ত হয়ে ওঠার তরিকায় আবারও যখন উল্টাপাল্টা শুরু করে বাঁধ ভাঙার আওয়াজ, সেইসময় আমার প্রিয় বোন তার মহা ব্যাস্ত, ক্ষ্যাপা বন্ধুটির সাথে আলাপ করিয়ে দেয়। ব্লগারুর সূত্রে যার সাথে আগে আলাপ হয়েছে টুকটাক। সে রাতে অরূপ আমাকে আস্বস্থ হওয়ার মত কিছুই বলতে পারে না বা বলে না। শান্ত হতে বলেছিল কি? মনে নেই। তবে ঘন্টাখানেক জিটকে আমাদের আলাপ হয়। পরের রাতে হয়, তার পরের রাতেও মনে হয়। এরপর বিরতি, ৩/৪ দিন পর একটা ঘোষনা পেলাম সেই বাড়িতে। জিমেইল ওপেন করতেই একটা মেইল। সাথে ম্যাসেঞ্জারে অরূপের তাড়া, অপু ভাই জলদি ক্লিক করেন। তিন মাস আগে ধুসরের দেখানো লিঙ্কটা নতুনরূপে হাজির হয় অরূপের হাত ধরে, ‘সচলায়তন’। সেই শুরু।

২ জুন ২০০৭। প্রথম ২/৩ লাইনের একটা টেস্ট পোস্ট দিলাম। মুছে ফেলে কয়েক ঘন্টা পরে আরেকটা টেস্ট। সেটা আর মোছা হয়নি। তবে এর পরের অনেক পোস্টই পরে ঘ্যাচাং করে দিই সচলের আনুষ্ঠানিক জন্মের আগ মুহুর্তে। আমার সেইসব লেখার মৃত্যু দিবস আজ (কমপক্ষে দশটা, যার মধ্যে ধুন্দুমার পিটাপিটি টাইপ দুইটা পোস্টও ছিল, হ্যা মাঝখানের ২৭ দিনে আমরা মারামারিও করেছি ) আজ সচলায়তন এর জন্মদিন। শুভ জন্মদিন প্রিয় সচলায়তন। এই ই আজ বলব। এর চেয়ে বেশি বলা আমার প্রতিভায় কুলাবে না। যারা বলতে পারে তার এখন ঘুমাচ্ছে। তারা ঘুম থেকে উঠে কিছু করুক। তার আগে এইটাই স্টিকি পোস্ট।

Tuesday, June 3, 2008

বিকেলের রোদে দেখা মেয়ে

রঙিন কাগজে বদলানো যেত ঠোটের রঙ আর সেগুনের
কঁচিপাতা ঘসে দিলে হাতে, রাঙানো যেত তারেও।

শহুরে চোখে ওরকম গোলাপের ছাপা দেয়া জামা হাস্যকর বটে।
তবু আমি অবাক হয়েছিলাম। দুধ আলতা এক করে কখনও দেখিনি,
সেইদিন মনে হয়েছিল উপমাটা বুঝি তোমার জন্যই লিখেছিল কেউ।

মেঘের বিকেলে রোদ কেমন কোমল হয়ে পড়ে... সেই বিকেলে
তুমি না এলে আলবাব রোদ্দুরে মাতাল হতোনা কোনদিন।

মেয়ে তোমার বাড়িতে বুঝি অনেক রঙিন কাগজ ছিল? লাল আর
গোলাপ রঙের? রোজ সকালে কি তুমি সেগুনের সাথে প্রেম করতে?

Monday, May 5, 2008

পথ চলতি গল্প আর আমি অথবা আমার পথচলা


তবে কি বদলে যাচ্ছি? ভাব ধরা সময়টা পার হতে পেরেছি? মাঝে মাঝে মনে হয়, হ্যা বদল ঘটছে, মাঝে মাঝে মনে হয়, না, হচ্ছেনা।


গত সপ্তায় একটা বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে গেলাম। শিক্ষাবিদ প্রফেসর মো। আব্দুল আজিজ এর 'কালের যাত্রার ধ্বনি' গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠান। স্মৃতিচারণ মূলক গ্রন্থ। স্যারের দীর্ঘ জীবনের নানা স্মৃতি উঠে এসেছে পারিপার্শ্বিকতাসহ। প্রায় ছয় মাস পরে এমন একটা অনুষ্ঠানে গেলাম যেখানে আমার সাবেক সহকর্মীরা আছেন। বুদ্ধিবৃত্তিক অনুষ্ঠানগুলো সচেতন ভাবেই বর্জন করছিলাম বেশ কয়েক মাস। তবু গেলাম। তুলির প্রচন্ড আগ্রহ, সাথে নিজেরও কিছু টান ছিল। এই গ্রন্থ শুরু হয়েছিল পত্রিকার পাতায়। আমি সেইসময় সেই পত্রিকার এইসব লেখালেখির বিভাগটা দেখতাম। টুকরো টুকরো লেখা জমে মলাটের ভেতর ঢুকেছে! আরামদায়ক বটে।


অনুষ্ঠানে সীমিত মানুষের উপস্থিতি। আয়োজকরা সবার নাম ঠিকানা লিখে নিচ্ছিলেন। আমার সামনে যখন স্বাক্ষরের কাগজটা এলো, পেশা লিখতে গিয়ে লিখলাম 'ব্যবসা'! আমার হাতটা কি একটু কাঁপলো? বুকের ভেতর কি টান পড়লো? এভাবে কি পরিচয় বদলে ফেলা যায়। রাস্ট্র কি এভাবেই নিয়ন্ত্রন করে মানুষের পছন্দ, জীবনের সরল রেখা?


২.

হিমন ছবি আঁকে। আমার বন্ধু শাহ আলমের ছাত্র। আরেক ছোটভাই ওসমান এর ভাই। সজল ছত্রী লিখে কবিতা। এরা এখন দিনমান ঘিরে রাখে আমাকে। তাদের স্বপ্ন গিলে খাই রোজ আমি।


দিনে চোদ্দহাজার বার ইলেকট্রিসিটি যায়। ভ্যাপসা গরমে রুমে বসা দায়। আমি তখন রাস্তায় হাটি। সাথে থাকে হিমন নয়ত সজল নয়ত তারা দুজনেই। আরও অনেকেই। এদের সাথে কোন কালেই সেভাবে কথা হয়নি। দেখা হতো মাঝে মাঝে, সালাম পেতাম। মাথা ঝুঁকিয়ে সাড়া দিতাম, কথা বলেছি হয়ত মাঝে মাঝে। আর এখন এই পাগলেরাই আমাকে ঘিরে রাখে। মনটা মৃত হতে হতে হয়না সজিব এই যুবকদের জন্য।


শহর সিলেটকে আমি আমার হাতের তালুর মত চিনি। রাস্তায় রাস্তায় হেঁটেছি, মোটর সাইকেল দাবড়িয়েছি অনেক বছর। একটা সময় আমার 'কমিন্দির' চোটে পরিচিতরা রাস্তায় পেলে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতেন। মুখে মুখে কাতুকুতু দেয়া আর খোঁচা দিয়ে কথা বলা ছিল অভ্যাস। রিক্সায় বসা কাউকে দেখলে মাঝে সাঝে চিৎকার দেয়া হতো। এসবই ভুলে গিয়েছিলাম...

৩.
জিন্দাবাজারে দাতের মাজন বিক্রি করে হেঁটে হেঁটে এক লোক। দশ বছর কিংবা তারও বছর দু এক আগের অপু জেগে উঠে। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়ায়। মাজনের দিকে সরু চোখে তাকায়। বিক্রেতা উৎসাহে মাজনের গুনাগুন শোনায়। বলে, দাতের সব দাগ মুছে দেবে, নিয়ে যান ভাই নিয়ে যান... অপু বিতলামি এক ভঙি করে দু পাটি দাত মেলে ধরে... সজল, হিমন হেসে উঠে হা...হা...হা... মাজনওয়ালাও হাসে। আগে, সজলের দশ বছর আগে হাসতো জাকির কিংবা রিয়াদ...


৪.
আলীয়া মাদ্রাসা মাঠে বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। ৯৭ সালে মনে হয় প্রথম হয়েছিল। কুমারপাড়াবাসী আমাদের এক বান্ধবীর প্রেমে পড়ল এক বালক। বেচারা রোজ একবার করে আমাদের মেলায় ঢোকায়। টিকিটের কাটা অংশটাও দিয়ে দেয় লটারির জন্য। চটপটি খাওয়ায় আর বলে ইয়াসমিন আসবেনা অপু? আমি বলি রাজুরে ধর। সে রাজুর কাছে যায়। রাজু আশ্বাস দেয় আসবে আসবে। কিন্তু কি গরম পড়েছে দেখছ... সে দৌড়ে যায় আইসক্রিমের দোকানে...
মেলা শুরু হয়েছে এক সপ্তাহ হয়ে গেল। টান পাইনা মনে। রোজ সকাল বিকেল মাঠের পাশ দিয়ে যাওয়া আসা করি, মেলায় ঢোকা হয়না... বুড়া হয়ে গেলাম তবে?


না বুড়া হইনি। আজকে দুপুরে রাস্তায় হাটতে হাটতে আমি আচমকা গেয়ে উঠেছি, রূপভানে নাচে কোমর দুলাইয়া... হা...হা...হা... হিমন আমারে বলে অপু ভাই আপনে মিয়া বদ আছেন, আমাদের বলেন ফাউল আর আপনে এখন বেটির গান ধরেন!!! আমি হাসি, ঠা ঠা মারা হাসি... অনেক দিন এমন করে হাসতে পারিনা। আগে রোজ হাসতাম, হাসাতাম তারও বেশি।


আজ (৫ মে) শাহ আলম এর জন্মদিন ছিল। দু সপ্তা পর বিয়ে বার্ষিকী তারও দুদিন পর

মৃত্যু... এই লেখাটা তারে দিলাম।

Saturday, April 26, 2008

হাঁসফাঁস মানুষ ও টম এন্ড জেরি

নতুন কেনা ডিভিডি প্লেয়ারে টম এন্ড জেরির কার্টুন চলে। মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে আছে ছেলে। ততোধিক মুগ্ধতা নিয়ে ছেলেকে দেখে আনোয়ার। ভাতিজার শখ মেটাতে প্লেয়ারের সাথে টম জেরির পুরো কালেকশন নিয়ে এসেছে শফিক । একটার পর একটা এপিসোড আসছে।
টিভি দেখতে দেখতে হঠাৎ করেই ছেলের মুখটা করুণ হয়ে ওঠে। আনোয়ারের চোখ এড়ায়না। কিরে বাবা, কি হয়েছে, মন খারাপ করলো কেন, বলে সে আধশোয়া শরীরটা টেনে ছেলের কাছে নিয়ে যায়। বালিশে হেলান দিয়ে বসে থাকা ছেলে বাপকে জড়িয়ে ধরে, 'বাবা হাঁসের বাচ্চাটাকে কেন নিয়ে গেল... ' আনোয়ার টিভিতে চোখ রেখে বোঝে কার্টুন দেখেই ঘটনা ঘটেছে। একটা হাঁস ছানা সেখানে চেঁচামেচি করছে। রিউয়াইন্ড করে বিষয়টা বোঝার চেষ্টা করে সে। দুষ্টু টম জলার ধার থেকে হাঁসের ডিম চুরি করেছে, সেটা থেকে বাচ্চা ফুটেছে, তারপর বাচ্চাকে রোস্ট বানানোর ধান্দায় টমের নানা কিসিমের বিতঙ। হাসি আসার মতো কাণ্ড সব। আনোয়ার ছেলেকে জড়িয়ে ধরে বলেন, এইতো বাবা সব ঠিক হয়ে যাবে, দেখ দুষ্টু টম কেমন জব্দ হয়, একটু অপেক্ষা করো। বাচ্চাদের রেসিপি বানানোতে ওস্তাদ কার্টুনওয়ালা ঠিকই হাসিয়ে দেয় চার বছরের অন্তুকে। সে ফোকলা দাঁত বের করে হাসতে থাকে আর বাবার উপর গড়িয়ে পড়ে। আনোয়ারের মন ভালো হয়। একইসাথে সে ছেলের মন নিয়েও চিন্তিত হয়। এত কোমল কেন এই ছেলে? এই অল্পতেই তার মন খারাপ করে। মা একটু বকা দিলেই জ্বর ওঠে। একদিন রাগের মাথায় একটা চড় দিয়েছিলো সুলতানা, পরের এক সপ্তাহ গিয়েছে জ্বরে। এখনও সেই চড়ের কথা মনে হলে ছেলেটা মনমরা হয়ে যায়। এই দেশে এত মন খারাপ করা ঘটনা ঘটে রোজ। ক'দিন পর এই নাজুক মন নিয়ে ছেলে পড়বে বিপদে। ভাবতেই আনোয়ারের মন খারাপ হয়।

শফিক অন্তকে কোলে নিয়ে পটিয়ে দু চারটা আদর খেয়ে নেয়। 'কি রে টম জেরি কেমন লাগে।' চাচার গালে চকাস করে আরেকটা আদর দিতে দিতে অন্তু হাসে, আরেকটা 'এনে দেবে চাচ্চু?' রাজি হয় শফিক, কিন্তু শর্ত জুড়ে দেয় গালে পঞ্চাশটা আদর দিতে হবে! তারপর প্রশ্ন করে, 'আচ্ছা অন্তু, টম না জেরি কারে তোর পছন্দ?' - 'হাঁসের বাচ্চাটাকে আমার পছন্দ।' অন্তুর উত্তর শুনে অবাক চোখে তাকায় শফিক। 'আরে ইঁদুর বেড়ালের মাঝে তুই হাঁস পেলি কই?' আনোয়ার যোগ দেয় তখন, 'আর বলিসনা কি একটা হাঁসের বাচ্চারে ধরে আনছে টম সেইটা দেখে বাবুর তো মন খারাপ। কান্না কান্না অবস্থা। কবি টবি হয় কিনা এই বেটা আল্লাই জানে' বলে হাসতে থাকে আনোয়ার। শফিকও সে হাসিতে যোগ দেয়।

শওকত নিজের টেবিল থেকেই হাঁক ছাড়েন, 'ওই আনোয়ার ভাই আপনে বলছিলেন মোটর সাইকেল কিনবেন, পাইছি একটা, লাগবো?'ফাইল থেকে মাথা না তুলেই আনোয়ার জবাব দেন, 'লাগবে তো বলছিলাম, কিন্তু তেলের দাম নাকী আবার বাড়াবে।'- 'আরে সেই চিন্তা করলে হবে নাকী। তেলের দাম বাড়লে সব কিছুর দামই বাড়বে। রিকশা ভাড়াও তখন বাড়বে। কিনতে চাইলে বলেন।'- 'ঠিকাছে লাঞ্চের সময় কথা বলবো।'

আশি সিসির সাইকেল। এটাই আনোয়ারের পছন্দ। সে ছোটখাটো মানুষ। বড় সাইকেলে তার পোষাবেনা। তবে জাপানি না, এটা চায়নিজ। শওকত বুঝ দেয়, 'কী যে বলেন ভাই, সেই দিন আর আছে নাকি? জাপানি সাইকেল নাই। এখন সব ইন্ডিয়া নয়তো চায়না। আর সার্ভিসতো খারাপ না। আমি একবছর ধরে চালাচ্ছিনা?' সেটাও ঠিক। আর কথা বাড়ায়না সে। যা বলার শওকতই বলে। পঁচিশ হাজার টাকায় রফা হয়। এখনই মোটর সাইকেল নিয়ে নেয়া যাবে। টাকা দিতে হবে এক সপ্তার মধ্যে।

কলেজে পড়ার সময় আনোয়ার মোটর সাইকেল চালানো শিখেছিল। বন্ধুদের সাইকেল ছিল। তারাই শিখিয়েছে। মাঝে মাঝে চালানোও হতো তখন। মোটর সাইকেল কেনার চিন্তা মাথায় আসার পর একবার শওকতের সাইকেলে উঠেছিলো, কিন্তু সামলে উঠতে পারেনি। আজ শওকতের উৎসাহে মোটর সাইকেল নিয়ে নিলেও সেটা এখনই কিভাবে চালাবে সে চিন্তায় বেশ বিব্রত হয়ে পড়লো আনোয়ার। এবারও ত্রাতা হয়ে এলো শওকত। 'বিসমিল্লা বলে কিক মারেন আনোয়ার ভাই। আমি আপনার সাথে সাথে বাসা পর্যন্ত যাবো। কিনে ফেলেছেন, এখনতো চালাতেই হবে। নেন শুরু করেন।'শওকত ঠিকই বলেছে, চালাতে তো হবেই। স্টার্ট দিলো। হালকা পাতলা সাইকেল। পুরনো চালানোর কথা স্মৃতিতে এনে আস্তে আস্তে এগুতে থাকলো আনোয়ার। অনেকটা ঘোড়ায়ও চড়িয়া মর্দ হাটিয়া চলিল টাইপ...

সুলতানা অবাক হয়ে তাকায় আনোয়ারের দিকে! সত্যি বলছেতো এই লোক। সে মোটর সাইকেল কিনেছে! আনোয়ার তাকে টানতে টানতে নিয়ে আসে। শওকত তখনও উঠানে নিজের মোটর সাইকেলে বসে। সুলতানাকে দেখে বিকট হাসি দিয়ে উঠে, 'ভাবী আপনার জামাই শেষ। সে ঘুষ খাওয়া ধরছে। দেখেন আস্তা একটা মোটর সাইকেল নিয়া আসছে।' সুলতানা হাসতে থাকেন। ‌‌‌' কে দিলো এই ঘুষ শওকত ভাই?'- আমি দিলাম, আপনে যাতে দ্রুত একটা বউ খুঁজে দেন আমারে এজন্য এই ঘুষ।- তাইলেতো ঘুষটা সে খায় নাই। আমি খাইলাম...- শওকত আবারো হাসি দেয়। ততক্ষণে বেরিয়ে আসে অন্তু। লাল রঙের সাইকেলটা দেখে সেও ফোকলা দাঁত বের করে।

রাত নয়টায় শহরের ভিড় কমে যায়। রাস্তাগুলো ফাঁকা হয় হয় একটা ভাব। এমন সময়টায় বেশ একটা দুঃস্বাহসের কাজ করে ফেলে আনোয়ার। বিকেলে পাড়ার ফাঁকা মাঠে ঘন্টা খানেকের প্র্যাকটিস সম্বল করে মোটর সাইকেলের পেছনের সিটে বউ আর পেট্রল টেঙ্কির উপর ছেলেকে বসিয়ে সে শহর দেখতে বেরিয়ে পড়ে।শহর অনেক বদলে গেছে। আগের সেই ছোট ছোট রাস্তা নেই। ডিভাইডার বসানো, নিয়ন বাতির বড় সড়ক। মোড়ে মোড়ে ফোয়ারা। সুলতানা ঘনিষ্ঠ হয়ে স্বামীর পেট পেঁচিয়ে বসে থাকে। স্বভাব বিরুদ্ধভাবে লাগাতার কথা বলে সে। কথা বলে আনোয়ারও। মোটর সাইকেল চালাতে চালাতে শহরের একেবারে শেষপ্রান্তে চলে যায় আনোয়ার। কলেজ ক্যাম্পাসে। এই ক্যাম্পাসেই সে মোটর সাইকেল চালানো শিখেছিলো। দশ বছর পর মোটর সাইকেলের মালিক হয়েছে, তাই জানাতে যেন সে ক্যাম্পাসের পাশের রাস্তাটা দিয়ে চক্কর দেয়। আগে রাত দিন চব্বিশ ঘন্টা কলেজের ফটক খোলা থাকতো। এখন দিনেও সব ফটক খোলা হয়না। কত পরিবর্তন। এখনকার স্টুডেন্টরা এই বন্ধ ফটক কিভাবে সহ্য করে আল্লাই জানে। ঘোরাঘুরি শেষ করে ঘরে ফিরতে ফিরতে সাড়ে দশটা বেজে যায়। এতক্ষনে অন্তুর ঘুমিয়ে যাবার কথা কিন্তু মোটর সাইকেলের উত্তেজনায় সেটা উধাও।

মোটর সাইকেলটা আনোয়ারের রুটিনই বদলে দিয়েছে। আগে সন্ধ্যার পর ঘরে বসে টিভি দেখা নয়ত ছেলের সাথে খুনসুটিতেই কাটতো তার সময়। এখন প্রায় রোজই বেড়াতে বের হতে হয়। বউ খুঁজে খুঁজে আত্মীয়স্বজন বের করছে যেন। সপ্তায় সপ্তায় সেইসব আত্মীয়স্বজনের বাসায় যাওয়া হচ্ছে। এতে অবশ্য খারাপ লাগেনা আনোয়ারের। সবার সাথে যোগাযোগ হচ্ছে। সম্পর্ক গভীর হচ্ছে। ছেলেও আত্মীয়স্বজনদের চিনতে পারছে এতেই সে সন্তুষ্ট। মাঝে মাঝে ছেলেকে নিয়েও বেরুতে হয়।

শফিক খুব ব্যাস্ত। ভাটির দিকে একটা বাঁধের কাঁজ পেয়েছে। পাথর ফেলার কাজ। রোজ সকালে উঠে ৫০/৬০ মাইল দুরের সেই বাঁধে যেতে হয়। ফিরতে ফিরতে রাত ১২টা ১টা বাজে। অন্তুর ডিভিডি কেনা তাই আর হয়না। চাচা ভাতিজার মাঝে সম্পর্কটাও খারাপ হতে চলেছে এই নিয়ে। শুক্রবারের সকালে সে আর চাচার সাথে কথা বলেনা। শফিক অনেক চেস্টা করে খাতির লাগায়। তারপর ভাইয়ের সাথে পড়ে। ও ভাইজান তুমি অন্তুরে একটা ডিভিডি এনে দেওনা ক্যান? এখনতো মোটর সাইকেলও আছে তোমার। কথাটা শুনে আনোয়ারেরও মনে হয়, তাইতো, ডিভিডিটা তো সেই আনতে পারতো। সুলতানাও বলে, ঠিকই তো শুধুতো ছেলে দেখেনা, তুমিও তো তাল মিলিয়ে ইঁদুর বিড়ালের দৌড় দেখ। তাইলে আনার বেলায় এত আলস্য কেন...

শনিবার আধা ছুটির দিন। ব্যাংক, সরকারি অফিসগুলো বন্ধ থাকলেও বেসরকারি অফিস খোলা থাকে। আর কাজও যেন একটু বেশিই হয় সেদিন। ছেলেকে কথা দিয়েছিলো আজ টম জেরির ডিভিডি নেবে, কিন্তু কাজের চাপে সেটা বেমালুম ভুলে যায় আনোয়ার। ঘরে আসতে আসতে সন্ধ্যা পেরিয়ে যায়। কিন্তু ছেলে তার আব্দারের কথা ভোলেনা। বাপ ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই শুরু হয় নাকি কান্না। কাপড় আর ছাড়া হয়না। ছেলেকে বলে, চল বাপ বেটায় গিয়া সিনেমা নিয়া আসি। কান্না ভেজা চোখ মুছতে মুছতে অন্তু যেভাবে তাকায় তাতেই আনোয়ার গলে যায়। এই না হলে ছেলে। মন ভালো করে দেয় নিমিষে।

ছেলেকে বুকে পিষে ফেলতে ফেলতে আনোয়ার মোটর সাইকেলে বসে। সুলতানা পেছন পেছন এসে বার বার বলে, সাবধানে চালাবা, দেইখ আমার ছেলের যেন না লাগে। আনোয়ার হাসে। ছেলে বলে ওঠে মা আমি বড় হইছিতো, আমার লাগতনা... স্বামী স্ত্রী দুজনেই হেসে ওঠে। পেট্রল টেংকের উপর শক্ত হয়ে বসে অন্তু।

মোটর সাইকেল স্টার্ট দিয়ে পিকআপ নেয়ার আগে আনোয়ার হেলমেট খুলে দেয় সুলতানার হাতে। আমার ছেলে মাথা খুলে যাবে আর আমি হেলমেট পরে, এইটাতো হতে পারেনা।
- কিরে অনু আইসক্রিম খাবি?- না, মায় না করছে- তোর মা'তো নাই। বাসায় গিয়ে বলবোনা। খাবি কি না বল।ছেলে খুশি মনে মাথা দোলায়। এই যে মাথা দোলালো এতে অবশ্য কিছু যায় আসেনা। ঘরে গিয়ে প্রথম যে বাক্য বলবে অনু, সেটা হলো, আমি 'আইসকিম' খাইসি... সাথে সাথে শুরু হবে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ...

চার রাস্তার মাথায় বেশ একটা জটলা। দুর থেকেই দেখা যায়। কাছে গিয়ে দেখে গাড়ি চেক করা হচ্ছে। আনোয়ার আস্তে আস্তে মোটর সাইকেল চালিয়ে পাশ কাটাচ্ছিলো। কালো পোষাকের একটা লোক তাকে থামায়। হাতের লাঠিটা দিয়ে রাস্তার পাশের নির্দিষ্ট যায়গাটা দেখিয়ে দেয়। হালকা পাতলা গড়নের এক তরুণ সেখানে দাঁড়িয়ে। বয়েসে আনোয়ারের কয়েক বছরের ছোটই হবে। বাজখাঁই গলায় বলে সাইকেলের কাগজপত্র বের করেন। সাথে আনোয়ারের খেয়াল হয় অফিসের ব্যাগের ভেতর রয়ে গেছে কাগজপত্র...। এদের ব্যাপারে অনেক কিছু শুনেছে। বুকের ভেতর দ্রিমিক দ্রিমিক আওয়াজ শুনে সে। হ্যাবলার মতো তাকিয়ে থাকে। মুখে কথা আসছেনা। ধমক দিয়ে উঠে সেই লোক। কথা কানে যায়না? কাগজপত্র বের করেন। আর হেলমেট নেই কেন? হড় হড় করে কথা বলে আনোয়ার, ‌‌'আসলে সব কাগজই আছে, অফিসের ব্যাগে রাখা। ছেলে এমনভাবে ধরলো যে বাসায় ঢুকে ব্যাগটা রেখেই আবার বেরিয়ে এসেছি ওকে নিয়ে। আলাদা করে মোটর সাইকেলের কাগজটা আর আনা হয়নি... কথা আর শেষ করতে পারেনা আনোয়ার, ডান গালে ঠাস করে একটা চড় বসিয়ে দেয় স্মার্ট তরুণ। শালা বাঞ্চোতের বাচ্চা বেইমান, ছেলেকে নিয়েও মিথ্যা বলিস, লজ্জা নাই তোদের। ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে যায় আনোয়ার, গালটা গরমে ফেটে যায়... চোখ বেয়ে নেমে আসে জলের ধারা, বাধাহীনভাবে টপ টপ করে ছেলের মাথায় পড়ে কান্না... লোকটা আবার গলা ঝাড়ে, এই বেটা যা, ছেলের জন্য ছেড়ে দিলাম। আরেকদিন যদি পাই জন্মের মতো মিথ্যা বলা ভুলিয়ে দেব।

অনু মাথা ঘুরিয়ে একবার বাবাকে দেখে, আরেকবার দেখে সামনে দাঁড়ানো মানুষটাকে। বাবার গালে আচমকা হাত বুলিয়ে বলে, চলো বাবা বাসায় যাই। আমার টম জেরি লাগতনায়। টম ভালোনা, সে হাঁসের বাচ্চারে কষ্ট দেয়... বিধ্বস্ত হতবাক আনোয়ার বাড়ির পথে ঘোরায় মোটর সাইকেল

Thursday, March 20, 2008

আলবাব'র সময় ০৩


বেনোজলে ভেসে যায় ফসলের যৌবন।

ভেসে যায় জারুলে ফুল।

আমিও ভাসি

ইশ্বর ভাসতে শেখায়

তাই নজমুল আলবাব

ভেসে যায় সনাতনী

জল ও কাদায়

Thursday, March 13, 2008

আলু পটল সংক্রান্ত দিনলিপি

দরজা লাগাইলেই বউ বদলায়া যায়। ক্ষমতায় গেলে...
তুমি মিয়া সকালে ঘুমের ঘোরে বউ গালে হাত দিছে বইলা একেবারে গইলা গেলা! পিরিতি উথলায়া উঠলো। খবরদার বউয়ের গালে গাল ঘসতে যাইওনা। খসখসা দাড়ি লাইগা তার ঘুম ভাঙলে খবর আছে, হুঁ।
দরজা লাগাইলে বউ বদলায় এই কথা শুনে গদগদ হওয়ার জামানা শেষ। শব্দটায় যৌনতার ঘ্রাণ থাকলেও এখন আর সেইসব পাওয়া যায়না। দরজার ওইপাশে আম্মা আম্মা ডাইকা গলায় রক্ত তুইলা বউ দরজা লাগায়, তারপর সে আর আম্মা থাকেনা। তোমার আম্মা দিয়া শুরু হয় ঠেকে... পোয়াতিসময়ে যে আম্মা পেটে তেল মালিশ করে দিল সেই আম্মায় রান্ধনের কালে তেল কেন মাইপা দেয় এইটাই হইল বিষয়, সোয়াবিনের লিটার একশ হোক কীবা দেড়শ বউয়ের তাতে কি? আর মায়েরইবা কি?
এক লোক কোন দুরদেশে যাইতেছে। (এইটা কিন্তু আগের জামানার কিচ্ছা। নানাজানের কাছ থাইকা শোনা)। পায়ে সুন্দর জুতা, কাঁধে চাদর। রাস্তায় কাদা। পার হওনেরর কোন উপায় নাই। বেশ কিছুক্ষন লোকটা দাঁড়াইলো। তারপর চাদরটা বিছায়া কাদার উপর দিয়া হাইটা গেল। অন্য আরেকজন ঘটনা দেইখা অবাক হয়। প্রশ্ন করে, ভাই এইটা কী করলেন? জবাব আসে, আরে ভাই কাদা থেকে জুতাটা বাঁচাইতে হবেনা। দুইশ টাকা দিয়া কিনছি। সেই লোক বেকুব হয়ে আবার প্রশ্ন করে, চাদর? আরে ওইটাতো বাবায় কিনছে...
আব্বায় তার শশুরের কাছ থাইকা এই গল্প শিইখা রাখছে। সময়মত বলবে। লগে ফুটনোট যোগ হয়, এইটাতো বাপের টাকা, যা ইচ্ছা কর, নিজের টাকা হইলে দেখা যেত। একেকজনতো মিনিস্টার হইয়া গেছ। পাব্লিকের টেকা যেমন ইচ্ছা উড়ায়া দেওন। আমার ঘরে এইসব চলবে না... আহা, আব্বার হাই প্রেশার। কেনযে এইভাবে চেচামেচি করে! ঠিক আছে, আইজ থাইকা আমি ফখরুদ্দি তত্বাবধায়ক। আর বাড়ন্তি টাকা খরচা করুমনা। আইজ থাইকা বেগুন খাওয়া বন্ধ। আলু কেনাও বন্ধ।
তাইলে খামু কি? হাওয়া? সাইফুর রহমানরে ধরতে হবে। এই লোক খাবার অভ্যাস বদলানোর অনেক লেকচার দিছে। টেকা নিয়াও তার বিতঙ ছিল নানান কিসিমের, যদিও নিজেই টেক্স দিতনা। হা... হা... হা...
খাদ্য উপদেষ্টা শওকত আলীর কাছে যাওয়ার চান্স পাইলে সেইটাও করা যাইত। এই লোক সাইফুর রহমানের থাইকা কয়েককাঠি সরেস। সে বলছে খানা খাদ্য কমায়া খাইতে। বোরো ধান উঠলে নাকি পোষায়া দেয়া যাবে পেটরে, তার আগে পেট বাবাজি ঘন্টা বাজাও। এইবার আর হাসি আসতেছেনা... এরচেতো আল্লার মালই ভাল আছিল।
তুমিতো শালা বাপ হয়া গেছ! মাইয়ার লগে খাতির আছে তোমার? রোজ কামলা শেষে বাড়িত আসার সময় তার লাইগা লেবঞ্চুস আনতে হয় সেইটা জান? জাননা। কেমনে জানবা, তোমার বাপতো কোনদিন আনেনাই। পকেট ঠন ঠন লইয়া অবশ্য তোমারও কিছু করার নাই। সাম্প্রতিক ওয়াশিং অপারেশনে তুমি যে কেমনে সান্দায়া গেলা..., দুঃখ হয়। কিন্তু কিছু করার নাই। পাওটা কি ভাল হইছে? টাইন্না টাইন্নাই হাটো। দেশ তোমার পায়ের উপর দিয়াই পবিত্র হইছে, এই কথা মনে কইরা বীরপুরুষদের ক্ষমা কইরা দেও। ওহহো নেপথালিন নিতে ভুইলনা আবার, বউয়ের মাথায় উকুন হইছে, নারকেল তেলের লগে মিশায়া মাথায় দেবে। নারকেল তেলের দাম জান? জানার দরকার নাই। সেইটা বউ নিজেই জোগাড় করবে।
রিকশায় উঠলেইকি নিজেরে রাজা বাশশা মনে করন লাগে? পৌরুষ জাগনা দেয়? এই লোকটারে গাইল দিতেছ কেন? আরে আরে, শালা বল কোন সাহসে? বয়েস দেখছ কত হবে তার? এর বড় বইনেতো তোমারে কোলে নিছে। এখনকার অবস্থা তাইলে চিন্তা কর। হা...হা...হা...। অশ্লীল, অশ্লীল।
তোমার বস আজকে মুজমায় আছে এইটা জানো? রিসিপশনের মেয়েটা এখন তার রুমে। সে এখন দীপাবলী সাদা জামার সাথে লাল রঙের ব্রা কেন পইরা আসছে এই গবেষনায় ব্যস্ত। একটু কি কাঁপলা তুমি? কেন তোমার কাঁপাকাঁপি করে কেন? আরে বাবা কোন এক কালে তারে তোমার মনে ধরছিল বইলাকি এখনও এইভাবে কাঁপবা? সেতো তোমারে লাই দেয়নাই। তুমিও বেটাগিরি দেখাইতে গিয়া বিয়া একখান কইরা ফালাইলা। তার কিন্তু কোনকালেই প্রেমভাব ছিলনা। সে এখন যেভাবে আছে এইভাবেই সুখ পায়। লাল ব্রা নিয়া প্রশ্ন শুনলে সে পুলক অনুভব করে। তার লাল ব্রা দেখার শখ নাইতো আবার তোমার?
তুমি কিন্তু আইজ বেশি সময় থাইকনা অফিসে। আজকে মাল খালাসের দিন। এইসবে তুমি কোনদিনই পারঙ্গম না। শেষে কি ভেজাল লাগায়া দিবা। আর শোন সন্ধায় কিন্তু আড্ডায় বসবানা। আজকে নেপথালিন নিতে হইব বাসায়। ওহহো কবজ নিছিলা পরশু? নেওনাই। কবে যে তোমার মাথাটা ঠিক হবে! আজকে না নিলে খবর আছে। তোমার আম্মাজানে আজকে ছেচা দেবে তোমারে। কবজ নিবা মনে কইরা, লগে মারভেলন। চরিত্রটাতো ঠিক করতে পারলানা এখনতারি। স্বপনের দোকানে ভুলেও বসবানা। জরুরি আইন এখতারি তুইলা নেয়নাই। খাসলততো ঠিক হবেনা কোনদিনই। উল্টাপাল্টা বলবা আর আবার নিয়া যাবে। আগেরবার পায়ের উপর দিয়া শেষ হইলেও এইবার আর সেই আশা কইরোনা কিন্তু।

Tuesday, March 4, 2008

আলবাব'র সময় ০২

এমন কিছু করিনি এখনও যে সফলেরা আমাকে একিন করবে।
ব্যর্থ মানুষের তকমা এটে গেলে একবার পিঠে আলবাবের আর
কিইবা করার থাকে? গান যত গাওয়া হয়েছে এতদিন সব দেখি
বেমালুম ভুলে বসে আছি! এইসব মনে রাখতেও সফল মানুষ
হতে হয় বুঝি? ধুর, আর এইভাবে বিরহের গীত গাইতে ভাল
লাগেনা। আম্মা যে কেন কিছুই বুঝেনা...

মাঝে মাঝে আলোর বিন্দু নিয়ে সরু কিছু টানেল থাকে, বিপদগ্রস্থ
মানুষেরা সায়রে ভেসে থাকার চেস্টায় খড়কুটো যেমন আকড়ে
ধরে তেমনি এই কালে উপদেষ্টারা সেই আলোর পেছনে ছুটেন
আর মাইক্রোফোনের সামনে এসে বলেন, আলো দেখতে পাচ্ছি,
এইবার হবে বন্ধুগন...

আলবাবের একটা খড়কুটো নাই, সরু কোন টানেলও নাই, নাই
কোন ভরসার আলোকবিন্দু... এইবার তবে বনবাস...

Tuesday, February 12, 2008

আজ এইটুকুই সুখ সংবাদ

নিঃশ্বাস বুঝি আটকে যায়। বন্ধ হয়ে যায় একে একে সব চেনা দরজা, জানালা।


গতকাল সন্ধায় আবার নাটকের সভা হয়েছে

গরম চায়ে মজেছি আমরা পাগলের দল।

এইবার তবে মহড়া। ধুপ জ্বেলে পূনর্বার যাত্রা...


ইদানিং যিনি এই শহরের বারো জনের একজন

তিনি এসেছিলেন, নতুন গাড়ি তার ঝা চকচক

সংস্কৃতির এমন বেহাল দশায় তিনি ব্যাথিত, কান্না

পায় তার। আমরা আপ্লুত হই ভালবাসায়। ঝুলে

পড়তে ইচ্ছে করে গলায়। আপনি সংস্কৃতির আব্বা

হবেন এইবার। আসেন গলায় মালা পরেন জনাব বলে

নৃত্য করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু কিছুই করা হয়না। শুধু

ডালপুরি চিবুই। শুধু চা গিলি আর আগামীকাল কফি পাওয়া

যাবে এই আশাবাদ শুনি। তিনি এই শহরের বারো জনের একজন

তাই তাকে গুরুত্ব দিতেই হবে। তার কথা মন দিয়ে শুনি।


যতযাই হোক, আসল কথা হল জানালা বন্ধের জামানা

এসে গেছে। নিঃশ্বাস বন্ধ হলে হবে জানালা খোলা যাবেনা

দরজাটা একটু ফাঁক করে প্রয়োজন মতো শুধু বলতে হবে

ভাল আছি খুব, সুখে আছি। সময়মত টিভি ক্যামেরা

পৌছে যাবে আপনার দরজায়। শোক বলবেননা ভুলেও

পোষাক পরা ফেরেশতারাও কিন্তু বসে নেই।

Monday, February 11, 2008

বউ বাটা বলসাবান: বিস্মৃত বয়ান


বেশি বেশি ভাব বলে একটা কথা আছে। আমরা প্রায়ই এই কথাটা বলি, পাব্লিকের বেহুদা আচরনকে বুঝাতে। এই মূহুর্তে আমি সেরকম একটা বেহুদা আচরণ অর্থাত্ বেশি বেশি ভাবের কাজ করব।

কাজটা আসলে করার কোন কু-ইচ্ছা কখনই আমার ছিলনা। কিন্তু শিমুলিয় অনুরোধে এটা করতে বসলাম। তাছাড়া বেকার দ্যা গ্রেট হিসাবে একটা কাজ অন্তত পাওয়া গেল।

বিষয় হল
বউ বাটা বলসাবান নামের অতি ক্ষুদ্র গল্পের জন্ম কাহিনী।

সবকিছুর একটা সময় আছে। যার জীবনই পাকাপোক্ত হলনা তার আবার জীবনী কি? বউ বাটা বলসাবান কতটুকু গল্প হয়ে উঠতে পেরেছে এই প্রশ্নটারই কোন উত্তর আমার জানা হয়নি আর তার কীনা জন্ম কাহিনী! তবু লিখি। এইসব অবাধ লেখার স্বাধীনতা আছে বলেইতো ব্লগ।

হিসাব করলে দশ বছর হয়ে গেছে। এই মূহুর্তে ছাপানো কপিটা হাতের কাছে নেই। থাকলে সেই তারিখটা দেখে নিশ্চিত সময় বলতে পারতাম। সেইসময় সবে আমরা লেখা গুলে খাবার বয়েসে পৌছেছি। নিজেরাই লিখি, নিজেরাই খাই টাইপ অবস্থা। সিলেটে বেশ বড় একটা গ্রুপ আমাদের। আকাম কুকাম অনেক কিছুই করি আমরা। এর ফাঁকে কেউ নাটক করে, কেউ আবৃত্তি করে। আর সব বাঙালির কমন বদদোষ হিসাবে আমরা সাহিত্য চর্চ্চাও করি।

গৌরীশ দারুন প্রবন্ধ লিখত। তার পড়ার বিষয় ছিল, রাজা রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ এবং রবীন্দ্রনাথ। অর্নার কাজকারবার ছিল বৈদেশী সাহিত্যে। রাজু লিখত স্যাটায়ার। রানা সিরিয়াস গল্প। আমি লিখার চেস্টা করতাম কবিতা। আমাদের গ্রুপের সিনিয়ার ছিলেন আরিফ জেবতিক, হাসান মোরশেদ, রিপন চৌধুরী, উজ্জল রায় এরা। এদের উপরে লীলেন ভাই, জফির সেতু, মোশতাক আহমাদ দীন, শামীম শাহান।

আমি যে কারো অনুবাদ করা কিছু পড়ে একদম আরাম পাইনা। কারণ অর্নার মত এত চমৎকার অনুবাদ আর কেউ করেনা। রানা মেহের যেদিন তার গল্প এই ব্লগে পোস্ট করবে সেদিন বুঝবেন আলবাব কোন শ্রেণীভুক্ত কলমচি। জেবতিক রাজীবের স্যাটায়ার হত অসাধারণ। মান্নাদা কবিতা। হাসান মোরশেদ, আরিফ জেবতিক কিংবা মাহবুব লীলেন ভাইদের ব্যাপারে কিছুকি আমারে বলতে হবে? মনে হয়না। এই এদের মাঝে সবচে অনুজ্জল কেউ থাকলে সে আমি। মূলত ফিলার রাইটার হিসাবে আমার উৎপত্তি। ম্যাগাজিনের শেষ পৃষ্ঠাটা যখন দেখা যায় খালি থেকে যাচ্ছে সেখানেই অপুর যায়গা হয়। তবে একটা গোয়াড় টাইপের কথা বলে এই অধ্যায় শেষ করা যায়, আমার বন্ধুরা সবাই লেখা শুরু করলে, অন্য কারো কিছু না পড়লেও চলবে আমার। আসলে অন্য লেখা পড়ার সমই পাবনা আমি।

আহারে বউ বাটার কথা বলতে এসে এসব কি বলছি?

সহবাস বের হল। খুব বড় সাহিত্য আন্দোলন হবে, বিপ্লব হবে এমন কোন উচ্চাশা থেকে কাজটা করা হয়নি। আসলে নিজেদের লেখার একটা উদার জমি তৈরির জন্যই সহবাস এর জন্ম। দ্বিতীয় সংখ্যা থেকে আমি কাজ শুরু করি। সেসময় বেশ কটা গল্প লিখে ফেলি। সবগুলোই এমন মাইক্রোস্কোপিক আকারের। যেগুলো ছাপা হয়েছে সেগুলো আছে এখনও। বাকিগুলো হারিয়ে গেছে।

গল্প লিখার ক্ষেত্রে কোন বিশেষ পরিকল্পনা করে কখনই এগুইনি। লিখতে বসেছি, লেখা হয়ে গেছে এই টাইপ। সিরিয়াস হয়ে, নাক মুখ খিচিয়ে মাথার চুল ছিড়ে চিন্তা করতে করতে কোনকিছুই কোনদিন আমি লিখিনি। যে শব্দটা আমি চিনি, নিত্যদিন ব্যবহার করি সেই শব্দটা বসিয়ে নিজের কথাই মূলত বলি আমি।

বিভিন্ন মিতভাষণ আর বউ বাটা বলসাবান দু দিনের ব্যধানে লিখা। লিখেছিলাম তিনটা। বিভিন্ন মিতভাষণ আর অন্য আরেকটা নিয়ে আমি হাসান মোরশেদ আর আসিফ মনি বসেছিলাম ইউনাইটেড ক্লিনিকের বারান্দায়। মোরশেদের বাবা অসুস্থ ছিলেন তখন। আমাদের আরেক বন্ধুজন আসিফ মনি আর মোরশেদ মিতভাষণটা মেনে নিলেও অন্যটায় একটু কাজ করতে বল্লেন। ঠিক হল দুটোই সহবাস এ দেয়া হবে। কিন্তু বাসায় ফেরার সময় সেই গল্পটা হারিয়ে যায়। মোটর সাইকেল চালাতে চালাতে ঠিক করা নবম পাঠের বছর নামটা ছাড়া আর কিছুই মনে নাই এখন। বিভিন্ন মিতভাষন ছাপা হয় সহবাস এ।

গিয়াস ভাই এর সাথে কথা হয় একদিন। লেখালেখির খবর নিয়ে হালকা একটা ঝাড়ি দেন তিনি। একি সময়ে লিখা বউ বাটা জেট পাঠালাম তার কাছে। এরপর ভুলে গেলাম। বন্ধুসভা তখন নিয়মিত পড়া হত। আড্ডার নিয়মিত সদস্য। একদিন গল্পটার কথা মনে হল। বন্ধুসভার গোষ্টি উদ্ধার করলাম। আল্লাই জানে সেই গরম খবর পেলেন কীনা গিয়াস ভাই! পরের বুধবার বন্ধুসভায় ছাপা হল গল্পটা। তবে একটা শব্দ বদলে। আমি লিখেছিলাম জেট পাউডার, গিয়াসভাই সেটারে বলসাবান করে দিয়েছেন। পরে বল্লেন অনুপ্রাস প্রিয়তায় এই নাম বদল। খারাপ লাগেনি আমার। ভালই লাগলো।

এরপর নিরবতা। অনেকদিন পর। কয়েকমাস হবে হয়ত। ঢাকায় গেছি নির্বাসনে। গিয়াস ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গেলাম। সুমন্ত আসলাম আমারে বলে 'কনগ্রাচুলেশন'। বুঝলামনা কেন বলে। গিয়াস ভাই জিজ্ঞেস করেন কিরে তুই পত্রিকা দেখিসনি? না বলতেই হাতে থাকা কাঠ ফাইলটা এগিয়ে দেন। আমি ভ্যাবলা হয়ে যাই...

এবং পুস্তক
এরপর কত বছর গেল। সব ভুলে গেছি। গৃহপালিত টাইপ একটা ভাব এসে গেছে। অন্য আরও অনেক চিন্তা মাথায়। সন্তান এবং সন্তানবতীদের নিয়ে নিত্য সংসার।

গতবার আরিফ ভাই একটা ইউ আর এল দিলেন। বল্লেন, সারাদিনতো নেটেই থাকিস। একবার ঢুকে দেখিস। বেশ ভালই লাগল। একটা বদ অভ্যাস আছে আমার। নেটে নিজের নাম সার্চ দেয়া!!! এখানেও দিলাম। আর অবাক হয়ে দেখলাম হাসান মোরশেদ তার একটা লেখায় বউ বাটা বলসাবান এর কথা লিখেছেন। হৃদয় খোঁড়ে যে সবসময় বেদনা জাগে তা নয়। মাঝে মাঝে দীর্ঘশ্বাসের মত আরামদায়ক কিছুও মিলে যায়...

আবারও পাগলামিতে পায়। আবারও উচাটন। কিবোর্ডে বসলে রাগ করে পালিয়ে যাওয়া শব্দগুলো হঠাৎ হঠাৎ ধরা দেয় ইদানিং। তাই একুশের বই মেলায় জন্ম নেয় বউ বাটা বলসাবান নামের ক্ষুদ্র এক গ্রন্থ।

Saturday, February 9, 2008

কয়েকটা দিন অন্যরকম-শেষ


রোববার, ৩ ফেব্রুয়ারি।
মেলা নিয়ে আমার অনেক স্মৃতি। শৈশবের বড় একটা সময় আমি মেলায় মেলায় ঘুরেছি। রঙিন সেইসব মেলা। ধল মেলা ( এই মেলাটা বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের জন্য বিশেষ ভাবে পরিচিত), মাতারগাওয়ের মেলা, জগন্নাথপুরের বারুনি, ঢাকাদক্ষিনের রথের মেলা বা বারুনি (শ্রী চৈতন্যের স্মৃতি বিজড়িত) আরও কত। এই গতবারই ঘুরে এলাম পনাতির্থ থেকে। আমার জীবনটা নানা রঙে রাঙাতে এইসব মেলার ভূমিকা অনেকখানি।


গ্রামবাংলার চিরায়ত মেলা দেখে অভ্যস্তরা নগরের মেলায় কতটা আরাম পাবে? একদমইনা। তাই বাণিজ্য মেলা, তাত বস্ত্র মেলার মত নাগরিক ভিড় আমাকে কখনই টানেনা। আমি অভ্যস্থ পায়ে হাটতে পারিনা। দম বন্ধ হয়। এইসব মেলার রঙবাহার দেখলে আমার হাসি পায়। ঐতিহ্যকে দড়ি বেঁধে মেলার মাঠে দাড় করিয়ে রেখে কর্পোরেট বাণিজ্য। তবু যেতে হয়। বাধ্য হয়েই যাই।


ইদানিং কঠোরভাবে গৃহপালিত নজমুল আলবাব মেলায় যান। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। মা, বাচ্চা, বউ, ভাইয়ের বউ, মামু... বিশাল সে বাহিনি।


আমার ছেলেটাকি আমার মতই? কিছুটা মনে হয়। সেও আমার মতই খুব দ্রুত দলছুট হয়ে পড়ে। ভিড়বাট্টায় নিঃসঙ্গ হয়ে একা একা গুটি পায়ে হাটে। তাই বিশাল মেলা মাঠে ঢুকতে না ঢুকতেই আমরা বাপ ছেলে মূল দলের বেশ দুরেই পড়ে গেলাম। মেলার খেলনাগুলো তাকে বেশ টানছিল। তবে সেটা আর দশটা বাচ্চার মত নয়। যখনি তাকে বলা হল, এটাতো তোমার আছে। একটু ভেবে যখন দেখল সত্যিই বাসায় আছে, তখনই তার বায়না শেষ। এইসব করতে করতে একসময় আবিস্কার করলাম আমরা বাপ ছেলে বাটা কোম্পানির বানানো কৃত্রিম ফুল বাগানে বসে আছি! বেশিক্ষনতো আর বসা যায়না। তাই আবার দলের সাথে যোগ দিতে হয়। আবার দলছুট হই। মজোর স্টলটা করা হয়েছে বেশ অভিনব কায়দায়। সারাটা প্যাভিলিয়ন ঘিরে রেখেছে এ্যাকুরিয়াম দিয়ে। বাবাই খুব মজা পায়। দাড়িয়েই থাকে, দাড়িয়েই থাকে। ঘন্টা পেরিয়ে যায় তার দেখা শেষ হয়না। প্রথমে বাবা, পরে মা আর সব শেষে দাদুকে সঙ্গে নিয়ে সে রঙিন মাছ আর জলের খেলা দেখতেই থাকে। তারপর নানা ছলছাতুরি করে সরাতে হয়।


আগেই বলেছি, একদমই ভাল লাগেনা এইসব ভিড়বাট্টা। তাই বেশি মনে নেই। অথবা রাখিনি। অবশ্য খুব ভাললাগা সেইসব মেলার বর্ণনাও আমি দিতে পারবনা। কেন যেন গুলিয়ে যায় সব... তবু এই বেনিয়া মেলা আমার জন্য অন্যরকম ভাল লাগা নিয়ে আসে। মা কতদিন বলেন, তাকে নাকি একদম সময় দিইনা। বউ বাচ্চারও সেই অভিযোগ। কিছু করতে পারি আর না পারি ওদের সাথে সাথে ঘুরা ঘুরিতো হল...


সোমবার, ৪ ফেব্রুয়ারি
সকালটা অনেক দেরি করে শুরু হল। মেলা থেকে ফিরে অনেকক্ষন জেগে ছিল বাবাই। তাই সকালে তার ঘুম ভাঙেনা। প্রায় দুপুর গড়িয়ে যায়। খা খা দুপুর বলে যে কথাটা শামসুর রাহমান বলেছেন সেটা এসে সামনে দাড়ায়, যখন রিক্সা টেক্সি কিছুই মিলেনা। প্রায় আধা ঘন্টা রোদ খাবার পর একটা সি এন জি পাই। ধানমন্ডিতে হালকা ঘুরান্তি শেষে শাহবাগ। আজিজ মার্কেটটারে আমার নিজের বলে মনে হয় অনেক বছর ধরেই। শুদ্ধস্বরের অফিস। টুটল ভাই বসে বসে কাজ তদারকি করছেন। বই যাবে মেলায় অনেকগুলো। শেষ মূহুর্তের ব্যাস্ততা। নানা কথা হয়। ঘুরে ফিরে আসে ভার্চুয়াল জীবন। কেমন অভ্যস্থ হয়ে গেলাম আজিব এক সাইবার লাইফে, অথচ আগাগোড়া ননটেকি মানুষ এই আমি। শুদ্ধস্বর থেকে বেরিয়েই দেখা পাই কলি আপা আর ইরাজ ভাইয়ের। আমার দুজন প্রিয় মানুষ। একজন সংবাদ এর ফিচার পাতা দেখছেন এখন, আগে ছিলেন ভোরের কাগজ-এ। আর ইরাজ ভাই আমার মত সাংবাদিকতা থেকে বিতাড়িত অথবা পলাতক। নাইওরিতে বসে বসে আড্ডা হয়। কখন বিকাল হয়ে গেল তার কোন হদিসই থাকেনা। পুত্রধন ততক্ষণে ক্ষুধায় আক্রান্ত। আজিজ এর মিনি চায়নিজ নামক বস্তুতে বসে পুরত্রের উসিলায় নিজেদেরও পেটপূজা।


ফোন বাজে। আরিফ ভাই। খবর মিলে তীরন্দাজ বসে আছেন মেলায়। একটু পরে আবার ফোন, অয়ন। মেলায় এসে গেছে সেও। আমরা তাড়াতাড়ি ছুটি। সন্ধার ঠিক আগে আগে মিশে যাই বইয়ের রাজ্যে।

গোল্লায় যাও ভার্চুয়ালিটি
ভার্চুয়াল সম্পর্কগুলো কি রকম? কিবোর্ড, মাউস, ইন্টারনেটের মাঝেই কি এসব সীমাবদ্ধ থাকবে? যদি এই ধারনার উপর জগৎটা প্রতিষ্ঠা পেয়ে থাকে তবে সে বিরাট ভুল করেছে বাংলাদেশে এসে। এখানে তার সব ভাবই মৃত্যুবরণ করেছে। বাঙালিরা ভার্চুয়ালিটির খেতা পুড়ে এইটারে রিয়েল লাইফে ঠিকি টেনে এনছে। তাই একজন তীরন্দাজ সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে এসে খোঁজ করেন অনভ্যস্থ মানুষ নজমুল আলবাব এর, অয়ন নামের মেধাবী তরুন আচানক হয়ে উঠে বন্ধু। নিজের বইয়ের কাজ ফেলে লিটল ম্যাগ চত্বরে ছুটে আসে অমিত আহমেদ। মুজিব মেহেদীর দিকে হাত বাড়িয়ে নামটা বলতেই হালকা হাসি খেলে যায় তার মুখে। আড্ডা জমে উঠে, আর আমাদের দিকে অবাক চোখে মাঝে মাঝে তাকিয়ে থাকেন এক আশ্চর্য সুন্দর বিদেশীনি...( এই দিনের বর্ননাটা অনেক প্রানবন্তভাবে দিয়েছেন অমিত। http://www.sachalayatan.com/aumit/12194 আমি আর কস্ট করতে রাজি নই)

অতঃপর শেষদিন
বউ এর কামলা শুরু হবে ছয় তারিখ থেকে। তাই পাঁচ তারিখেই রওয়ানা দিতে হবে। আগের রাতে বই মেলা থেকে ফেরার সময় টিকিট কেটে নেই। দুপুরের বাস।


বছর কয়েক আগে পর্যন্ত আমার কাছের বন্ধুদের সবাই ঢাকার বাসিন্দা ছিল। এখন সবাই একসাথে টেমসের তীরে বসত গড়েছে। সেসময় আমার ভাইও ছিল ঢাকায়। কাজে অকাজে প্রায়ই তখন ঢাকায় যেতাম। বাস যোগাযোগ তখন এত ভাল ছিলনা। তাই ট্রেনে চড়ে যাওয়া হত। আমাকে ট্রেনে তুলে দিত দাদাভাই নয়ত গৌরিশ। ট্রেন ছেড়ে দেয়ার পরও তারা অনেক্ষন দাড়িয়ে থাকত। জানলা দিয়ে তাকালেই তাদেরকে দেখতে পারতাম। আর আশ্চর্য ব্যপার আমার বুকের ভেতর কেমন হু, হু করে উঠত, কান্না পেত। সারা রাস্তা আমার মন খারাপ থাকত...


কিছু মানুষ আছে যারা খুব করে চাইলেও ভেজাল এড়িয়ে চলতে পারেনা। আমি সেই গোত্রের। সোহাগ এর বাস সার্ভিসের এত নামডাক। তারা কীনা আমাদের যে সিট দিল সেটার উপর এসির পানি টপ টপ করে পড়ে! আর এমন তাদের ভাব যেন কিছুই হয়নি। টিকিট কেটেছ যখন তোমাকে যেতেই হবে। আমার সাইজটাও এমন যে এই পাঁচ ফুটকে কেউ পাত্তা দিতে চায়না। আম্মা আমার উত্তেজনা দেখে বলেন, আমরা চল পরের গাড়িতে যাই... আমি কিচ্ছু বলিনা। টাকওয়ালা লোকটাকে আস্তে করে বল্লাম, ভাই এইখানে নামায়া দিতে পারেন ( বাস তখন চলতে শুরু করেছে। আমি অন্য সিট দখল করে রেখেছি। আর সেই সিটের লোকজন দাঁড়ানো!) ঢাকা শহরে কিচ্ছু করার নাই আমার। কিন্তু সিলেটে আপনার অফিসে বাসে মিলেও আমার ছেলেদের নাস্তা হবেনা ! লোকটা আমার দিকে একপলক তাকিয়েই দুরে চলে যায়। পনের মিনিট পরে সব ঠিক!!! আজিব দুনিয়া, বিনয়ে কাজ দেয়না আর ভাব নিয়ে কথা বল্লে বাপ ডাকতে এগিয়ে আসে!!! আমি সত্যিই মহা অবাক হয়ে সারাপথ বসে থাকি।
এই অবাক ভাব আসায় একটা লাভ হয়েছে আমার। কারওয়ান বাজারের মোড়ে দাড়ানো অয়নকে দেখে বুকে যে হু...হু... ভাবটা এসেছিল সেটা কেটে গেছে।
অয়ন তুই অফিস ফেলে বোকার মত ওই রাস্তায় দাড়ায়া ছিলি কেন তখন?

কয়েকটা দিন অন্যরকম-৩

অনেক আত্মীয় স্বজন আছেন যাদের সাথে কোন যোগাযোগই নেই আমার। কালেভদ্রে দেখা হয়। হাই হ্যালো পর্যন্ত সম্পর্ক। ঢাকায় গেলে হোটেল নয়ত বন্ধুর বাড়িতেই থাকতে অভ্যস্থ। কিন্তু এবার আম্মা সাথে। তাই অনেকের সাথেই দেখা হল। বারিধারার জনৈক অতি বড়লোক মামার বাড়িতে যেতে হল শুক্রবার রাতে।

বড়লোকদের বাড়িকি খুব ঠান্ডা হয়? আমার কেন যেন এইসব বাড়িকে অস্বাভাবিক শীতল মনে হয়। সারারাত প্রচন্ড শীতে আমি কাবু ছিলাম! তবে সকালটা বেশ ভাল লাগলো। সে বাড়িতে থাকা চমৎকার দুটো পিচ্চির সাথে দারুন সময় কাটলো।

দুপুর গড়িয়ে যাওয়ার সময়ে শুদ্ধস্বরের টুটুল ভাইকে (আহমেদুর রশীদ) ফোন করলাম। বল্লেন, তোমার বইতো এসে গেছে অপু। স্টলে দিয়ে দেবো? না করার প্রশ্নই উঠেনা। বল্লাম, অবশ্যই। একটু পরেই আরিফ ভাইয়ের ফোন। কিরে আজও মেলায় যাবিনা নাকি? বলি, হ্যা যাব। তুমি কখন যাবে? বিকালে শুনে, সেইসময় যাওয়াটা ঠিক করি। ফোন রেখে দেয়ার আগে প্রশ্ন করেন, তোর বইয়ের খবর কি? বল্লাম স্টলে চলে গেছে। আরিফ ভাই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে ঝাড়ি দেয়। তুই এত পাষাণ হলি কবে? বই মেলায় এসে গেছে আর তুই এখনও মামুর বাসায়? জলদি মেলায় আয়। আমি যাচ্ছি...

আগেই বলেছি ঢাকায় আমি অন্ধ মানুষ। ড্রাইভাররা আমার সাদা ছড়ি। মামার ড্রাইভার মফিক মেলায় নামিয়ে দেবার দায়িত্ব নেয়। গাড়িতে বসেই খেয়াল হল, দেখিনা আরিফ ভাই এখন কোথায়। আমি কোথায় আছি জেনে তিনি বলেন, মহাখালির ওভারব্রিজ পেরিয়ে নেমে যা। কিন্তু নামব কিভাবে? বাবাই ততক্ষনে আমার কোলে চেপে বসেছে। ফোনে কথা বলা শুনেই বুঝে গেছে আমি নেমে যাব। তাই আগেই প্রোটেকশন! ছয়মাস আগেও এমন টান ছিলনা আমার জন্য। বেকার হয়ে যাওয়ার পর বাধ্য হয়েই ঘরে অনেক্ষন থাকতে হয়। তাই পিতা পুত্রের এখন বেশ খাতির। গাড়ি থেকে নামতে তাই যুদ্ধ করতে হল।

আরিফ ভাই কয়েক মিনিটের মধ্যেই এলেন। তার মাইক্রোতে চড়ে বই মেলা। গতবারের মেলার সাথে এবার বেশ পার্থক্য দেখলাম। লাইন ধরে ঢুকতে হলনা। মেলার মাঠে একেবারেই ধুলা নেই। প্রথম টার্গেট লিটল ম্যাগ কর্ণারের দিকে দ্রুত এগিয়ে গেলাম। কেমন একটা দুরু দুরু ভাব ছিল বুকের ভেতর। এইটারে মনে হয় শূন্যতাও বলা যায়। দুর থেকেই দেখলাম ছোট্ট বইটা শুয়ে আছে শুদ্ধস্বরের টেবিলে। সাদা মলাটটারে আমার সাদা টাওয়াল বলে মনে হল। তার ভেতর ছোট্ট একটা বাচ্চা! আরিফ ভাই গিয়েই হাতে নিলেন। একপ্রস্ত প্রশংসার পর হাতে দিয়ে বল্লেন, দে একটা অটোগ্রাফ দে! আমি আপ্লুত হই।

এই ফাঁকে ভাস্করদা আর মৌসুম এসে হাজির। দুজনেই প্রশংসা করেন। আমি ঠিক বুঝিনা, খুশি করার জন্য তারা বলছেন না সত্যিই ভাল লাগছে! তবু ভাল লাগে...

এরপর হাটা আর আড্ডা চলতেই থাকে। আমিও তাতে অংশ নেই। কিন্তু এখন আর কিছুই মনে করতে পারছিনা। শুধু মনে হচ্ছে আরিফ ভাইয়ের হাত থেকে বইটা হাতে নিয়ে একটু পর পর দেখছিলাম। ভাল লাগছিল। ঘোর লাগছিল। অখচ এমন হওয়ার কথা নয়। এই বইটার কোন কিছুই আমার কাছে নতুন নয়। প্রায় দশ বছর আগে থেকে শুরু করা ছোট কয়েক টুকরো গল্প। এইসব লেখার প্রকাশক পাওয়া যায়না। আমি সে চেস্টাও করিনি। যদিও আরিফ ভাই আর বন্ধু পলাশ দত্ত কিছু চেস্টা করেছিলেন। সে পর্যন্তই। আমি নিজের টাকায় বই ছাপার উদ্যোগ নিয়েছি। কেন নিয়েছি জানিনা। সে পর্যন্ত মনে হয় আবেগ ছিল। এরপর আর কিছু অনুভব করিনি। অন্য দশটা কাজের মতই এটাও একটা কাজ ছিল। বেশ খানিকটা কাজ হয়ে যাওয়ার পর আমার সহোদর এর টাকা যোগানদার হওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। এর আগে আমার কৈশোরের এক বন্ধু প্রায় রোজ একবার করে টাকা দেয়ার চেস্টা করেছেন। আমি আসলে বেশ সৌভাগ্যবান। কেন যেন বন্ধুরা আর পরিবারের মানুষজন আমাকে একটু বেশিই ভালবাসে। প্রায় বাউন্ডুলে আমাকে নিয়ে তাদের অনেক চিন্তা। অনেক ভালবাসা।

সেই বইটা বেরিয়েছে। সাথে বন্ধু মাশার কবিতার বই 'এই মিছা কবি জীবন' । এই বইটা তিনি ঢাকা থেকেই বের করতে পারতেন। কিন্তু বন্ধু প্রকাশনা সংস্থা করছে, তাকে একটু সাহস দেয়া দরকার শুধুমাত্র এই বোধ থেকেই তিনি তার বইটা আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। জানিনা আমি তার বিশ্বাসের মূল্য দিতে পারলাম কীনা।

ওহহো কি বলতে কি বলা শুরু করলাম! বিয়ে বাড়ি থেকে ফোন আসতে শুরু করেছে। আরিফ ভাই বলে, আরে রাখ বিয়ে বাড়ি। তোর বই বড় না তালতো ভাইয়ের বিয়ে বড়। তবু যেতে হয়। বই মেলার গেট থেকে বিদায় নেন মৌসুম ভাস্কর দম্পতি। আমারা এগিয়ে যাই। এরি মাঝে ফোন। অমিত আহমেদ। তিনিও মেলায় এসেছেন। কিন্তু ততক্ষনে গাড়ি চলতে শুরু করেছে। পরদিন দেখা হবে এই ভরসায় আর মেলায় ফেরা হয়না।

ছবির হাটে থামি। পুরনো বন্ধুদের অনেকেই এখানে আড্ডা দেন। মেসবাহ য়াযাদ দেখেই হাউকাউ করে উঠেন। কিরে কবে আসলি, কোন যোগাযোগ নাই কেন। নানা অভিযোগ তার। গিয়াস ভাই এর কথা জিজ্ঞেস করি। হাত তুলে দেখিয়ে দেন। দৌড়ে যাই। ছোটখাটো গড়নের গিয়াস ভাই ফুটপাতে দাড়িয়ে কথা বলছেন আরেকজনের সাথে। সেই পুরনো ভঙ্গি। আমাদের প্রিয় গিয়াস ভাই। দেখেই জড়িয়ে ধরেন। কতদিন পর দেখা। দুজনের উপর দিয়েই এর মাঝে নানা ঝড়ঝাপ্টা গিয়েছে। মোবাইল ফোন ছিল বলে সব খবরই রাখা হয়। শুধু দেখা হয়না। একপ্রস্ত আড্ডা চলে। উঠতে ইচ্ছে করেনা। তবু ফোনের ধাতানিতে বসা যায়না। গাড়ি চলতে শুরু করে মিরপুরের দিকে।

কয়েকটা দিন অন্যরকম-২

শুক্রবার। ফেব্রুয়ারির এক তারিখ। আমার বাবাইসোনার জন্মদিন। বারটা বাজতেই তুলির মোবাইলে মেসেজটোন। মিঠুর মেসেজ। অনন্তমৈথুন নাম দিয়ে সে ব্লগায়। প্রিয় বুলবুলিকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছে। সে বাবাইকে বুলবুলি বলবে। আর বাবাই তাকে বলবে বন্ধু। ফোন হাতে নিয়ে যখন মেসেজ পড়ছি, বাবাই আগ্রহ নিয়ে জিঙ্গেস করে কে ফোন করেছে বাবা? আমি বলি তোমার বন্ধু তোমাকে হেপি বাড্ডে বলেছে সোনা। সে হাততালি দিয়ে নিজেই বলে উঠে, হেপিবাড্ডে তু ইউ, হেপি বাড্ডে ডিয়ার তমাল, হেপি বাড্ডে তু ইউ... সবাই হেসে উঠেন। বাবাই শরম পায়।
শুক্রবার সকালটা সবসময়ই অন্যরকম। কেমন এক অলস ভাললাগা ব্যাপার। ঢাকায় এই একটা সময়ই শুধু আমি কিছুটা উপভোগ করি। বাকিটা...


বউ বাচ্চা নিয়ে বেরুলাম। গন্তব্য ধানমন্ডি। ফুপু শ্বাশুড়ির বাড়িতে বেড়াতে গেলাম। বাবাই মহা উৎসাহ নিয়ে রাস্তা দেখা শুরু করল। নানা প্রশ্ন আর আলাপে মুখে যেন খই ফুটছে তার।

ধানমন্ডির ঠান্ডা ঠান্ডা সেই বাড়িটায় বিকেল হয়ে যায়। আরিফ ভাই ফোন করেন। কিরে মেলায় যাবিনা। কোথায় আছি জেনে বলেন, ঠিক আছে, এ বাড়ি বেড়ানো শেষ করে বলিস, একসাথে যাব। কিন্তু শেষ আর হয়না। ভাবির ফোন। তোমরা আসনা কেন? বরযাত্রি যাবার সময় হয়ে যাচ্ছে। নিসঃঙ্গ এক মায়াবতী জননীকে রেখে আমরা মিরপুরের দিকে রওয়ানা হই...

ঘরে ঢুকতেই আম্মা আস্তে করে বলেন, কিরে তুই আমার দাদুটার জন্য কিছু আনলিনা? আজনা তার জন্মদিন। আমি অপরাধীর চোখে তাকাই। কষ্ট লাগে। ওর প্রথম জন্মদিনে আমি শহরের বাইরে ছিলাম। কি এক এ্যসাইনমেন্টে। দ্বিতীয় জন্মদিনে তুলির বাসায় একটা বাজে সমস্যা হয়েছিল। তখন ভেবে রেখেছিলাম তৃতীয়টা খুব ধুমধাম করে পালন করা হবে। এইসব লৌকিককতায় খুব একটা মন নেই আমার, কিন্তু ছেলে যখন প্রশ্ন করে বাবা আমার হেপিবাড্ডে কবে তখন মন বলে, এইবার একটু লৌকিক হই...

১ নাম্বার থেকে ছোট একটা কেক নিয়ে যখন ঘরে ফিরি সন্ধ্যা হয়েছে ততক্ষনে। বিয়ে বাড়ির তুমুল ব্যস্ততা। এরমাঝে কেক কাটবে কে? ফ্রিজে রেখে দেয় ভাবী। রাতে ফিরে কাটা যাবে। আমি আস্তে আস্তে নিচে নেমে যাই। মোবাইলে টাকা নেই। কার্ড কেনার জন্য যে দোকানটায় যাই সেখানেই দেখি নেট ইউজের ব্যবস্থা আছে। বাহ্ দারুন বলেই বসে পড়লাম একটা বুথে। বাবাইয়ের ভার্চুয়াল গিফটের ব্যবস্থা করি। আমারতো আর কিছুই করার ক্ষমতা নেই এখন। ওর ভার্চুয়াল (সত্যিইকি সব হাওয়ার মানুষ আমরা? হাওয়াই মিঠাই এই আমাদের সম্পর্ক? বাতাসে মিলাবে যখনতখন?) চাচা ফুপুরা কিছু করে কীনা দেখি...

এমদাদুল ফোন করে। আমার পার্সেন্টিজ খাওয়া ম্যানেজার। ভাই বই রেডি... আমি কেঁপে উঠি। প্রায় কাঁপা গলায় বলি, কোন সমস্যা হয়নিতো এমদাদুল? সে নির্ভয় দেয়, না, সমস্যা হবে কেন? ভাল হইছে সব। আর কবিতার বইটা? (মাশার বই, এই মিছা কবি জীবন) জ্বি সেটাও ভাল হয়েছে। আগে কবিতার বই শেষ করেছি পরে আপনারটা। এইমাত্র বাঁধাই কমপ্লিট হল। আমি বলি ঠিক আছে এমদাদুল, তুমি পঞ্চাশটা করে বই শুদ্ধস্বরের ঠিকানায় পাঠাও। আমি পরে তোমার সাথে কথা বলব। কেমন বোকা বোকা লাগে, বইটা শেষ পর্যন্ত হয়ে গেল...

ফোন রেখে দেই। ঘড়িতে তাকাই, সাতটা বেঁজে পাঁচ মিনিট। ২০০৫ সালের এক ফেব্রুয়ারী প্রায় একি সময়ে বাবাই প্রথম কেঁদেছিল। বোকা বোকা চোখে আশ্চর্য সুন্দর সেই শিশুর দিকে তাকিয়ে আমি বলে উঠেছিলাম, ও তুমি...

কয়েকটা দিন অন্যরকম-১

৩০ জানুয়ারি দুপুরের দিকে মাইক্রোবাস কনফার্ম করেছিলাম। ৩১ এর দুপুরে বাসায় যাবে এমন কথা ছিল ড্রাইভারের সাথে। সেই কথা সে বেমালুম চেপে গেল পরদিন দুপুরে। ১ টায় গাড়ি থাকবে বাসার সামনে। আর আমি ফোন করলাম সোয়া ১ টায়। সে তখনও স্ট্যান্ডে দাড়িয়ে। বাড়ি নাকি চিনতে পারছেনা। কি আর করা, দৌড়ালাম। সামনে পেয়ে অন্যকথা বলে। তার ঢাকায় যেতে সমস্যা!!! মাথা ভন ভন করে উঠে। কদাচিৎ গালমন্দের দরকার পড়ে। নয়ত এখন ঝদ্রস্ত জীবনই বলা যায়। ভদ্রতায় ছেদ পড়ল। কষে থাপ্পড় দিতে ইচ্ছে হলেও সে পর্যন্ত আর যাওয়া হলনা। তাজুল মিয়া নামের জনৈক ড্রাইভার উদয় হলেন ঘটনাস্থলে। তাকে পথ দেখিয়ে দেখিয়ে আমি আমার সিডি ৮০ তে টান দিলাম।
দুপুর একটায় বেরুব কথা ছিল, সেই যাত্রা শুরু হল আড়াইটায়। দেড়ঘন্টার এই দেরিটার জন্য মাথায় রক্তচাপ বেড়েছে দ্বিগুন। গাড়িতে বসেই আবার ফোন দিলাম মান্যবর ড্রাইভারকে। আরেকপ্রস্ত অমৃত বর্ষন করলাম তার কানে।

তিন বছর হল বাবাইর। এই প্রথম সে আমার সাথে কোথাও যাচ্ছে! মনে হতেই কেমন কেমন লাগা শুরু হল। গাড়িতে ধুমাধুম চক্কর দিচ্ছে সে। একবার মায়ের কাছে বসেতো আরেকবার দাদুর কোলে। আরেকবার ডাক্তার দাদার কাছে (আমার মামা)। আমাকেও বঞ্চিত করছেনা। আহারে, ছেলেটা কি হমৎকার কান্ডকারখানা করে, আর আমি তা থেকে নিয়মিত বঞ্চিত হই...

এতবছর ধরে ঢাকা যাই, তবু শহরটা আমার কাছে চরম অচেনা, বিরক্তিকর। টেক্সিওয়ালা আর রিকশাওয়ালা না থাকলে সেখানে চলা আমার জন্য দুস্কর। এই আমাকে যদি মাঝপথে এসে শুনতে হয় টঙ্গি হয়ে শহরে ঢুকতে হবে, তখন কেমন লাগে? কাজটা করলেন আমার ভাই। মোবাইলে তিনি ইনস্ট্রাকশন দিলেন, মেলার কারনে বিজয় স্মরনিতে মহা জ্যাম। মিরপুর যেতে যেতে রাত ১২টা বেজে যাবে। টঙ্গি হয়ে যেন গাড়ি যায়। আমি বল্লাম রাস্তা আমি চিনিনা। সে বলে তোর চেনার দরকার নাই ড্রাইভার চিনবে। ওরে ফোন দে। সে ড্রাইভারের সাথে কথা বলে। আম্মা, তুলি, মামা সবাই বলে রাস্তাটা নাকি তারা চেনে। আগেও গিয়েছে। সমস্যা নাই। কি আর করা, চলুক গাড়ি...

নানা রাস্তা পেরিয়ে মিরপুরের রুপনগরে যখন পৌছলাম রাত তখন এগার। সাথে থাকা তিন পিচ্চি ঘুমের কোলে। নিজের শরিরটাও বেশ দুর্বল।

শুভ জন্মদিন বাবাইসোনা

সেদিন প্রকৃতি আমাকে রেখেছিল নিরাপদ দুরত্বে। আমি কিছুই টের পাইনি, অন্তত শরিরে। সত্যিইকি তাই? একেবারেইকি টের পাইনি? মনে হয় পেয়েছিলাম। কেমন এক দুরু দুর বুক প্রতিক্ষা ছিল সেদিন সন্ধায়। বাবার সামনে আমি হাটছি, আধো অন্ধকার হাসপাতালের করিডোর। বাবার সামনে আমি! আমিও বাবা হব! কেমন এক অনুভূতি। শীত ছিল তবু ঘামে ভিজে জবুথবু ...
আজ তিন বছর হল। এখনও চোখ বুজলে সেদিনটা মনে ভাসে। এখনও যখন আধো আধো বুলিতে তুমি ডাক দাও ‘বাব’ কেমন অবাক লাগে। আমিও তবে বাবা হলাম। আমাকেও কেউ একজন বাবা বলে ডাকে!
শুভ জন্মদিন বাবাই সোনা। শুভ জন্মদিন।
তুলিকে অশেষ ধন্যবাদ, সব কষ্ট নিজে সয়ে আমাকে এমন চমৎকার উপহার দেয়ার জন্য। তোমার কাছে কৃতজ্ঞ।


লেখা হয় সচলায়তনে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০০৮
http://www.sachalayatan.com/albab/12117

শুভ জন্মদিন রনি ভাই

আমার দেখা হল কবে তার সাথে? ১৯৯৪/৯৫ সাল মনে হয়। তবে শীতের দিন, না রাত ছিল সেটা। এবং রোজা ছিল। ঈদের আগের রাত। বন্দরবাজারের আলুপটলময় জঙলায়।
দাদাভাই আমারে নিয়া গেছে জুতা কিনা দিতে। ঈদের জুতা। সেই এলাকায় তখন সিলেটের বিখ্যাত করিম উল্লাহ সু স্টোর।
আতকা দেখি পান্ডামত এক পোলা সেখানে হাজির। ইয়া লম্বা। কালো একটা লেদার জ্যাকেট গায়ে। সেই জ্যাকেটে আবার দুনিয়ার ট্যাগ, ব্যাজ এইসব লাগানো! দেখেই আমার একটা বদ ধারণা হল। সে দেখি আবার কথা বলে দাদার লগে কথা বলে, ওই টিপু কই আইছস! আমি কই হালার দাদায় দেখি ইদানিঙ পান্ডাগো লগে চলে! জুতা কিনা দিতে গেছে শুনে বলে, এই তুই জলদি মধুবনে যা, সুন্দর জুতা নিয়া আসছে একটা দোকানে। আমি কই আরে বেটায় দেখি আবার খবরও ফেরি করে! তবে কন্ঠটা বেটার গোন্ডাপান্ডা টাইপ না :) বাচ্চা বাচ্চা...
আমরা দুই ভাই মধুবনে যাই। দাদারে জিজ্ঞেস করি এইটা কে? সে পাল্টা জিগায়, কেন? আমি বলি পান্ডাদের মত লাগে! দাদা শুধু হাসে...
এই পান্ডা লোকটার লগে আমার পরে খাতির হয়ে গেল। মহা খাতির। এমনকি দাদাভাইয়ের চাইতেও বেশি কোন কোন ক্ষেত্রে! আমারে তিনি বড়ভাই ডাকা শুরু করলেন! আমিও তারে বড়ভাই ডাকি। উচ্ছাসের বৈশাখী আয়োজনে তার সঙ্গে সঙ্গে থাকি। প্রান্তিকের নাটকের ঘরে তার সাথে কথা হয়। যেখানেই দেখা হয় আগলে রাখেন।
আঙুলে হিসাব করলে ১৪ বছরের পরিচয়। ১৪ বছরের গল্প। কত কত গল্প। এই গল্পগুলো আমাদের। আমাদের ভাই এবং বন্ধুদের। আমার অনেক প্রিয় ভাই আছেন। যারা আমাকে আগলে আগলে রাখছেন। কেউ চাকরির খোজ দেন। কেউ ব্যাবসার ধান্দা দেন। কেউ সময় দেন যখন আমি বিষন্ন থাকি। ওভারসিজ কল করে বলেন, ভাল থাকিস, চিন্তা করিসনা, আমরা আছি।
তাদের মাঝে একজনের কথা বল্লাম এখানে। আজ ১৪ই জানুয়ারি যার জন্মদিন। আপনারা তাকে শুভ জন্মদিন বলুন, শুভ জন্মদিন রনি ভাই, শুভ জন্মদিন



লেখা হয়েছিল ১৪ জানুয়ারি ২০০৮। সচলায়তনে প্রকাশিত।
http://www.sachalayatan.com/albab/11399

Tuesday, January 1, 2008

বিভিন্ন মিতভাষণ

বাগানের নির্জনে পেয়ারা গাছটার জন্ম; আমাদের সবার অগোচরে। গাছটা যেদিন প্রথম ফুল দিল, তার মাস দু-এক আগে মা এটা আবিস্কার করেছিলেন।আসলে মা নয়। পাশের বাড়ির করম আলী চাচাকে আনা হয়েছিল আমাদের বাড়ির জঙ্গল সাফ করার জন্য। তিনিই মাকে দেখিয়েছেন গাছটা। কিন্তু আমরা করম আলী চাচার কথা বলিনা। বলি মায়ের কথা। আর মাও সেটা নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন সেটা।

ভাইয়া তার কম্পিউটারে একটা গেম তৈরি করছে। ও প্রোগ্রামার নয়। কম্পিউটারের কাজ যে খুব জানে তাও নয়। তবে চেস্টা করছে। ... ভাইয়ার সিনিয়ার ফ্রেন্ড আশফাক ভাই। ফিজিক্স নিয়ে মাস্টার্স করছেন। আশফাক ভাইরা আমাদের মত নয়। কস্ট করে লেখাপড়া করছে। কম্পিউটারে ওর আনেক কাজ। কিন্তু নিজের কম্পিউটার নেই। তাই ভাইয়াকে বলে সপ্তাহে দু-তিনদিন নিজের কাজ করে নেয়। আশফাক ভাই যেদিনই আসে ভাইয়া কথার ফাঁকে হঠাৎ বলে, ‘আশফাক ভাই আমার গেমটা একটু দেখে দিননা।’ আশফাক ভাই বাধ্য ছেলের মত দেখতে বসে। তখন ভুরি ভুরি ভুল বেরোয়। তিনি তখন গেমটা নতুন করে তৈরি করতে বসেন। এভাবে পুরো গেমটাই তৈরি হচ্ছে। আমি, আমরা জানি ভাইয়া কিছুই পারছেনা; তবু সেটা কাউকে বলিনা। আমার বন্ধু মীরু। যে ভাইয়ার জন্য পাগল। তার কাছে গেম তৈরির সব কথা বলি। সে আরও পাগল হয়। কিন্তু আমি ভুলেও আশফাক ভাইয়ের নাম উচ্চারণ করিনা।

আমাদের বাড়ির ঠিক দু’বাড়ি পরে থাকে সিপ্রাদিরা। সিপ্রাদি খুব ভাল পায়েস বানাতে পারে। বাবার বন্ধু সোবহান চাচার ছেলে শুভ ইংল্যান্ডে থাকে। দেশে এসে ও যেদিন আমাদের বাড়িতে এল প্রথম, মা সেদিন সিপ্রাদিকে এনে পায়েস রান্না করালেন। আর বিকেলে শুভকে দেবার সময় কেমন ঠোঁট উল্টে বল্লেন সেটা নাকি আমি তৈরি করেছি! ও আমার দিকে এমন ভাবে তাকালো তাতেই বুঝলাম আমার দাম শুভর কাছে অনেক বেড়ে গেল। বাড়বেনাইবা কেন? এত মজার পায়েস যে বানাতে পারে সেতো কত গুনের মেয়ে! আমার বিয়ের ব্যাপারটা আরও পোক্ত হলো। আগামী বছর যখন শুভ আসবে তখনই বিয়ে। কিন্তু সিপ্রাদি, যে সত্যি সত্যি ভাল পায়েস বানাতে পারে তার কেন বিয়ে হয়না?

বাবা বেতন পান দশ হাজার টাকা। আগে আরো কম পেতেন। তবু আমাদের দু’তলা বাড়ি হয়েছে। রিপন আমার বন্ধু। যেদিনই আসে, বলে- ‘আহারে কি বাড়ি! একেবারে টেলিভিশনের বাড়ি!! নিচে খাও, উপরে ঘুমাও!!!’ বলেই হাসতে থাকে। আমি জানি রিপন কেন হাসে। আমাদের বাড়ি, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর সবকিছুর জন্ম রহস্য রিপন জানে। আমি ওকে বলিনি, তবু জানে। আসলে কিছু মানুষ আছে যাদেরকে কিছু বলতে হয়না। সব বুঝতে পারে এরা। জেনে যায় সবকিছু। যেমন মা। ছোট চাচার ঘরে রাত বিরেতে যেত জরিনা, আমরা কিছু বুঝিনি তখন, মা বুঝলেন ঠিকই। একদিন ওকে নিয়ে বেরিয়ে গেলেন। জরিনাকে আর কখনও দেখিনি আমরা।
কয়েকমাস পর আমার বিয়ে। শুভ আর আমার জন্য সুখের বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। কিন্তু মীরু সেদিন আসবেনা। আসবেনা আশফাক ভাই। অনেক কিছু জেনে যান আমার মা। মীরুর মন জানতে পারেন। জানতে পারেন আশফাক ভাইয়ের মনও। আমিতো তার মেয়ে। সন্তানের মন নাকি মায়েরা বুঝেন সবচে সহজে!