Sunday, April 26, 2015

লড়কে লেংগে পাকিস্তান ও প্রথমালো

পাকিস্তান ও প্রথম আলো নিয়ে বিরক্তির শেষ নেই। বাংলাদেশ-পাকিস্তান এর চলমান ক্রিকেট সিরিজ নিয়ে পাকিস্তানপন্থী এই দৈনিক আর এর খেলার পাতা যেভাবে নগ্ন পাকিপ্রেম দেখাচ্ছে সেটা নিয়ে এই লেখাটা তৈরি করার পর দেখি সচলায়তনে ইয়ামেন এ বিষয়ে লিখে ফেলেছেন। এখন এই লেখাটার করবো কী? ফেলতেও মন চাইছে না। তাই নিজের ব্লগে টুকে রাখলাম।
পাকিস্তানপন্থী প্রথম আলো নিয়ে সচলায়তনে বিস্তর লেখা আছে। এরমাঝে সবচেয়ে বেশি মনেহয় এর খেলার পাতা নিয়ে লেখা। প্রথম আলোর খেলার পাতায় তাদের দেশ পাকিস্তান নিয়ে যত ম্যাৎকার করা হয় এই মাপের ম্যাৎকার সম্ভবত পাকিস্তানের কোন দৈনিকেও করে না।
সংবাদপত্রে খবর তৈরি করার একটা বিষয় আছে। এইটারে মলা বলতাম আমরা। মলা মানে ঘোটা। আটা-ময়দা দিয়ে খামির বা কাই বানানোর সময় ঘোটা দেওয়াকে সিলেটে মলা বলে। কখনও ভালো নিউজের সংকট হলে, পুরনো কোন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ধরে একটা রিপোর্ট নামানোরে মলা বলতাম। টেবিলমেইড রিপোর্টও বলে সম্ভবত। প্রথম আলোর খেলার পাতার পাকিস্তান প্রেম এতই প্রবল যে, যখন পাকিস্তানের কোন খবর থাকে না, তখন এরা মলা দিয়ে খবর তৈরি করে। যেমন, মোহাম্মদ আমির বিলাত ভ্রমণে। বাবা হচ্ছেন শোয়েব মালিক... এরকম।
প্রথম আলোর পাকিস্তানপন্থী হবার মিছিলে যেমন যোগ্য নেতার মতো নেতৃত্ব দেন তাদের সম্পাদক মতিউর রহমান। খেলার পাতাতেও আছেন যোগ্য নেতা। তিনি সেই বিভাগের সম্পাদক, উৎপল শুভ্র। এই মানুষটার পাকিপ্রেম অসুস্থতার পর্যায়ে পড়ে। সে এতটাই অসুস্থ যে, নিজের দেশের বিপক্ষে খেলা থাকলেও সে পাকিস্তান পাকিস্তান বলে গলায় রক্ত বের করে আনে। চলমান সিরিজে সঙ্গত কারণেই যেটা মাতমে রুপান্তরিত হয়েছে।
এবারকার সিরিজ শুরুর আগে এরা যে প্রতিবেদন ছাপে সেটাতে আফ্রিদি, মিসবাহ, ইউনুস দলে নেই বলে যে মাতম করা হয়েছে এর সাথে তুলনা করতে হলে ইউটিউবে গিয়ে পাকিস্তান ক্রিকেট নিয়ে আপ করা সেদেশের ভিডিও দেখতে হবে আপনাকে। তারপরও সাচ্চা পাকিস্তানিদের মতো এদের আশাবাদের শেষ নেই। প্রথম আলো আশা করে, প্রতিভা প্রসবা দেশ পাকিস্তান দলে যারাই আছে তারাতো আর এমনি এমনি দলে আসেনি। এরপর প্রতিদিন এরা খুজে খুজে বের করেছে তাদের তুরুপের তাসদের। মাশরাফি কতবার আউট হয়েছেন সাইদ আজমলের বলে। কতটা বল খেলেছেন তখন। এমনকি মাথায় মাথায় যুদ্ধে জিতে গেলেও রক্ষা নেই। তাই অপরাজিত সেঞ্চুরি করার পরও মোহাম্মদ হাফিজ এর আগে কতবার কতো অনায়াসে আউট করেছেন তামিমকে, সেই গল্পটা শুনতে হয় পাঠককে।
আহা উহুর মাত্রাটা কত উপরে পৌছালে জয়ি দেশের সাংবাদিক হয়েও এরা, যেকোন স্কোরকেই বড় করতে পারার পৌরানিক গল্প মনে করে হা হুতাশ করে লিখে, পাকিস্তানের সেই সুনামটা ধুয়ে মুছে দিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। আহারে সুনাম...
বাংলাদেশের খেলোয়াড়কে নিয়ে করা ফিচারে লাইনে লাইনে আসে তুলনা। সেটা সেই পাকিস্তান নিয়েই। ভাষাটা এমন, যেনো যতযাই হোক এর মতো নয় এরমতো নয়। তাহলেকি এরা তুলনা প্রতিতুলনা ছাড়া কিছু লিখতে পারে না? উহু, পারে। সেটার জন্য আফ্রিদী হতে হবে। তখন দেখবেন ওয়ানডেতে এই মহান ক্রিকেটার না থাকায় ওয়ানডে ক্রিকেটটা আর খেলাই থাকেনি! দেখবেন ওয়ানডে নিয়ে করা প্রতিবেদনে ধান ভানতে শীবের গীতের মতো টিটুয়েন্টির গল্প আসবে, আশাবাদ আসবে ২০১৬ এর টিটুয়েন্টি বিশ্বকাপ নিয়ে। কারণ ওটাতে যে আফ্রিদী খেলবেন, যেটাতে আবার তারা চ্যাম্পিয়নও হবে! হু প্রথম আলো সেই স্বপ্নই দেখে, দেখায়।
আগেই বলেছি পাকিলেহনের এই উৎসবের নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন খেলার পাতার সম্পাদক উৎপল শুভ্র। তার প্রতিটি লেখায় এর প্রমাণ পাওয়া যায়। পাকিস্তানের সাথে টিটুয়েন্টি ম্যাচ জেতার পর এই শুভ্র যে লেখাটা লিখলেন, এর প্রতিটা লাইন পাকিবন্ধনায় ঋদ্ধ। লাইন ধরে ধরে কোট করতে গেলে পুরোটাই তুলে দিতে হবে। এই লেখাটা পড়ার পর আপনার মনে হতে বাধ্য যে, বাংলাদেশ ভুল করে জিতে গেছে। একেবারে অনুচিত, হিসাবের বাইরে একটা ঘটনা ঘটে গেছে। স্কিল টিল কিচ্ছু না, শুধু মনের জোর দিয়ে বাংলাদেশ জিতে গেছে। আর বলবেইনা কেনো? এতো জোর দিয়ে যখন তারা আগেভাগে বলে দেয় ‘আগামিকাল ভিন্নকিছু ঘটবেই’ আর তারপর যখন সেরক কিছু ঘটে না তখনতো এরকম কিছুই বলতে হবে। এই লোকটা কতবেশি পাকিস্তান প্রেমি তার এই লেখার একটা অংশ পড়লেই বুঝতে পারবেন... একটা অংশ বলছি কি? পুরাটাইতো সেরকম। একটা যায়গায় দেখা যায় এক কিশোর তাকে ফোন করেছেন খেলার বিষয়ে। সেখানে উৎপল শুভ্র বলছেন, বাংলাদেশ জিতবে এটা আশা করা যায় না, কারণ এই দলটা টিটুয়েন্টি খেলতেই পারে না! উৎপল শুভ্র লিখেন, "এই ম্যাচের আগের দিন দুপুরে একান্ত সাক্ষাৎকারে তাঁর অনেক কথাই মনে গেঁথে আছে। যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি এটি: আমরা পারব—ভেতরে এই বিশ্বাস থাকাটা খুব জরুরি। কথাটাকে শুধু ওয়ানডের জন্যই প্রাসঙ্গিক মনে করেছিলাম। মাশরাফির সঙ্গে কাটানো ঘণ্টা দেড়েক সময়ে সাক্ষাৎকারের বাইরেও কত কিছু নিয়ে কথা হয়েছে..."
হ্যা, পাকিস্থানপন্থী দৈনিক প্রথম আলোর ক্রিড়া সম্পাদক নির্লজ্জ পাকিলেহক উৎপল শুভ্র খেলার আগেরদিন প্রায় দেড় ঘন্টা আমাদের ক্যাপ্টেনের সাথে ছিলো। ছাপানো সাক্ষাৎকারের বাইরেও আরো অন্য অনেক কিছু নিয়ে সে কথা বলেছে। এই লোকটা চমৎকার লিখে। সম্ভবত সে কথাও বলে ভালো। সাথে আছে প্রথম আলোর মার্কেট ভ্যালু। তাই তার সাথে সব খেলোয়াড়েরই আলগা খাতির।
তো এরকম একটা মানুষ, যে বাংলাদেশ একটা দলকে হোয়াইট ওয়াশ করার পরও সেই দলটাকে নিয়েই বুদ হয়ে পড়ে থাকে। টিটুয়েন্টিতে বাংলাদেশ পারবেনা বলে শতভাগ নিশ্চিত লোকটা সারা দিনমান আফ্রিদি আফ্রিদি ম্যাৎকারে, লালায় নিজের লেখাগুলো পিচ্ছিল করে রাখে। আর শেষ মুহূর্তকাল পর্যন্ত আশা করে পাকিস্তানই জিতবে, এই যেমন ১৪১ করার পরও সে আশা করে বাংলাদেশকে ১০০ পেরুতে দেবে না তার পেয়ারা পাকিস্তান। তারে এভাবে বাংলাদেশ অধীনায়কের সাথে অবাধে কথা বলা নিষেধ করাকি উচিৎ না? এর মাধ্যমে দলের ভেতর ঋনাত্বক ভাবনা প্রবেশ করার শতভাগ সম্ভাবনা নিয়ে কেউ ভাববে না ক্রিকেট বোর্ডে? চোর-দুর্নীতিগ্রস্থ পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের সাথে দহরম মহরম থাকা প্রভাবশালী এই সাংবাদিকের মাধ্যমে এমনকি পাকি জুয়াড়ির অনুপ্রবেশওতো হতে পারে!
দেশের স্বার্থে, ক্রিকেটের স্বার্থে, উৎপল শুভ্র নামের পাকিস্তানপন্থী সাংবাদিকটিকে বাংলাদেশ দল থেকে দুরে রাখার দাবী জানাচ্ছি।

Wednesday, April 1, 2015

প্রতিক্রিয়াসমূহ

০.
বিংশ শতাব্দীতে মানুষের শোকের আয়ু বড়জোর এক বছর। নাজিম হিকমতের কথা। হয়তোবা মানুষ ভুলে যায় এক বছরের মাথায় তার শোকার্ত সময়কে। কিন্তু একুশ শতকে শোকের আয়ু কত বছর, কত দিন? এই ফেসবুক জামানায়, যখন মিনিটে মিনিটে বদলে যায় হোম পেইজ, নিজের দেয়াল!
১.
আমাদের দেশে মানুষের জীবন কচু পাতার পানির মতো। টুপ করে ঝরে যায়। ক্ষমতার জন্য, শুধুমাত্র রাষ্ট্রযন্ত্র দখলের জন্য রাজনীতির সাথে যোগাযোগহীন মানুষকে পুড়ে মরতে হয়। বিষয়টা এমন একটা পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, মানুষ সেটা মেনে নিয়েছে যেনবা।
২.
দল বেঁধে মানুষ যখন পুড়ে মরে। কিংবা আস্ত একটা ভবন যখন মানুষকে নিয়ে মাটিতে মিশে যায়, ডুবে যায় আস্ত একটা লঞ্চ। আমরা বেদনাহত হই। মানুষ হিসাবে মানুষের জন্য কেঁদে ওঠে আমাদের মন। কিংবা অজানা কোনো কারণে যখন খুন হয়ে যান সাগর-রুনি তাতেও মানুষের ভেতর প্রশ্ন তৈরি হয়, প্রতিবাদ তৈরি হয়।
৩.
দল বেঁধে এই মৃত্যুর মিছিলের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে ব্লগারের মৃত্যু। সাধারণ মানুষের সাথে বুঝিবা এর কোনো সম্পর্কই নেই। যেনবা এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মানুষ। এরা হঠাৎ করে মরতে শুরু করেছে। এদের কেউ প্রকৌশলী, কেউ ছাত্র, কেউ বেকার। এরা মরছে, আহত হচ্ছে খবর হচ্ছে। খবর হচ্ছে সে ব্লগার, তাই সে মরেছে, মরবে। ব্লগাররা মানুষ না।
৪.
৫৭ ধারার বলে আমি যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হতে পারি। আমার বন্ধুকে যেকোনো সময় আটক করা হতে পারে। এটি হয়েছে, হবেও। হত্যার হুমকি ফৌজদারি আইনে অপরাধ। ৫৭ ধারার প্রয়োগ আছে কিন্তু হত্যার হুমকি দিলে কিছুই হয় না। তাই আহমদ শফী ঘোষণা দেয় নাস্তিকদের মেরে ফেলা যাবে। নাস্তিকরা খুন হতে থাকে। এর আগে এই শফী মাওলানাই বলে দিয়েছে ব্লগাররাই হচ্ছে নাস্তিক। আমাদের দেশে তাই ব্লগার ও নাস্তিক এখন একটি সমার্থক শব্দ। মরতে থাকো।
৫.
রাষ্ট্রকে তার নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু মন্ত্রী অনেক আগেই বলে দিয়েছেন শোবার ঘরে গিয়ে কাউকে নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। এর আগে অন্য মন্ত্রী বলেছিলেন, আল্লার মাল আল্লায় নিয়া গেছে... যদিও রাস্তায় কোপ খেয়ে মরে যাবার বিষয়ে কিছু বলা হয় নাই, তবু সমীকরণ মিলিয়ে ঝিম মারতে হবে। মানুষ মরুক। মরতে থাকুক।
৬.
আওয়ামীলীগ আমার ভোটে সরকার গঠন করেছে। প্রগতিশীল মানুষ এই দলকে সমর্থন দেন। দলটি এবং এর নেতৃত্বাধীন সরকার সেই ভোটের অবমাননা করেছে। বিশ্বাসকে নষ্ট করেছে। মুক্তচিন্তা এবং প্রগতিশীলতার বিরুদ্ধে তাদের নানা পদক্ষেপের দায়ভার দলটিকে নিতে হবে। এবং সবচে বেদনার হলো, মুক্তবুদ্ধির মানুষদেরকেই এই দলটির অপ-রাজনীতির খেসারত দিতে হবে।
৭.
মানুষ মরবেই। কোপ খাবেই। এর বাইরে যাওয়া যাবে না। বাবু নামের স্বল্প পরিচিত ব্লগারটি মরে এই সত্য প্রমাণ করে দিয়ে গেলেন। আপনি চলমান প্রক্রিয়ার বাইরে চিন্তা করেন। আপনার বলবার অনেক কথা আছে, মাঝে মাঝে সেটি বলেও ফেলেন তাহলেই হলো। মৃত্যুর জন্য, খুন হবার জন্য আপনি যোগ্যতম ভেবে নিন নিজেকে। তাই বলি, মরতেই যখন হবে, ভালো করে মরি। যা বলার, যেটুকু বলতেই হবে, বলে যাই। এই সময়ে হয়তো এর কোনো প্রতিক্রিয়া হবে না। কে বলবে, আগামী পৃথিবীতে হয়তো এই বলে যাওয়া কথাটা মূল্য পেলেও পেতে পারে। আর নাইবা যদি পায়, তাতেই কী? বল্লাম তো...
৮.
আপনি মানুষ হলে আর কখনো হিজড়াদের নিয়ে ফাইজলামি করবেন না আশা করি।