Sunday, November 4, 2018

হাসপাতালের দিনগুলো...

রাত এগারোটায় হাসপাতাল থেকে ফোন আসলো, আপনি মি. তুলি? হ্যাঁ বলতেই বল্লো, মাত্র ফোন পেলাম। আপনার স্ত্রীকে পোস্ট অপারেটিভ থেকে নিয়ে আসবে ১৫ মিনিটের মাঝে। আসতে চাইলে আসুন। বল্লাম, আধা ঘন্টা লাগবে কমপক্ষে। উত্তরে হ্যাঁ সূচক জবাব পেলাম। আবার আব্দার করলাম, ছেলেকে নিয়ে আসবো... তাতেও হ্যাঁ।
গত ৩/৪ ঘন্টা ধরে এই মহিলাকে ১৫/১৬ বার ফোন করেছি। গলা শুনে অনেক বয়েসী কোন মানুষ মনে হয়। ছেলেকে নিয়ে ছুটলাম। রাস্তা একদম ফাঁকা, তবু জোরে চালানো যাবেনা। মোড়ে মোড়ে ক্যামেরা। লাইসেন্সে এমনিতেই তিন পয়েন্ট জমা হয়ে আছে। আর কিছু হলে ব্যান করে দেবে।
বাবাই লম্বায় সেই কবেই আমাকে ছাড়িয়েছে। এখন মনেহয় বুঝতে পারাতেও... বারবার বলে, বাবা চিন্তা করোনা। মা ঠিক আছে। তুমি ঠিক থাকো। ভেতরে ভেতরে আরো গলে যাই, ছেলেটা ভেতরে বিষ চাপা দিতে শিখে যাচ্ছে।
যা ভেবেছিলাম তাই। আম্মার বয়েসি নার্স। ওয়ার্ডের দরোজায় দাঁড়িয়ে। "দেখো বাবা, এটা একদম নিয়মের বাইরে। তোমার বার বার ফোনের কারণে আমি সুযোগটা দিচ্ছি। আস্তে আস্তে যাবে। কথা বলবেনা। লম্বা অপারেশন হয়েছে। এটা সবচে বড় অপারেশন গুলোর একটি। মেয়েটা এখন ঘুমুচ্ছে। শুধু চোখের দেখা দেখবে।" হাঁটছেন আর কথা বলছেন। ছেলের হাত ধরে পাশে পাশে চলছি।
সাড়ে দশ ঘন্টা পর পর আমাদের দেখা হলো। এবার তিনি ফিস ফিস করে কথা বলছেন। রুগীর সাথে যে ফাইল এসেছে এবং যিনি ওকে দিয়ে গেছেন তার কথা অনুযায়ী তোমার স্ত্রী ভালো আছেন। এর বেশি কিছু আমি বলতে পারবোনা। প্রার্থনা করো। ঠিক দশ মিনিট পর তোমাদের চলে যেতে হবে, বলে তিনি পর্দা টানিয়ে চলে গেলেন।
চোখ অল্প একটু মেলে তুলি বলে, চলে যাও। ঠিক আছি। বল্লাম, দশ মিনিট মাত্র সময়। তুমার ছেলে এসেছে, দেখেছো? মাথা নাড়ার চেষ্টা করলো মনে হলো। দু-তিন মিনিট আর কোন কথা নেই। আবার একটু চোখ মেলে বলে, মাথা এদিকে আনো, কথা বলি। এগিয়ে গেলাম, কিন্তু কথা নেই। আরও মিনিট দুয়েক পর, একদম ফিস ফিস করে বল্লো, আমি কিন্তু ঘুমাই নাই, এমনি পড়ে আছি... ভংগি ধরে আছি... নয়তো এরা মরফিন দিয়ে দেবে... আমরা বাপ-ছেলে অবাক হয়ে তাকাই। বাবাই অবিকল মাকে নকল করে বলে, "ভালো করেছো, এভাবে পড়ে থাকো। আমরা চলে যাবো এখন। মিজান আংকেল ঈদের খাবার দিয়ে গেছেন, সেটা গিয়ে খেতে হবে। ঈদের মাত্র মিনিট বিশেক আছে আর!"
আবারও সেই বয়েসি নার্স আমাদের এগিয়ে দেন। বার বার বলেন, চিন্তা করোনা। প্রার্থনা করো। অনেক বড়ো অপারেশন... অনেক বড়ো...
শুনশান নীরব হাসপাতালের করিডোর পেরিয়ে হাঁটতে থাকি। সড়ক বাতির জন্ডিস আলোয় আমাদের ছায়া পড়ে। বাবাইর ছায়ার পাশে আমার ছায়াটাকে মনে হয় বাচ্চা... আজ থেকে উনত্রিশ বছর আগে আব্বা ঠিক এভাবেই আমাকে নিয়ে রাতের সিলেটে বাড়ি ফিরেছেন। আম্মা একা শুয়ে ছিলেন হাসপাতালে। আমি আব্বার হাতে শক্ত করে ধরেছিলাম। সারারাত আব্বার বুকের ভেতর ঘুমিয়ে ছিলাম।
আমার ছেলে বাতি নিভিয়ে বলে, বাবা একদম চিন্তা করোনা। ঘুমানোর চেষ্টা করো। কিছু লাগলে ডাক দিও! বলে নিজের রুমে চলে যায়। বাবাইটা বড়ো হয়ে গেলো...

Friday, June 1, 2018

লক্ষ্মী সরস্বতী দীপাবলী

দক্ষিণের জানালায় দাঁড়ালে হিমেল হাওয়ার ঝাপটা লাগে। শীত এলো বলে। আগে এমন সময় শীত প্রায় চলেই আসতো। দূর্গা পূজার সময় থেকেই হালকা কুয়াশা আর শেষরাতে ঠান্ডা ভাবটা শুরু হতো। রাতে পূজো দেখার কিংবা পাড়া ঘুরার সময় সেটা টের পাওয়া যেতো। এখন আর সেরকম হয় না। মাঘ মাসেই শীত আসে কী আসে না।
দীপালির একটু একটু গরম লাগে। অস্বস্তি হয়। জানলার পাশে দাঁড়িয়ে শরীরটা জুড়ানোর চেষ্টা করে। সন্ধ্যা আরতী সেরে এলো। বারান্দার এক কোনে ছোট্ট ঠাকুর ঘর। ধূপ জ্বেলে প্রণাম ঠেকিয়েই শেষ করে আরতী। শরীরে এর বেশি সহ্য হয়না ইদানিং। পরিশ্রান্ত লাগে।
এ পাশটায় আগে একটা ছোট্ট পুকুর ছিলো। তারপর ধানি জমিন। জমিনের লাগোয়া বড় রাস্তা। পুকুর আড়াল করা গাছের ফাঁক দিয়ে সেসব দেখা যেতো। বিয়ের পর পর, দীপালি সেই ফাঁকফোকর দিয়েই দেখে ফেলতো নিজের বাপ-ভাইকে। বাজার থেকে উত্তর পাড়ায়, তাদের বাড়িতে যাবার এই একটাই রাস্তা। শীতের সময় মাঠ শুকিয়ে খটখটা হয়ে গেলে মহাদেব বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কোনাকোনি দৌঁড়ে আসতো বোনের কাছে। নাড়ু, মোয়া ধরিয়ে দিয়ে যেতো। দেখতে দেখতে সব বদলে গেলো। এই ধানি জমির বেশিরভাগই ছিলো ওর শ্বশুর বাড়ির জ্ঞাতি গোষ্ঠির। এখন কিচ্ছু নাই। কেউ টাকার বিনিময়ে, কেউ জীবনের বিনিময়ে, কেউ বউ-ঝিদের ইজ্জতের দামে সেইসব জমি বেঁচে দিয়েছে। এখন আর সেখানে ধান হয় না। বড় রাস্তাটা পাকা হয়েছে। সোনার মতো দামি হয়েছে সেই জমি। উঠেছে ঘর-দোর। রাস্তার লাগোয়া হয়েছে দোকান। জমিছাড়া অনেকে বাড়িছাড়া হয়েছে, হয়েছে দেশছাড়া। তারপরও যারা টিকে আছে, তারাই এখন জড়াজড়ি করে থাকে এখানে, হাতেগোনা ১৩ টা ঘর।
পুকুরটা ছিলো শরিকানা। মুক্তার মিয়া বল্ল, জমি গেছে, পুকুরতো তোরা রাখতে পারবি না। তারচে আমারে দিয়ে দে। ক'টা টাকা অন্তত পাবি। কথাটা মিথ্যা নয়। এখন আর কেউ টাকা দিয়ে জমি নিতে চায় না। দখল করাটা বরং সহজ। নিরঞ্জনের কিছুটা টানাটানিও চলছিলো। বাড়ির সামনের টং দোকানটার অবস্থা ভালো না। নড়বড়ে হয়ে গেছে। শক্ত করে না বাঁধলে দানাপানির টান পড়বে। দোকানটা যখন শুরু করেছিলো ঘরে মানুষ ছিলো তিন জন। মা চলে গেছেন পরপারে, তার স্থান নিয়েছে লক্ষ্মী আর সরস্বতী। দুই মেয়ে পাল্লা দিয়ে বড় হচ্ছে। এরমাঝে হঠাৎ করেই আবার পোয়াতি হলো দীপা। অবশ্য খুশিই হয়েছে ওরা। দুইটাই মেয়ে। একটা ছেলেও চাই তাদের।
জানলায় দাঁড়িয়ে আট মাসের পোয়াতি পেটে হাত রাখে দীপা। ভেতর থেকে টের পায় যেনো। নড়ে উঠলো। খুব নড়াচড়া করে এইটাতে। আগের দুটো মিলেও যা করতে পারেনি, এবার একাই সেটা পুষিয়ে দিচ্ছে যেনো। সবাই বলছে ছেলে হবে। দীপারও তাই মনে হয়। অনেক দস্যি একটা ছেলে হবে ওর। যন্ত্রনা দেবে বিস্তর। এখনই সেটা টের পাওয়া যাচ্ছে। আলতো করে হাতটা নিজের ফুলে থাকা পেটে হাত বুলাতে বুলাতে চোখ বুঁজে দীর্ঘ একটা শ্বাস নেয় দীপালী, তার নাকের নিচে হালকা ঘাম, ঠোঁটে মৃদু হাসি...
আগে যখন অনেক বাড়ি ছিলো। দূর্গা পূজোর আয়োজন হতো। ৪/৫ বছর হতে চল্ল আর হয় না। যে কয়েক ঘর অবশিষ্ঠ আছে, তাদের পক্ষে এতবড় আয়োজন করা সম্ভব হয় না। ধর্ম-কর্ম বলতে মাঝে মাঝে কীর্তন, ঘরে ঘরে ঠাকুর আছে সবার, সেই ঠাকুরের আরাধনা আর লক্ষ্মীপূজার মতো ছোট পরিসরের পূজার আয়োজন হয়।
নগেন কাকার উঠোনে হচ্ছে আজ পূজো। আগে সবার বাড়ি বাড়ি লক্ষী পূজা হতো। এখন পূরা পাড়ায় এই একজনই পূজো করে। সবাই সেটায় গিয়ে হাজির হয়। দীপার ইচ্ছে ছিলো যাবে। কিন্তু শরীরটা মানলো না। দুই মেয়ে সকাল থেকে যাচ্ছে আর আসছে। সন্ধ্যার পর থেকে আর আসারই নাম নেই। মাঝে মাঝে শুধু কল-কল শব্দে বাপের সাথে কথা বলতে শোনা যাচ্ছে। দোকানে বাজি-পটকা এসব এনেছে নিরঞ্জন। বাচ্চারা একটু পর পর একটা দুটো কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এসব এনেছে আসলে নিজেরাই ফুটাবে বলে। বাচ্চাদের জন্য খুচরো কিছু। সেসবই নিচ্ছে ওরা। দোকান বন্ধ করে নগেন কাকার উঠানে সবাইকে নিয়ে ফোটাবে। সবাই মিলে একটু আনন্দ ফুর্তি হলো।
দোকান বন্ধ করে নিরঞ্জন একবার ঘরে ঢু মেরে যায়। বউকে অনুরোধ করে, যাবার জন্য। দীপার পক্ষে সম্ভব না। সে শুয়ে থাকতে চায়। নিরঞ্জন মেনে নেয়। হেসে বলে, পরের বার ছেলে কোলে নিয়ে দেখা যাবে। দীপাও সায় দেয়। জানালা দিয়ে নগেন কাকার উঠানটা দেখা যায় না। মাঝখানে বাসন্তির ঘর।
ধানি জমিতে বাড়ি হয়েছে, রাস্তার লাগোয়া হয়েছে দোকান। বড় একটা মসজিদও হয়েছে। বড় মাইক লাগানো হয়েছে সেখানে। সুর করে দিনে পাঁচ বার আজান হয়। তাছাড়া ওয়াজ হয় নিয়মিত। বছরে একবার বড় করেতো হয়ই তার বাইরেও কতবারযে মাহফিল হয়। হিন্দুদের আছে বারো মাসে তেরো পার্বন। মুসলমানরাও কম যায় না। প্রতি শুক্রবারেই ওয়াজ হয় সেই মসজিদে। ঘরে বসে সব শোনা যায়। মুক্তার মিয়া বলে বয়ান। সেসব বয়ান শুনে দীপার ভয়ই করে।
এর বাইরে হিন্দু পাড়ায় কোন আয়োজন থাকলেও মসজিদের মাইকে ওয়াজ হয়। বিকাল থেকে সেটা শুরু হয়। বেশিরভাগই হয় দেবীদের নিয়ে। আগে এরকম হতোনা। মুক্তার মিয়ার মেঝো ছেলেটা গতবার কোথায় থেকে বড় পাশ দিয়ে এসে মসজিদের ইমাম হলো, তারপর থেকে এটা শুরু হলো। দীপা এরে চিনে। আব্দুর রহমান নাম। ইসকুলে দীপাদের দুই ক্লাস উপরে পড়তো। শান্ত মতোন ছিলো। তারপর বাপ তারে পাঠিয়ে দিলো হাটহাজারী না কি নাম একটা জায়গার, সেখানটাতে। মাদ্রাসায় পড়ার জন্য। বছরে দু-এক বার আসতো। দীপার বিয়ের পর, এ পাশটায় জমি কিনে মুক্তার মিয়া যখন বাড়ি বানিয়ে চলে এলো, তখন বাড়ি এলে ওর দেখা মিলতো। তারপরতো গত বছর একেবারে ফিরে এলো গ্রামে। ইয়া বড়ো দাঁড়ি, সবসময় মাথায় পাগড়ী থাকে। লোকজন খুব সমিহ করে। মুক্তার মিয়াকে এমনিতেই লোকজন ভয় করে এর সাথে এখন ছেলের কল্যানে সমিহও আদায় করে নিয়েছে।
সেই শুরু করেছে এসব আকতা ওয়াজ। আগে কীর্তন হলে মুসলমান বাচ্চাগুলো এদিকটায় এসে ভীড় জমাতো। সব বাচ্চারা মিলে হুটোপুটি করে বেড়াতো। এখন সেটা একদম বন্ধ হয়ে গেছে। এমন পূজা আর্চার দিনে আব্দুর রহমান শুরু করে ওয়াজ। বাচ্চা কাচ্চারা সেখানে গিয়ে জড়ো হয়। ওয়াজ না বলে খিস্তি বলাই ভালো। শুরুতে কয়েকটা দোয়া দরুদ পড়া হয়, তারপর হঠাৎ করেই আব্দুর রহমান দেবীমা'দের নিয়ে কথা বলা শুরু করে। ও মাগো কী সব অশ্লিল কথা সেসব। শুনলেও পাপ। দীপার প্রথম প্রথম চোখ ফেটে কান্না হতো। এখন আর সেসব হয়না। কিন্তু প্রচন্ড মন খারাপ হয়।
আজও বিকাল থেকে শুরু করেছে আব্দুর রহমান। লক্ষী মূর্তির বর্ণনা দিয়েছে সারা বিকেল। তারপর শুরু করেছে খাবার দাবার নিয়ে। হিন্দুদের বাড়ির খাবার খাওয়া যাবেনা, এটা হারাম। আগেই বলেছিলো এসব। আজকে বলেছে হিন্দুর দোকান থেকে মিস্টি জিলাপি এসব কেনাও হারাম। এসব শুনে ধক করে উঠেছে দীপার বুকে। বাজারে কোনমতে টিকে আছে মহাদেবের মিস্টির দোকানটা। বাবা মারা যাবার পর, মা বাড়িতে অল্প স্বল্প মিস্টি, জিলাপি, নিমকি বানায় তাতে কোনমতে দোকানটা চলে। সেসবের ক্রেতাতো সব মুসলমানই। এ পাড়ায় তেরো ঘর হিন্দু, আর ওর বাপের বাড়ির পাড়ায় আছে সতেরো ঘর। আশে-পাশের গ্রাম গুলোতে হয়তো আরো কয়েক ঘর পাওয়া যাবে। এদের কারো অবস্থাই ভালো না। ভাতের জোগাড়ই হয়না, তারা মিস্টি খাবে কেমন করে!
টানা পটকার শব্দে দীপার স্বম্বিত ফিরে। জানালায় চোখ রাখে। নগেন কাকার বাড়ীর আকাশে সাঁই সাঁই করে পটকা উঠে যাচ্ছে। দেখতে ভালই লাগে ওর। কিন্তু নিরঞ্জন এতো টাকা খরচ করলো কোন আক্কেলে সেটা ভেবে পায়না সে। এসবেরতো অনেক দাম হবার কথা। সেসব ভাবনার মাঝেই কানে ভেসে আসে আব্দুর রহমানের কর্কশ কন্ঠস্বর। মসজিদের মাইকে গর্জে উঠে সে... মালাউনদের এতো সাহস! এইখানে ওয়াজ চলতেছে আর তারা পটকা ফোটায়! এইসব নাফরমানি তারা কেমনে করে? এদের উচিত শিক্ষা দিতে হবে... মসজিদের ভেতর থেকে শোরগোল ভেসে আসে... আব্দুর রহমান আরো কিসব বলতে থাকে। সেসব আর দীপা শোনে না। সে উপুড় হওয়া কলসির মতো ফুলে থাকা পেটটা একহাতে ধরে আরেক হাতে ঘোমটা টানতে টানতে ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। পটকার শব্দে এসব কিছুই শোনার কথা নয় নিরঞ্জনের, তাকে না থামালে অনিষ্ঠ হয়ে যাবে। ঘর থেকে বেরুতেই মাইকের সেই কোলাহলকে আরো জোরে জোরে শুনতে পায় দীপা।
শরীরটা টানতে টানতে নগেন কাকার উঠানে যেতে পারেনা দীপা। তার আগেই উঠানের ওপাশ দিয়ে মসজিদের লোকজন এসে পড়ে। সবার সামনে আব্দুর রহমান। চিৎকার করে সব থামাতে বলে সে। এমন উটকো লোকজন আর চিৎকারে সবাই হতচকিত হয়ে পড়ে। কাউকে কিছু বুঝে উঠতে না দিয়েই লোকজন উঠানের এক পাশে রাখা লক্ষী মূর্তিটার দিকে এগিয়ে যায়। কেউ একজন হেঁচকা টানে ছুঁড়ে ফেলে ছোট্ট মুর্তিটা। স্বম্বিত ফিরে পেয়ে নিরঞ্জন দৌঁড় দেয় সেই দিকে। মণ্ডপটা বাঁচাতে চায়। কিন্তু পারেনা। আব্দুর রহমান লাথি মেরে তাকে মাটিতে ফেলে দেয়। তার সাথে যোগ দেয় নয়া দোকানের মজিদ আর দক্ষিণ পাড়ার হেলাল। দীপা ভুলে যায় তার ভরন্ত শরীরের কথা। বিকাল থেকে হতে থাকা অস্বস্তির কথা ভুলে যায় সে। ধনুক মুক্ত তীরের মতো জটলাটার দিকে দৌঁড় দেয়। একদম মাঝখানে ঢুকে পড়ে।
ভরা পোয়াতি পেটে আব্দুর রহমানের লাথিটা পড়ার আগ পর্যন্তু সমস্ত শরীর দিয়ে নিরঞ্জনকে বাঁচাতে চেষ্টা করেছিলো দীপালী। নিভে যাবার আগে সে দেখে যেতে পারেনি নিরঞ্জনের নিথর শরীরটা।