Tuesday, March 17, 2009

অবসাদের কাব্য

সঙ্গম শেষে মানুষ মূলত ক্লান্তই হয়।
তবু প্রতিরাতে শহরে, গ্রামে, নিয়নে ও জোনাকের আলোতে
মানুষ মিলিত হয় জৈবিক উল্লাসে।

দীর্ঘ বিরতি বিরহের মতোনই কাঙাল করে, বিলাপ শেখায়।
সময় বেঁধে স্কুলের পেছনে প্রেমিকার জন্যে অপেক্ষা করা বালক জানে
ঘড়ির কাটা কতো স্থবির, কচ্ছপ। দুপুরের ছায়া লেপ্টে থাকে, দুঃসময়ের মতো।

বিকেল হতে কতক্ষণ লাগে?
আজ বিকেল হবে কখন?

Sunday, March 15, 2009

সাম্প্রতিক বেদনাবোধ


ঘরদোর সব দেখি আমারে চেপে ধরে

দরোজা জানালা বন্ধ হয়ে যায়, প্রস্থানের

পথে আচমকা জেগে উঠে কাঁটা ও জঞ্জাল

এইসব বিরহ ও দুরত্ব কোনো সমাধান নয় জানি,

জেনে রাখো তুমিও, বেদনাকে বোনের মতো পোষে

রেখে আমি এই সত্য জেনেছি, মড়কে খরায় খাঁক হয়ে

জ্বলে

পুড়ে

মাটি

খাঁটি

হয় না। পিপাসাই বাড়ে শুধু।

দয়াদ্র হও বালিকা, দয়াদ্র হও।

দয়াদ্র হও হে রমনী আমার।

ব্লগরব্লগর: আরেকটা হাবিজাবি রচনা

আমাদের শান্ত বিয়ে করে ফেললো। সচলে মাঝে মাঝে কমেন্ট করে, একটা দুটো পোস্টও আছে অতিথি হিসেবে। সচলে বড়ো নিষ্ঠ সে, তারও বেশি নাটকে। আমার কাছের ভাই ও বন্ধুদের একজন। ডাক্তারের বাড়ি ছিলাম মা'কে নিয়ে, তাই বিয়েতে যাওয়া হয় নি। বৌ-ভাতে উলুম্বুসের মতো হাজির হলে বাবু, অতনুরা হায় হায় করে দৌড়ে আসে। তারা অপুভাইকে আরেকটু স্মার্টভাবে চেয়েছিলো! আমার দাড়ির জঙ্গল, রঙ উঠে যাওয়া শার্টে তাদের মন খারাপ হয়। সব ক’টা স্যুটেড ব্যুটেড হয়ে এসেছে। আমরা বুড়া হয়ে যাচ্ছি। মেয়েগুলো যেভাবে তাদের ঘিরে কুলবিকুল করে, তাতেই খোলাসা হয়, চল্লিশ পেরুতে হবে না, তার আগেই চালসে হয়ে যাও হে আলবাব...


আমাদের নাটকের ঘর ভেঙেছে সেই কবে। ছিটকে পড়াদের দেখা হয় এমন সমাবেশে, মাঝে মাঝে। এইবার আর সেটা হয়নি। নাট্যোৎসব মাত্র শেষ হয়েছে। তাই অনেকদিন পরে দেখা হওয়ার বেদনামাখা ভালোলাগা নেই। বরং পুরনো ভাবনা, রোজতো দেখা হয়ই টাইপের একটা অনুভব ছিলো। আমি জানি এই ভাব ও ভালোবাসা বেশিদিন থাকবে না। আবারও আমার উৎসবহীন হয়ে যাবো।


সুতো ছিড়ে গেলে ঘুড়ি উড়ে আকাশে, ল্যক্ষহীন উড়াউড়ি শেষে পতিত হয় সে। আমরা এখন একেকটা ভু-কাট্টা ঘুড়ি। আমাদের বন্ধন আলগা হয়ে গেছে, ছিড়ে গেছে। আমরা ছড়িয়ে পড়েছি। রাত ও দিনের হিসেব না করে একদিন যারা মিছিলে মিশেছিলাম, মুষ্ঠিবদ্ধ হাত উঠেছিলো একি তালে ও ছন্দে। তারা এখন নিজের মাঝে নিয়ত তুলে দিই অচেনা অজানা দেয়াল। তাই শান্ত’র বিয়ের আসরে বসেই উজ্জল রায়ের বিয়ের খবরে আমি ততটা অবাক হই না। তার সাম্প্রতিক বন্ধুর তোলা ঢেকুর আমাকে ভাবায় না। আমি শুধু নিলুকে বলি, উজ্জল দার বিয়ে হয়ে গেছে। আজ বৌ-ভাত ছিলো। সে অবিশ্বাসের চোখে তাঁকায়। আমার চেয়ে বছর দু একের ছোট নিলু এখনও নরোম সরোম রয়ে গেছে, চাহনি দেখেই বুঝি। প্রিয় উজ্জলদা বিয়ে করেছে, তাকে জানায়নি এটা সে মেনে নিতে পারে না। বয়েসের দোষে মানুষ নরম হয়, শক্ত হয় সেটা আমি আরো বেশি বুঝি বাবুকে দেখে। হাউকাউ শুরু করে, অবিশ্বাস মাখা কন্ঠে বলে, উজ্জল’দা আমাদের পর করে দিলো!


রাত হয়ে এলে অবাক করা কাণ্ড করে আমার মন। দেখি সে আসলে আঠারোতেই রয়ে গেছে। এইসব অবহেলায় সে এখনও আগের মতো আপ্লুত হয়...