Monday, June 11, 2007

::বউ, বাটা, বল সাবান::

সমস্যা শুরু হয়েছিল বিয়ের দিনেই। শ্বশুর বাড়ির লোকজন দাদাকে মাত্র এক হাজার টাকা নজরানা দিলো! খেপে গেলেন মা, বাবা, বড় চাচা...।
ভাবী যে শো-কেস এনেছে সেটার তাকগুলো কদম কাঠের। সোফার ফোম খুব বাজে, দুদিনেই বসে যাবে। ড্রেসিং টেবিলটার ডিজাইন সেই মান্ধাতা আমলের। আরো কতো ভেজাল যে আছে.....!
ভাবীর অনেক খুঁতও বেরুতে লাগলো। কথা বলে কেমন করে, তিন বাড়ির মানুষ শুনতে পায়!ঠা ঠা করে হাসে। বাপের বাড়ির এতো অপরাধের ব্যাপারেও তার কোনো বিকার নেই। এমন ভাব দেখায়...! যেন কিছুই হয়নি...
এরকম হলে কার না খারাপ লাগে! শরীর জ্বলবে না কার?
আর দাদাও এমন ভেড়ুয়া! বউ এতো বেহায়ার মতো চলে তবু কিচ্ছু বলবে না। যেন কিছুই হয়নি। বিয়েতে এতো অপমান, আর সে মিন মিন করে বলবে, 'থাক এসব নিয়ে কথা বাড়িয়ে আর লাভ কী!' কোনো আত্মসম্মান নেই। দু'দিনেই বউয়ের আঁচলের তলে ঢুকছে!
আমরা কেউ ভাবীকে পছন্দ করি না। আচরণেও সেটা বুঝিয়ে দেই। কিন্তু ভাবী সেটা গায়েই মাখে না। আর নিজেকে জড়াবে সবকিছুতে। আমরা হয়তো বসে গল্প করছি বা খেলছি, এসে বলবে_ 'আমিও খেলবো তোমাদের সঙ্গে...।
'বাবা বাটার জুতা পরেন। প্রাচীন ডিজাইনের ভোম্বল সাইজ জুতা পরছেন তো পরছেনই। দাদা কতোবার অন্য কোম্পানির জুতা এনেছেন, বাবা পায়ে দিয়েও দেখেননি।
আর মা বল সাবান না হলে কাপড় ধোয়াই বন্ধ করে দেন। কতো কতো নতুন ডিটারজেন্ট বেরিয়েছে, তাদের কতো বাহারি বিজ্ঞাপন! কিন্তু মা তার বল সাবান বদলাবেন না।
বাবা, মা, বড়চাচা_ সবারই এমন অনেক কিছু আছে, যা কখনো বদলানো হবে না। তিনজনই বলেন_ 'এসব বদলানোর প্রশ্নই ওঠে না।
'বল সাবান কিংবা বাটার জুতা বদলানো অসম্ভব। কিন্তু বউ বদলানো কোনো ব্যাপারই না। এটা আমরা সবাই জানি। মা বলছেন, দাদার বউ বদলে ফেলবেন।
.........................................................................................
যারা প্রথম আলো'র প্রথম দিকের পাঠক তাদেরও হয়ত নজরে পড়তে পারে গল্পটি। কারন প্রথম প্রকাশটা হয়েছিল 'বন্ধুসভায়'।

3 comments:

  1. বন্ধুসভার মহানির্বাচনে পাঠকদের বিপুল ভোট পেয়ে এটি সেরা অনুগল্প এওয়ার্ড জিতেছিল। এরকম লেখা কতোদিন পড়ি না!!!

    ReplyDelete
  2. হায়,গেছে যে দিন...

    ReplyDelete
  3. শিমুল ধন্যবাদ। আপনে বার বার মনে করে দেন সবসময়। সুন্দর অতীত মনে হেল আরাসবোধ হয়।

    .........................

    আরিফ ভাই তাইলে শুরু হেয় যাক...

    ReplyDelete