Wednesday, May 6, 2009

এই ুত...নিগুলা বাচ্চাদের পড়াতে আসে কেনো?

বাবাইর স্কুল ছুটির দশ মিনিট পর আমি গেটের ভেতর যাই। এর আগে গেলে সে রাগ করে, কারণ আমি গেলে তার খেলা হয় না। আজও সেইমতোই গেলাম। ছোট্ট কঙক্রিটের উঠোনে তারে খুজি। দৌড়াদৌড়িতে নাই। চোখ মেলে মেলে ধরি শেষে। এককোনায় দাড়িয়ে আছে। আমি এগিয়ে যাই। অন্যদিন আমাকে দেখেই ছোট্ট শরীরটা উড়িয়ে নিয়ে আসে। লাফ দিয়ে কোলে চড়ে। বাবা বলে চিৎকার করে। আজ সেসব কেছুই নাই! আমি বুঝি কিছু একটা হয়েছে। হাটুমুড়ে বসি সামনে, কি বাবা কি হয়েছে? সে মাথা নাড়ে, কিছু হয়নি তার। বলি বন্ধুরা মেরেছে? ক্যাপ নিয়ে গেছে? সেটাও নয়। তার পাশ থেকে একজন বলে, ‌মিস তারে পানিশমেন্ট দিয়েছে'। আমি বলি কি করেছো বাবা তুমি? বাবাই আমার বুকে ঢুকে গেছে ততক্ষণে। সেই একজনই বলে, বোর্ড এর লেখা মুছে দিয়েছিলো... আমার মাথাটা চিড়িক দিয়ে উঠে। বলি কি করেছেন মিস? এবার আর বাবাইকে প্রশ্ন করি না, করি সেইজনকেই। বলে কান ধরে উঠবস করিয়েছে। এটাও সে বলতে পারে না। জিনিসটা সে বুঝেই না। দেখিয়ে দেয় কিভাবে শাস্তিটা দেয়া হয়েছে। সিলেট শহরটা কাপে কিনা জানি না। আমি কেপে উঠি... বাবাইকে বুকে ধরে প্রিন্সিপালের রুমের দিকে হাটা দিলে, বাবাই কাকুতি করে বলে, বাবা ওইদিকে না। বাসায় চলো, আমি বলি না, প্রিন্সিপালের সাথে কথা বলে আসি। মনে মনে গালি দিতে থাকি বাবাইরে, হারামজাদা মিনমিনামি করবি না। তুই অপুর ছেলে, শক্ত হতে শিখ ভুদাইর বাচ্চা...


প্রিন্সিপাল আমাকে বুঝ দেন, বলেন, আপনি মার খান নাই? আমি বলি আমি সাত বছর বয়েসে স্কুলে গেছি। বিস্তর মার খেয়েছি। কিন্তু এই ছেলের বয়েস মাত্র ৪ বছর তিন মাস। তিনি আমাকে নানান কথা বলেন। তবু আমার মাথা ঠান্ডা হয় না। বলি, স্যার এই ছেলের বয়েস দশ হোক, তারপর তারে পিটান...


স্কুলের চেয়ারম্যানও মাথা ঠান্ডা করতে বলেন, পূর্বপরিচয়ের সূত্রে বলি, আমি কি ঠান্ডা নই? হাসি দিয়ে পরিবেশ হালকা করেন। প্রিন্সিপাল কোলে নিয়ে বাবাইকে নানান কথা বলেন। সে হাসে। অনেকক্ষণ পরে বাবাই আমার হাসে...


এই চুতমারানিরা মাস্টারি করতে আসে কেনো? শিশুদের মন বুঝে না যে সব ছাগুরা তাদেরকে কে আনে এইসবে? একটা বাচ্চা বোর্ডের লেখা মুছে দিয়েছে বলে তাকে শাস্তি দিতে হবে? কি এমন মহাকাব্য লিখেছিলো সে আমার জানতে মন চায়। আমি বড়ো বিক্ষিপ্ত মন নিয়া এই লেখাটা লিখতে বসছি। সবচে বড়ো কথা মেরেছেতো মেরেছে, বাচ্চাটার মন ভালো করে দেয়নি সে। এর উপর কতোটা মানষিক চাপ দিয়েছে সে সেই চিন্তাও তার নাই। এই বরাহ নন্দীনিরে আমার বড়ো চাবকাইতে মন চাইছে।


এইসব সময়ে আমার খুব গালি আসে। যা ইচ্ছা তাই গাইল দেই। আপনারা ক্ষমা করে দিয়েন প্লিজ।

2 comments:

  1. আনন্দ নিকেতন স্কুলেও এ ধরনের ঘটনা ঘটে। আর আশ্চর্য্য! এটা নাকি সিলেটের সব চেয়ে নামি স্কুল!

    ReplyDelete
    Replies
    1. আমি আনন্দ নিকেতনের কথা লিখিনি।

      Delete