Friday, April 9, 2010

মাথেল মাথা থেকে নেজ বলো কলে ফেলেছি... এ্যা... এ্যা...

আমাকে তিনি গল্প বলেন। ছবি দেখান। সম্ভবত সেটা এক বছর বয়েসের ছবি। সাদাকালো ছবি। একই বয়েসের দুজনের দুটি ছবি। কিন্তু পোষাক একি। একজনের সাত বছর পর আরেকজনের ছবি তোলা হয়েছে। প্রথম ছবিটা তুলে যত্ন করে তুলে রাখা হয়েছিলো পোষাকটা। ছবির নিচে লেখা আছে এপ্রিলের ৯ তারিখ... এটা ভুলও হতে পারে আমার।

আরেকটা ছবি রঙিন। বিখ্যাত আলোকচিত্রি আমানুল হক এর তোলা। প্রাণখোলা হাসিমাখা সেই ছবিটা। ছবির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন, এসব কাপড় ছবিয়ালের নিজের। ছবি তোলা শেষ হলে আবার খুলে নিয়ে যেতেন! সাথে একটা মজার ঘটনা বল্লেন, একবার উপর থেকে গাছের নিচে দাঁড়ানো বাচ্চার ছবি তোলার প্ল্যান করে তিনি এলেন। এসে সেই মডেলকে পাঠালেন নিচে আর তিনি উপর তলার জানালা দিয়ে ক্যামেরা ধরে বসে থাকলেন। হঠাৎ সেই মডেল কানে হাত দিয়ে আজান দেয়া শুরু করে। ডানপিটে মডেলের কারণে ছবিটাই আর তোলা হলো না।

আমরা আসলে গল্প করছি এই মডেলকে নিয়ে। ছবিয়াল আসলেন তার কথা বলতে গিয়েই। আর গল্প করছেন মডেলের জননী নিজেই। পুরো একটা দিন যিনি আমাকে পরম মমতায় কাছে বসিয়ে নানান বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। আর ফাঁকে ফাঁকে বলেছেন মডেলের গল্প।

স্কুলে ভর্তি হওয়ার গল্পটাও মজার। সেখানে একেকজনকে একেকভাবে যাচাই করা হচ্ছিল। পরীক্ষা শেষে তিন বছরের গ্যাদার সে কি কান্না। মা কোন মতেই থামাতে পারেন না। একসময় একটু যখন কান্নার গমক থামলো, তখন জানা গেলো, সে একটা মাছ এঁকে দিয়ে এসেছে। যেটার শরীরের চে লেজটা অনেক বড়ো হয়ে গেছে! তাই এতো কান্না।

ছবি আঁকায় সে বরাবরই সিরিয়াস। এই কাজ করেই সে একটা চমৎকার মেয়েকে সেই নাবালক বয়েসে পটিয়ে ফেলে। যে এখনও তার সাথে লেপ্টে আছে। ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, তাকে এই গুনটা তিনি দিয়েছিলেন বলেই কপালে এমন চমৎকার মেয়েটা জুটলো। নয়তো...

আমানুল হক এর মডেল ছেলেটা কিন্তু পরে নিজেই হয়ে গেছে ফটুয়াল। তার তোলা চমৎকার সব ছবি আমি দেখেছি। আপনারাও দেখে থাকবেন অনেকেই। তার করা অসাধারণ ব্যানারে সচল হয়েছে সচল।

আমি জানি আপনারা ধরে ফেলেছেন কার কথা বলছি। অরূপ এর কথাই বলছি। পাগলা অরূপ। আজ ওর জন্মদিন। শুভ জন্মদিন অরূপকথার রূপকারকে।

No comments:

Post a Comment