Saturday, March 10, 2012

না কবিতা


আমি কবি হতে চেয়েছি সবসময়। কবিতায় যাপন করতে চেয়েছি জীবন। বাউল হতে চেয়েছি। নগ্ন পায়ে হেটে যেতে চেয়েছি খোলা প্রান্তরে, রাত আর চাঁদকে নিয়ে পাড়ি দিতে চেয়েছি আমার সারাটা জীবন। সেসব কিছুই হয় নি। কারন নিজের ভেতরের আমিকে আমার বাইরের আমি কখনই ছাড় দেয়নি। সংসার ভালো লাগে না আমার তবু গৃহেই বসবাস। এই বৈপরিত্ত অথবা ভণ্ডামী নিয়েই আমার নিত্যদিন।

কবিতা লেখার এবং কবিতা যাপনে ব্যর্থ হলে মানুষটা আর মানুষ থাকে না। আর যে মাঝামাঝি আটকে থাকে সে একটা কিম্ভুতে পরিণত হয়। সম্ভবত আমিও একটা কিম্ভুত। জোর জবরদস্তি করে আমি প্রায়শঃ এটা সেটা লিখে ফেলি এবং পদ্য বলে ভান করি। সেসবে নেমে আসা কিছু পদ হয়তো থাকে, বাকিটা ইট-সিমেন্টের কারিকুরির মতো।

কাগজে, কিংবা কম্পিউটারে মাঝে মাঝে একটা-দুটো লাইন কেমন করে যে আসে... আমি সেসবের সুরাহা করতে পারি না অনেক সময়। প্রবল আলস্য আমার, চেষ্টাও খুব বেশি করি না। টুকরো টাকরা কাগজ একসময় উড়ে যায়, হারিয়ে যায়। কিন্তু জিমেইলের ড্রাফ্ট কিংবা কম্পিউটারে হঠাৎ খোলা কোন ওয়ার্ড ফাইলে টোকে রাখা কিছু লাইন মাঝে মাঝে খুলে যায়। আমি সেসব দেখি, পড়ি, কিন্তু তাদের আর কোন গতি হয় না। ফেলে দিতে চাই, তাও পারি না। কেমন মায়া লাগে। মাঝে মাঝে অবাক হই, মানুষ মানুষকে অবলীলায় ছুড়ে ফেলে দিতে পারে, আমিও হয়তো দেই, কিন্তু এই বিচ্ছিন্ন লাইনগুলোকে কেনো ফেলতে পারি না? মানুষ কতো বিচিত্র সেটা আমি নিজেরে দিয়েই বুঝতে পারি। বড় বিচিত্র মানুষ, তারও চে বেশি বিচিত্র তার যাপিত জীবন‌‌ ...



১.
এইসব কথার মারপ্যাচে তুমি কি বলো?
তা কি জানে তোমার মন?
আঙুল প্রত্যহ মানবিক চাওয়াকে করে গোপন,
তুমি কি নিজেরে ফাঁকি দাও মেয়ে?

২.
এইসব রতিহীন রাত, কবিতার রাত,
রাতের নিরবতা, জলজ বিষণ্নতা আর
তার স্থিরতায় তুমি একবার ভাসো।
ডুববেনা জেনে রাখো, প্রশান্তি

৩.
কত রাত হলে ভাসবো বলো?
কতো রাত হলে হবে রাধা?

৪.
দুঃখের কথায় রমণী তবে ভয় পায়!
নিয়ম ভাঙার অনিয়মে এত ভয়!

৫.
স্রোতের আছে রকমফের, মানবিক সম্পর্কের মতো।
কতটা স্রোতস্বিনি হবে আর কতটা সম্পর্কে জড়াবে
লীলাবতী, তার কতটাইবা জানে বাউল?

৬.
এইসব কবিতার রাত, রতিহীন,
কি সত্য বহন করে? নাকি
সকলই মিথ্যা, অনুযোগ, সন্তাপ…

৭.
স্থির কোন ভাবনায় আটকে থাকতে পারে মানুষ?
যোগীনির কি আছে কোন বিশেষ আবরণ?

নেই যদি বলে লোকে, তবে কেনো প্রশ্ন তোলে শান্ত স্থিরতার?

৮.
এতো হিসাব করো কেনো? কেনো এতো নিয়ম মানা?
তুমি শেখোনি কেনো, বুকের ঘ্রাণ না দিয়েও ভরসার
ওম দেয়ার গোপণ কোশলতা?
এতো ভয় করে, এতো ভয়, এই বুঝি দুর্বল সম্পর্কের
সুতো কেটে উড়ে যায় লীলাবতি ঘুড়ি, ভোকাট্টা…

৯.
আলবাব, তুমি নিজেই তোমার বন্ধু নও
লীলাবতী সেতো বহুদুর, তবু আজ আকাশ
ঢেকে গেলে কালো মেঘে, তোমার কেনো
ইচ্ছে করে বৃষ্টি খেলবার? হবে না, না।

১০.
সীমান্তে দাড়ালেই চোখে পড়ে পাহাড়ের সারি,
মাঝে মাঝে কানে আসে ঝর্ণার পতনের শব্দ।
আমি মন খারাপ করি, মন খারাপ
যে পাহাড় আমি ছুতে পারি না, যে ঝর্ণায়
আমি ভিজতে পারি না, সে পাহাড়ে সে ঝর্ণায়
নাই আমার মুগ্ধতা, আমি হিসেব করি
সমৃদ্ধির শেষ আর শুরু হলো আমার।

তুমি এক দুরের মানুষ, আমি ছুতে পারি না
আমি দেখতে পারি না তোমায়, তবু তোমারে
আমার বড় বেশি আপন মনে হয়, সীমান্তের
হিসাব এখানে মিলে না, এ বড় মানবিক হিসাব
লীলাবতি, এ তুমি বুঝবে না।


১১.
এই বিশ্রি শহরে তুমি কি করো?
এই শহরতো তোমার নয়, আমারও নয়।
এখানে বড্ড বেশি ভীড়, এখানে বড্ড কোলাহল
হারিয়ে যাওয়ার মতো অচেনা শহর।

সাবধানে থেকো লীলাবতী, তৈরি করো পরিচিত বলয়

১২.
আমি জানি, তুমি ভাবছোনা আমার কথা
তোমার প্রাত্যহিকে আমি নেই, থাকি না
তোমার অভ্যাসে, আনন্দে, অভিসারে…

No comments:

Post a Comment