শুক্কুরবার, বাবা, আমি
শুক্কুরবার রাত থেকেই আসলে মজা শুরু। বাবা সেদিন একটু দেরি করে ফেরে যদিও, কিন্তু মজা হয়। এম্নিতে রোজ বিকালে প্লে-গ্রাউন্ডে যাই। অনেক্ষন থাকি সেখানে। কিন্তু শুক্কুরবারে আগে আগে চলে আসি। যদিও সেদিনই বাবা দেরি করে বাড়ি ফিরে, তবুও। আমাদের বসার ঘরের জানলা দিয়ে তাকালে উঠোন পেরিয়ে একেবারে বাস স্টপ পর্যন্ত দেখা যায়। আমি ঘরে ফিরেই সেই জানলার ধারে বসে পড়ি। অন্যদিন বাড়ি এসে হাত ধোয়া, মুখ ধোয়া, ঘামে ভেজা কাপড় বদলানো কতো কিছু করতে হয়, কিন্তু শুক্কুরবারে সেসব নেই। আগে মা জোরাজুরি করতো, এখন আর করে না। জানে বাবা না আসলে শুক্কুরবারে সেসব কিছুই হবে না। আমি জানলার ধারে বসে বসে দেখি বাবা কখন আসে। বাবার দুহাত ভরে থাকে ব্যাগ, সারা সপ্তার বাজার সেখানে। অফিস শেষে বাজার করে, তারপর বাড়ি ফেরে। বাজারের ভারে বাবা নুয়ে পড়ে যেনো। কাঁধটা ঝুলে থাকে, মাথা নিচু। তবু বাবা একটু পর পর চোখ তুলে তাকাবে আমাদের জানলায়, দেখবে আমাকে দেখা যায় কীনা। এর আগে জানলার ধারে বসা থাকলেও ঠিক তখন আমি লুকিয়ে যাবো। জানালার পাশের দেয়ালে নিজের শরীরটা আড়াল করে শুধু চোখটা পর্দার ফাঁকে দিয়ে দেখছি বাবা হাঁটছে আর আমাকে দেখার চেস্টা করছে। কিযে মজা...