Posts

অক্টোবর ২০০৮

বনবাসে যাওয়া আর হয় না। বনবাসে যাওয়ার সাহস নেই। শেকড় বাড়ছে, শক্ত হচ্ছে। পিছুটান অনেক... মনপুকুরে ডুবে থাকতে শিখেছি সেই কবে। পেরিয়ে আসা কৈশোর থেকে শিখে গেছি ডুব দেয়ার সকল কৌশল। এখন সেই সময় এসেছে, ডুবে থাকার, নিঃশ্বাস বন্ধ করে নিজেকে গোপন করার। অক্টোবর চলে যাবে এ সপ্তাহেই। কি ভয়ঙ্কর সুরেলা মাস ছিলে তুমি প্রিয় অক্টোবর। দেখ আমি এখন আর তোমাকে মনে রাখি না। মাসের শুরু হয়েছে, একটা বোকা মানুষের জন্ম দিয়ে, সাথে একটা বন্ধুও ছিল। টুকু'দা, শুমি কাউকেই বলা হয়না শুভ জন্মদিন। আগের মতো ঘড়িতে আর রাত বারোটা বাজে না বুঝি? অক্টোবরের সকালেও অনেক কুয়াশা থাকে ঘাসের ডগায়। টুকু'দাকে ঘুম ভাঙাতে না গেলে তাকি আর দেখা হয়? শেষের আর মাঝের আটেও আছে জন্মদাগ। সেইসব সময়ে অক্টোবর আসলেই কেমন হয়ে যেতাম... আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে... স্বপনের চায়ের দোকানে বিনিময় হতো ভাব, ভালোবাসা। হাতিরাজের বিরিয়ানিও জুটেছিল মনে হয় কয়েকবার। কানিশাইল জল ও তরঙ্গে মেপে কুল পায়নি বন্ধুতার। বেনোজল ঢুকেছিল কবে মনে নাই আর। মুড়ি মুড়কির মতো ছড়িয়ে পড়লাম কবে সেটা বুঝতেই পারলাম না। বোধহীন হলাম তবে সকলেই? নাকি আমিই শুধু বিচ্ছিন্ন আজ রঙের উৎসব থেকে...

আলবাব'র সময় ০৪

ধেয়ে আসছে অশ্লিল আলোর ঝলকানি মৃত জোনাকে ভরে গেছে বড়গুলের মেঠোপথ বড়ো বেশি ম্লান চাঁদ সোডিয়ামের মতো হেপাটাইটিস আক্রান্ত, অসুস্থ দুরে, দুরে, আরও দুরে যতোটা গভীরে যাওয়া যায়, যাও আলবাব, বেঁচে থাকার মতো মধুময় আর কিছু হতে পারে না।

এমন চিঠি আর কেউ লিখবে না...

প্রিয় নজমুল আলবাব, আমার বয়সীরা সাধারণত কনিষ্ঠদের লেখা নিয়ে মাথা ঘামায় না। তাদের লেখা পড়ে না, পড়লেও স্বীকার করতে চায় না, করলেও প্রশংসায় তাদের শব্দের ঘাটতি পড়ে। ব্যতিক্রম হওয়ার জন্যে নয়, আমি সাম্প্রতিক লেখকদের জানতে চাই, তাদের ভাবনা বুঝতে চাই, তাদের কাছে শিখতেও চাই। আদৌ জানা-পরিচয় নেই, এমন অনেকের লেখা পড়ে ভালো লাগলে নিজের উদ্যোগে যোগাযোগ করেছি, এমন ঘটনা খুব বিরল নয়। আপনার লেখা এবং তার অন্তর্নিহিত শক্তি নিয়ে আমার মুগ্ধতা আছে, সে কথা প্রকাশ্যে এবং ব্যক্তিগতভাবেও জানিয়েছি। আপনার কাছে আরো অনেক গাঢ় ও গভীর রচনা পাবো আশা করি। কিন্তু খুব দুঃখের সঙ্গে একটি পুরনো প্রসঙ্গের অবতারণা না করে উপায় দেখছি না। আজকের টম-জেরি গল্পটি আমার যতোটা ভালো লেগেছে, ঠিক ততোটাই ব্যথিত করেছে এর অসংখ্য ভুল বানান ও অসতর্ক বাক্যনির্মাণ। আপনি মনঃক্ষূণ্ণ হলেও আমাকে বলতেই হবে, আমার প্রিয় লেখকের কাছে আমি এটা আদৌ আশা করি না। ব্যস্ত দৈনন্দিন জীবন, বয়স ইত্যাদি অজুহাত আসলে অচল। অবাংলাভাষী আবু সয়ীদ আইয়ুব বাংলা শিখেছিলেন চল্লিশ বছর বয়সে এবং শিখেছিলেন অনেক বাংলাভাষীকে শেখানোর মতো করে। চেক বংশোদ্ভুত লেখক মিলান কুন্ডেরা প্রথম জীবনে লি...