Posts

না কবিতা

আমি কবি হতে চেয়েছি সবসময়। কবিতায় যাপন করতে চেয়েছি জীবন। বাউল হতে চেয়েছি। নগ্ন পায়ে হেটে যেতে চেয়েছি খোলা প্রান্তরে, রাত আর চাঁদকে নিয়ে পাড়ি দিতে চেয়েছি আমার সারাটা জীবন। সেসব কিছুই হয় নি। কারন নিজের ভেতরের আমিকে আমার বাইরের আমি কখনই ছাড় দেয়নি। সংসার ভালো লাগে না আমার তবু গৃহেই বসবাস। এই বৈপরিত্ত অথবা ভণ্ডামী নিয়েই আমার নিত্যদিন। কবিতা লেখার এবং কবিতা যাপনে ব্যর্থ হলে মানুষটা আর মানুষ থাকে না। আর যে মাঝামাঝি আটকে থাকে সে একটা কিম্ভুতে পরিণত হয়। সম্ভবত আমিও একটা কিম্ভুত। জোর জবরদস্তি করে আমি প্রায়শঃ এটা সেটা লিখে ফেলি এবং পদ্য বলে ভান করি। সেসবে নেমে আসা কিছু পদ হয়তো থাকে, বাকিটা ইট-সিমেন্টের কারিকুরির মতো। কাগজে, কিংবা কম্পিউটারে মাঝে মাঝে একটা-দুটো লাইন কেমন করে যে আসে... আমি সেসবের সুরাহা করতে পারি না অনেক সময়। প্রবল আলস্য আমার, চেষ্টাও খুব বেশি করি না। টুকরো টাকরা কাগজ একসময় উড়ে যায়, হারিয়ে যায়। কিন্তু জিমেইলের ড্রাফ্ট কিংবা কম্পিউটারে হঠাৎ খোলা কোন ওয়ার্ড ফাইলে টোকে রাখা কিছু লাইন মাঝে মাঝে খুলে যায়। আমি সেসব দেখি, পড়ি, কিন্তু তাদের আর কোন গতি হয...

রেনুকা

শান্ত, স্নিগ্ধ, স্রোতময় জলধারা তুমি নীলাকাশ যেনো মিশেছে নতজানু হয়ে তোমার পায়। আমি মুগ্ধ কিশোরের মতো তোমারে দেখি, আমি তোমার কোমলে ভাসাই নিজেরে... আর বড় অসহায় লাগে, যখন দেখি তোমার ষোল আনার দখল নিয়েছে পাইক-পেয়াদাতে, আমি এক বোকালবাব, জলকাতর, ভালোবাসারও যার নাই অধিকার। তবু তুমি জেনে রাখো রেনুকা, তোমারে ভালোবাসবে না আর কেউ আমার মতো, আমি ছাড়া আর নাই কোন যোগ্য প্রেমিক তোমার... রেনুকা, জলবতী আমার, ভালোবাসতে দেবে?

সন্তাপ ০২

০৯.০৭.১২ প্রথম ঘন্টায় হিসেবে মিলেছে গত ঘন্টার কণ্ঠস্বর দ্বিতীয় দিনে বলেছি গতকাল, এভাবে প্রতিদিন পূর্ববর্তি দিনকে টেনে এনেছি … অষ্টম দিবসে এসে আর 'গত' বলতে পারি না বলতে হয় গত বৃহস্পতির আগের বৃহস্পতিবার! হায়, এত দ্রুত তুমি দুরে সরে যাও হায়, এত দ্রুত তুমি স্মৃতি হও! শূন্যতা কল লিস্ট থেকে তোমর নামটা উধাও শেষবার দেখেছি ১৩৪ টা মিস্ড কল ৩২ টা কল আর ডায়াল লিস্টে কিছুই নেই! হু, কিছুই নেই, আমি তোমাকে ফোন করিনি ইদানিংকালে, কোনদিনই না মনে হয়, ঘন্টায় ঘন্টায় উল্টোদিক থেকে কথা বলা হলে এপাশ থেকে কি সেরকম টান থাকে? থাকে না বোধয় ১৩৪ টা মিস্ড কল মানে কমপক্ষে তিরিশটা সকাল, বিশটা দুরের যাত্রা, কমপক্ষে বিশবার তোমাকে উপেক্ষা! সবকিছু মনে পড়ে না, মনে পড়বে না। শুধু শেষবার, জীবনের শেষবার, চলে যাবার ঠিক আগে আগে একেবারে স্বাভাবিক কণ্ঠে যখন বল্লে, ‘শরীরটা খারাপ লাগছে একটু আয়,’ এই কথাটা ভুলবো না। কল লিস্ট থেকে তোমার নাম মুছে গেছে, আরো অনেক লিস্ট থেকে কাটা পড়বে তোমার নাম, শুধু খুব গোপনে গভীরে আমার কানে বাজবে, শরীরটা খারাপ লাগছে, খারাপ লাগছে, খারাপ লাগছে… কি অপার...